• হোম > জাতীয় | বাংলাদেশ > নতুন বেতন স্কেলে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি আছে: জাহেদ উর রহমান

নতুন বেতন স্কেলে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি আছে: জাহেদ উর রহমান

  • মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬:৪৫
  • ১১

---

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়নের ফলে মানুষের হাতে অতিরিক্ত অর্থ আসায় মূল্যস্ফীতির ওপর কিছুটা চাপ তৈরি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তবে নতুন বেতন স্কেলে সরকারি কর্মচারীদের সবার বেতন দ্বিগুণ হয়ে যাবে—এমন ধারণা সঠিক নয় বলেও জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

বেতন বাড়লে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি থাকবে

নতুন বেতন স্কেল কার্যকর হলে মূল্যস্ফীতির ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, মানুষের আয় বা বেতন বাড়লে তাদের হাতে অতিরিক্ত অর্থ আসবে। এর ফলে মূল্যস্ফীতির ওপর কিছুটা প্রভাব পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে মূল্যস্ফীতি তুলনামূলকভাবে বেশি। একটি অর্থনীতিতে নির্দিষ্ট মাত্রার মূল্যস্ফীতি স্বাভাবিক হলেও ৫ থেকে ৬ শতাংশের মধ্যে থাকলে তা সাধারণভাবে সহনীয় পর্যায়ে থাকতে পারে। তবে বাংলাদেশে দীর্ঘ সময় ধরে মূল্যস্ফীতি দুই অঙ্কের ঘরে ছিল। বর্তমানে অবশ্য সেই হার কিছুটা কমেছে বলে জানান তিনি।

নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়নের পর অতিরিক্ত অর্থ মানুষের হাতে যাওয়ার কারণে মূল্যস্ফীতির সম্ভাব্য চাপ সামাল দিতে সরকারের পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংককেও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।

সবার বেতন দ্বিগুণ হবে না

নতুন বেতন স্কেলে মূল বেতন ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ার তথ্য সামনে আসায় সরকারি কর্মচারীদের সবার বেতন দ্বিগুণ হয়ে যাবে—এমন ধারণা ঠিক নয় বলে ব্যাখ্যা দিয়েছেন জাহেদ উর রহমান।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়ন না হওয়ায় অনেক সরকারি কর্মচারী নিয়মিত ইনক্রিমেন্ট পেতে পেতে বর্তমানে এমন পর্যায়ে পৌঁছেছেন, যেখানে তাদের বর্তমান বেতন নতুন স্কেলে প্রস্তাবিত বেতনের কাছাকাছি চলে গেছে।

ফলে নতুন বেতন স্কেলে কাগজে-কলমে মূল বেতন বৃদ্ধির হার যতটা দেখা যাচ্ছে, বাস্তবে অনেক কর্মচারীর হাতে অতিরিক্ত অর্থ যাওয়ার পরিমাণ ততটা হবে না।

সিনিয়র কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে পার্থক্য কম

জাহেদ উর রহমান বলেন, অনেক সিনিয়র কর্মকর্তা নিয়মিত ইনক্রিমেন্ট পাওয়ার কারণে নতুন বেতন স্কেলে তাদের নির্ধারিত বেতনের কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন স্কেলে বেতন ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির বিষয়টি দেখে সবার বর্তমান বেতন দ্বিগুণ হয়ে যাবে—এভাবে বিষয়টি দেখার সুযোগ নেই। কারণ, নিয়মিত ইনক্রিমেন্টের মাধ্যমে অনেক কর্মচারীর বর্তমান বেতন ইতোমধ্যে নতুন স্কেলের প্রস্তাবিত কাঠামোর কাছাকাছি পৌঁছেছে।

অর্থাৎ নতুন বেতন স্কেলের ঘোষিত বেতন কাঠামো এবং বাস্তবে একজন কর্মচারীর হাতে বাড়তি যে অর্থ যাবে—এই দুটি বিষয় এক নয়।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন

নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়নের ফলে একদিকে সরকারি কর্মচারীদের আয় ও ক্রয়ক্ষমতা বাড়তে পারে, অন্যদিকে বাজারে অতিরিক্ত অর্থের প্রবাহ মূল্যস্ফীতির ওপর কিছুটা চাপ তৈরি করতে পারে। এ বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই বেতন স্কেল বাস্তবায়নের পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, মানুষের হাতে অতিরিক্ত অর্থ যাওয়ার কারণে মূল্যস্ফীতির কিছুটা ঝুঁকি থাকবে। তাই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের নীতিগত উদ্যোগের পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

সব মিলিয়ে নতুন বেতন স্কেল সরকারি কর্মচারীদের আর্থিক সুবিধা বাড়ালেও এর প্রভাব যেন বাজারে অতিরিক্ত মূল্যচাপ তৈরি না করে, সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/16319 ,   Print Date & Time: Wednesday, 2 September 2026, 07:03:22 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh