
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে নাগরিকদের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ও বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন। এর অংশ হিসেবে চালু করা হয়েছে ‘বর্জ্যের বিনিময়ে বাজার’ কর্মসূচি। এই উদ্যোগের আওতায় নাগরিকরা বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য জমা দিয়ে বিনিময়ে চাল, ডাল, তেল, লবণ, আলু, টিস্যুসহ প্রয়োজনীয় নিত্যপণ্য নিতে পারবেন।
সোমবার (৩১ আগস্ট) রাজধানীর ৫৫ নম্বর ওয়ার্ডের হাজারীবাগ বস্তি-সংলগ্ন মাঠে কর্মসূচিটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধন করেন ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
কর্মসূচির উদ্বোধনের পর স্থানীয় বাসিন্দারা বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য জমা দেন। পরে অস্থায়ী স্টল থেকে বর্জ্যের বিনিময়ে প্রয়োজনীয় খাদ্য ও নিত্যপণ্য সংগ্রহ করেন তারা। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের প্রয়োজনীয় পণ্য পাওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনাতেও নাগরিক অংশগ্রহণ বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
পরিচ্ছন্ন নগর গড়তে নাগরিক অংশগ্রহণ জরুরি
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তুলতে নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। ‘বর্জ্যের বিনিময়ে বাজার’ কর্মসূচি নাগরিকদের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে যুক্ত করার একটি কার্যকর মডেল হতে পারে।
তিনি বলেন, প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য ড্রেন, নালা ও নর্দমায় ফেলার কারণে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হয়। এর ফলে নগরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য জমা দেওয়ার অভ্যাস গড়ে উঠলে একদিকে জলাবদ্ধতা কমবে, অন্যদিকে পরিবেশও সুরক্ষিত থাকবে।
প্রতিটি ওয়ার্ডে স্থায়ী স্টল নির্মাণের পরিকল্পনা
কর্মসূচিটি শুধু একটি এলাকায় সীমাবদ্ধ না রেখে ধীরে ধীরে পুরো নগরে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে ডিএসসিসি।
ডিএসসিসি প্রশাসক জানান, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে গুলিস্তানে একটি স্থায়ী স্টল নির্মাণ করা হবে। এরপর আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে ডিএসসিসির প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে স্থায়ী স্টল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এর পাশাপাশি সুবিধাজনক অন্তর্বর্তীকালীন বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্রের (এসটিএস) আশপাশে পথশিশুদের জন্য নতুন একটি উদ্যোগ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে চেয়ার-টেবিল ও বইয়ের ব্যবস্থা করে ‘বই পড়ার বিনিময়ে খাবার’ কর্মসূচি চালুর কথা ভাবা হচ্ছে।
সাহায্য নয়, পরিচ্ছন্নতার অংশীদার করার উদ্যোগ
বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক জামাল উদ্দিন বলেন, প্রান্তিক মানুষকে শুধু সহায়তা দেওয়ার পরিবর্তে তাদের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের অংশীদার করাই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
তিনি জানান, গত দুই বছরে প্লাস্টিক বর্জ্য বিক্রি করে প্রায় ১ কোটি টাকা আয় করেছে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন। সেই অর্থ দিয়ে প্রায় ৪ লাখ মানুষকে খাবার দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
তার মতে, বর্জ্যকে শুধু আবর্জনা হিসেবে না দেখে পুনর্ব্যবহারযোগ্য সম্পদ হিসেবে কাজে লাগানো গেলে একই সঙ্গে পরিবেশ রক্ষা এবং মানুষের কল্যাণে ভূমিকা রাখা সম্ভব।
এক বছরে ১ লাখ কেজি বর্জ্য সংগ্রহের লক্ষ্য
ডিএসসিসি ও বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে আগামী এক বছরে ১০০টি ভ্রাম্যমাণ ক্যাম্পেইন পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে প্রায় ১ লাখ কেজি বর্জ্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এই কর্মসূচির মাধ্যমে নগরের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে থাকা প্লাস্টিক ও অন্যান্য বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে সংগ্রহের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির চেষ্টা করা হবে।
বিশেষ করে নগরের বস্তি ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে এ কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত করা গেলে পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. মাহবুবুর রহমান তালুকদার, বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক জামাল উদ্দিনসহ সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবকেরা উপস্থিত ছিলেন।
নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নাগরিকদের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষা, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং প্রান্তিক মানুষের সহায়তা—এই তিনটি ক্ষেত্রেই ইতিবাচক পরিবর্তন আনার প্রত্যাশা করছে ডিএসসিসি ও বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন।