
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত বহুল আলোচিত ‘মক্কা প্যাক্ট’-এ বাংলাদেশের যুক্ত হওয়ার আগ্রহকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তবে এ ধরনের আন্তর্জাতিক চুক্তিতে যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি বজায় রাখার পাশাপাশি জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।
সোমবার (৩১ আগস্ট) ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফিরে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিআইপি টার্মিনালে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় মক্কা প্যাক্ট নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন আসিফ মাহমুদ।
তিনি বলেন, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে যে চুক্তি হয়েছে, তাতে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়ার বিষয়ে সরকারের আগ্রহকে তারা ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তবে চুক্তিটি বাংলাদেশের জন্য কতটা ফলপ্রসূ হবে, সেটি যাচাই-বাছাই করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।
আসিফ মাহমুদ বলেন, “তিনটি দেশের মধ্যে যে চুক্তিটি হয়েছে, সেখানে বাংলাদেশের যোগ দেওয়ার যে ইচ্ছা সরকারের আছে, সেটাকে আমরা ইতিবাচকভাবেই দেখি। আমরা মনে করি, এটি যদি বাংলাদেশের জন্য একটি ফলপ্রসূ চুক্তি হয়, তবে তা ভালো।”
চুক্তির সুবিধা-অসুবিধা পর্যালোচনা
মক্কা প্যাক্টে বাংলাদেশের সম্ভাব্য যুক্ত হওয়ার বিষয়ে বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলেও জানান এনসিপির এই মুখপাত্র। তার ভাষ্য অনুযায়ী, চুক্তিটির সম্ভাব্য সুবিধা ও অসুবিধা নিয়ে তারা নিজেদের পর্যায় থেকে পর্যালোচনা করছেন।
একই সঙ্গে চুক্তিতে থাকা সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কসহ সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক অংশীদারদের সঙ্গেও আলোচনা করা হচ্ছে। বাংলাদেশের জন্য এই চুক্তির অর্থনৈতিক, কূটনৈতিক ও কৌশলগত প্রভাব কী হতে পারে, তা বিবেচনায় নিয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
আসিফ মাহমুদের বক্তব্যে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রচলিত ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি মনে করেন, কোনো একটি নির্দিষ্ট বলয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করতে গিয়ে অন্য দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যমান সম্পর্ক যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
‘কোনো নির্দিষ্ট বলয়ে না গিয়ে সম্পর্কের দরজা খোলা রাখতে হবে’
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির ঐতিহাসিক অবস্থান তুলে ধরে আসিফ মাহমুদ বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশ কোনো নির্দিষ্ট শক্তির বলয়ে প্রবেশ করে সামরিক বা বাণিজ্যিক বোঝাপড়ায় যায়নি। ভবিষ্যতেও সব দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার সুযোগ উন্মুক্ত রেখে আন্তর্জাতিক চুক্তিতে যাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর থেকেই কারো জন্য কোনো নির্দিষ্ট বলয়ে ঢুকে গিয়ে কখনোই কোনো সামরিক বা বাণিজ্যিক বোঝাপড়ায় যায়নি। আমাদের সবার সাথে সম্পর্ক রাখার যে দরজা, সেটা খোলা রেখেই যেকোনো সামরিক বা বাণিজ্যিক চুক্তিতে যাওয়া প্রয়োজন।”
তার মতে, বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ ও কূটনৈতিক ভারসাম্যকে সামনে রেখেই এ ধরনের চুক্তির মূল্যায়ন করতে হবে। একটি চুক্তি কোনো একটি ক্ষেত্রে সুবিধা দিলেও এর ফলে অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক বা কূটনৈতিক অংশীদারের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব তৈরি হচ্ছে কি না, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।
বাণিজ্যিক অংশীদারদের সঙ্গে সমান সুযোগের ওপর জোর
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও ভারসাম্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অন্যান্য বাণিজ্যিক অংশীদারদের সঙ্গে সমমানের পরিবেশ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বজায় রাখা প্রয়োজন।
তার ভাষায়, সব ধরনের উদ্বেগ ও সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে যদি বাংলাদেশ কোনো ফলপ্রসূ সম্পর্কের দিকে এগোতে পারে, তাহলে সেটিকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখা হবে।
মক্কা প্যাক্টে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি। ফলে চুক্তিটির বিস্তারিত শর্ত, বাংলাদেশের সম্ভাব্য সুবিধা-অসুবিধা এবং এর কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক প্রভাব পর্যালোচনার পরই পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আসিফ মাহমুদের বক্তব্যে মূলত বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি এবং বহুমুখী আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়টিই গুরুত্ব পেয়েছে। তার মতে, নতুন কোনো সামরিক বা বাণিজ্যিক অংশীদারত্বে যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে সম্ভাবনা যেমন বিবেচনায় নিতে হবে, তেমনি এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবও সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়ন করতে হবে।