• হোম > জাতীয় > দেশে সারের সংকট নেই, সমস্যা বিতরণে: তথ্য উপদেষ্টা

দেশে সারের সংকট নেই, সমস্যা বিতরণে: তথ্য উপদেষ্টা

  • মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩:২৩
  • ১২

---

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

দেশে সারের সামগ্রিক সরবরাহ বা মজুতে কোনো সংকট নেই বলে আবারও দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি জানিয়েছেন, বর্তমানে ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি—এই চার ধরনের সার মিলিয়ে দেশে প্রায় ১২ দশমিক ৬১ লাখ মেট্রিক টন মজুত রয়েছে। সরকারের হিসাবে, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এবার সারের মজুত কিছুটা বেশি।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে সরকারের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান তথ্য উপদেষ্টা।

জাহেদ উর রহমান বলেন, দেশের কয়েকটি এলাকায় সম্প্রতি সারের যে সমস্যা দেখা দিয়েছিল, সেটি সামগ্রিকভাবে সারের ঘাটতির কারণে নয়। মূল সমস্যা ছিল সার বিতরণ ব্যবস্থার কিছু পর্যায়ে।

তিনি বলেন, ‘আমি আবারও বলছি, সারের সংকট নেই। বিতরণ পর্যায়ে দুই-একটি জায়গায় সমস্যা হয়েছিল। খুব বেশি জায়গায় নয়।’

সারের মজুত নিয়ে সরকারের হিসাব

তথ্য উপদেষ্টার দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে সব ধরনের সার মিলিয়ে প্রায় ১২ দশমিক ৬১ লাখ মেট্রিক টন মজুত রয়েছে। এর মধ্যে ইউরিয়া, ট্রিপল সুপার ফসফেট (টিএসপি), ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি) এবং মিউরেট অব পটাশ (এমওপি) সার রয়েছে।

গত বছরের একই সময়ে দেশে সার মজুত ছিল প্রায় ১২ লাখ মেট্রিক টন। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় এবার সরকারের হাতে সারের মজুত কিছুটা বেশি রয়েছে।

এই পরিসংখ্যান তুলে ধরে সরকার বলছে, দেশে সামগ্রিকভাবে সারের সরবরাহ ঘাটতি বা মজুত সংকট তৈরি হয়নি। বরং কোনো কোনো এলাকায় কৃষকদের সার পেতে যে ভোগান্তি হয়েছে, তার পেছনে বিতরণ ব্যবস্থার স্থানীয় সমস্যা দায়ী।

কয়েকটি এলাকায় বাড়তি দামে সার বিক্রির অভিযোগ

সম্প্রতি দেশের কয়েকটি এলাকায় কৃষকদের নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার কেনা এবং চাহিদা অনুযায়ী সার না পাওয়ার অভিযোগ সামনে আসে। কোথাও কোথাও কৃষকদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও সার না পাওয়ার খবরও পাওয়া যায়।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, সমস্যাগুলো সামনে আসার পর সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। গত কয়েক দিনে আগের মতো বড় ধরনের সমস্যার খবর তার নজরে পড়েনি বলেও জানান তিনি।

তার ভাষায়, ‘মজুদের সংকট নয়। বিতরণ পর্যায়ে দুই-একটি জায়গায় কিছু সমস্যা হয়েছিল। আমরা আশা করছি, সেটাও ঠিক হয়ে যাবে।’

বিতরণ ব্যবস্থার ওপর নজর সরকারের

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, পর্যাপ্ত সার মজুত থাকার পরও কৃষকের কাছে সময়মতো সার পৌঁছানো না গেলে উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। বিশেষ করে চাষাবাদের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে স্থানীয় পর্যায়ে সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো ধরনের বিঘ্ন কৃষকদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে।

এ কারণে সার মজুতের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে সঠিকভাবে সার বিতরণ নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে সরকার।

তথ্য উপদেষ্টার বক্তব্য অনুযায়ী, দেশের সামগ্রিক সার সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে এবং স্থানীয় পর্যায়ে যে বিচ্ছিন্ন সমস্যা তৈরি হয়েছিল, তা সমাধানে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সরকারের হিসাবে, চলতি সময়ে সার মজুত গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বেশি থাকায় জাতীয় পর্যায়ে সারের সংকট নিয়ে উদ্বেগের কারণ নেই। তবে কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী নির্ধারিত দামে সার সরবরাহ নিশ্চিত করাই এখন বিতরণ ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/16267 ,   Print Date & Time: Wednesday, 2 September 2026, 07:59:47 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh