• হোম > লাইফ স্টাইল > কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে পানি, আঁশ ও ইসবগুলের ভূমিকা

কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে পানি, আঁশ ও ইসবগুলের ভূমিকা

  • সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬, ১৬:৩১
  • ২৫

---

 

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

কোষ্ঠকাঠিন্য বা প্রচলিত ভাষায় ‘কষা’ খুবই পরিচিত একটি শারীরিক সমস্যা। অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত পানি না খাওয়া, শারীরিক পরিশ্রমের অভাবসহ বিভিন্ন কারণে এ সমস্যা দেখা দিতে পারে। কোষ্ঠকাঠিন্য হলে মল শক্ত ও শুকনো হয়ে যায়। ফলে মলত্যাগের সময় ব্যথা, চাপ বা অস্বস্তি অনুভূত হতে পারে।

অনেকের ক্ষেত্রে কোষ্ঠকাঠিন্যের সঙ্গে পেট ফাঁপা, পেট ভার লাগা, ক্ষুধামন্দা এবং পায়ুপথে জ্বালাপোড়ার মতো সমস্যাও দেখা দেয়। দৈনন্দিন জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন আনলে অনেক সময় এ সমস্যা কমানো সম্ভব।

কষা নরম করতে পর্যাপ্ত পানি পান

শরীরে পানির ঘাটতি হলে মল আরও শক্ত হয়ে কোষ্ঠকাঠিন্য বাড়তে পারে। তাই প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করার অভ্যাস করা জরুরি। শুধু পানি নয়, পানিসমৃদ্ধ ফল ও শাকসবজিও খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।

তবে শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী পানি পান করাই ভালো। যাদের চিকিৎসকের পরামর্শে পানি গ্রহণে সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসরণ করা উচিত।

খাবারে বাড়ান আঁশ

কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত আঁশ বা ফাইবার রাখা গুরুত্বপূর্ণ। আঁশ মলকে নরম রাখতে এবং অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়তা করতে পারে।

লাল চাল, লাল আটা, ডাল, বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি, বাদাম ও চিয়া সিডের মতো আঁশযুক্ত খাবার নিয়মিত খাবারের তালিকায় রাখা যেতে পারে। তবে হঠাৎ করে অতিরিক্ত আঁশ খাওয়া শুরু না করে ধীরে ধীরে পরিমাণ বাড়ানো ভালো। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান করাও জরুরি।

নিয়মিত হাঁটা ও ব্যায়াম

শারীরিক নিষ্ক্রিয়তাও কোষ্ঠকাঠিন্যের অন্যতম কারণ হতে পারে। দীর্ঘ সময় একটানা বসে থাকা এড়িয়ে প্রতিদিন কিছুটা হাঁটা বা হালকা ব্যায়ামের অভ্যাস করা যেতে পারে।

নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম হজমপ্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে। বিশেষ করে যারা দিনের বেশির ভাগ সময় বসে কাজ করেন, তাদের নিয়মিত বিরতি নিয়ে হাঁটাচলা করা উপকারী হতে পারে।

ইসবগুল খেতে পারেন

কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে ইসবগুলের ভুসি অনেকের ক্ষেত্রে উপকারী হতে পারে। ইসবগুলে থাকা দ্রবণীয় আঁশ মলের পরিমাণ বাড়াতে এবং মল নরম করতে সহায়তা করতে পারে।

তবে ইসবগুল খাওয়ার সময় পর্যাপ্ত পানি পান করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পানি কম পান করলে উল্টো অস্বস্তি বা কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা বাড়তে পারে। তাই ইসবগুল খাওয়ার আগে প্যাকেটের নির্দেশনা মেনে চলা এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

মলত্যাগের চাপ আটকে রাখবেন না

মলত্যাগের চাপ এলে তা দীর্ঘ সময় আটকে রাখা উচিত নয়। নিয়মিত মলত্যাগের চাপ চেপে রাখার অভ্যাস থাকলে কোষ্ঠকাঠিন্যের প্রবণতা বাড়তে পারে।

তাই প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে টয়লেটে যাওয়ার অভ্যাস তৈরি করা এবং মলত্যাগের জন্য পর্যাপ্ত সময় নেওয়া ভালো। অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ করাও এড়িয়ে চলা উচিত।

মানসিক চাপ কমানোর চেষ্টা করুন

অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপ অনেকের ক্ষেত্রে হজমপ্রক্রিয়া ও অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের পাশাপাশি মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।

পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত খাবার গ্রহণ, শারীরিক পরিশ্রম এবং অবসর সময়ে হাঁটাহাঁটি বা পছন্দের কাজে সময় দেওয়ার অভ্যাস উপকারী হতে পারে।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন

সাধারণ কিছু অভ্যাস পরিবর্তন করেও যদি দীর্ঘদিন কোষ্ঠকাঠিন্য না কমে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষ করে মলের সঙ্গে রক্ত গেলে, তীব্র বা দীর্ঘস্থায়ী পেটব্যথা হলে, অকারণে ওজন কমতে থাকলে কিংবা হঠাৎ দীর্ঘস্থায়ী মলত্যাগের অভ্যাসে পরিবর্তন দেখা দিলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়।

কোষ্ঠকাঠিন্য অনেক সময় সাধারণ জীবনযাপনজনিত কারণে হলেও দীর্ঘস্থায়ী বা অস্বাভাবিক উপসর্গ থাকলে এর পেছনে অন্য কোনো শারীরিক কারণ রয়েছে কি না, তা চিকিৎসকের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/16173 ,   Print Date & Time: Thursday, 3 September 2026, 08:04:04 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh