
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
সীমান্ত রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যদের কাজের প্রশংসা করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে সীমান্তে চোরাচালান, মাদকপাচার, পুশ ইন ও সীমান্ত হত্যা বন্ধে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে বাহিনীটির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (৩১ আগস্ট) বঙ্গভবনে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।
সাক্ষাৎকালে বিজিবি মহাপরিচালক রাষ্ট্রপতিকে বাহিনীর সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করেন। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি আরও জোরদার করতে অত্যাধুনিক ড্রোন ও আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজনের বিভিন্ন উদ্যোগের বিষয়েও রাষ্ট্রপতিকে জানান তিনি।
রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের সীমান্ত সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি চোরাচালান, মাদক ও মানবপাচার প্রতিরোধে বিজিবির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সীমান্তে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বাহিনীকে আরও সতর্ক ও কার্যকর ভূমিকা পালনের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
সীমান্ত নজরদারিতে আধুনিক প্রযুক্তির উদ্যোগ
সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়াতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে বিজিবি। এর অংশ হিসেবে আধুনিক ড্রোনসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি বাহিনীর কার্যক্রমে যুক্ত করার পরিকল্পনা সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন বিজিবি মহাপরিচালক।
রাষ্ট্রপতি সীমান্ত সুরক্ষায় অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সংযোজনে বিজিবির উদ্যোগের প্রশংসা করেন। পাশাপাশি এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নে রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়।
বর্তমানে সীমান্তের দুর্গম ও বিস্তৃত এলাকায় নজরদারি কার্যক্রম পরিচালনা বিজিবির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হলে দুর্গম এলাকাগুলোতে নজরদারি জোরদার এবং সীমান্ত অপরাধ দ্রুত শনাক্ত করার সক্ষমতা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
চোরাচালান ও মাদক প্রতিরোধে গুরুত্ব
রাষ্ট্রপতি সীমান্তে চোরাচালান ও মাদকপাচার বন্ধে বিজিবির ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি মানবপাচার প্রতিরোধ এবং সীমান্তে পুশ ইন ও হত্যা বন্ধে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
দেশের নিরাপত্তা ও সীমান্ত এলাকার মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নিশ্চিত করতে সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় কঠোর নজরদারির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার মধ্যে সমন্বয় জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসে।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সচিবসহ বঙ্গভবনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিজিবি মহাপরিচালকের এ সৌজন্য সাক্ষাতে সীমান্ত নিরাপত্তা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সীমান্ত অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বাহিনীর সক্ষমতা আরও বাড়ানোর বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।