
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
একনজরে তহবিল বিষয় তথ্য
হিমায়িত খাদ্য খাতে ২ হাজার কোটি টাকার তহবিল
তহবিলের পরিমাণ ২,০০০ কোটি টাকা
অর্থের উৎস বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব তহবিল
তহবিলের মেয়াদ ৩ বছর
সুবিধাভোগী ব্যাংক দেশের সব তফসিলি ব্যাংক
গ্রাহক পর্যায়ের সুদ সর্বোচ্চ ৭%
ব্যাংকের তহবিল গ্রহণের সুদ ৪%
ঋণ-মূলধন অনুপাত সর্বোচ্চ ৭০:৩০
নতুন কারখানার ঋণ সর্বোচ্চ ৩০ কোটি টাকা
বিদ্যমান কারখানার ঋণ সর্বোচ্চ ২০ কোটি টাকা
সৌরবিদ্যুতে অতিরিক্ত ঋণ সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা
রপ্তানিমুখী হিমায়িত খাদ্য খাতে অর্থের জোগান বাড়াতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।এ খাতের জন্য দুই হাজার কোটি টাকার প্রাক্-অর্থায়ন তহবিল গঠন করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব অর্থায়নে গঠিত তহবিলটির মেয়াদ হবে তিন বছর। তফসিলি ব্যাংকগুলো চুক্তি সম্পন্ন করে এই তহবিল ব্যবহারের সুযোগ পাবে।
রবিবার জারি করা সার্কুলারে এসব নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
তহবিলের আওতায় চিংড়ি, মাছ, মৎস্যজাত পণ্য ও অন্যান্য খাদ্য থাকছে।রপ্তানির জন্য এসব পণ্যের উৎপাদন, সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাতকরণে ঋণ দেওয়া যাবে।কৃষকদের বাণিজ্যিক চাষ এবং কাঁচামাল কেনার খরচও এতে অন্তর্ভুক্ত।কারখানা সম্প্রসারণ, আধুনিকায়ন এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কেনায় অর্থায়নের সুযোগ থাকবে।এ ছাড়া হিমাগার নির্মাণ ও বন্ধ কারখানা চালুর ক্ষেত্রেও ঋণ মিলবে।
উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংরক্ষণে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনেও অর্থায়ন করা যাবে।পরিবেশগত ক্ষতি প্রশমনের প্রয়োজনীয় ব্যয়ও তহবিলের আওতায় নেওয়া হয়েছে।চলতি মূলধনের সংকটে বন্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিতে হবে।তবে খেলাপি ঋণগ্রহীতা কোনোভাবেই এই তহবিলের সুবিধা পাবেন না।
একই খাতে অন্য সরকারি তহবিলের ঋণ চললে সুবিধা পাওয়া যাবে না।
নতুন কারখানা স্থাপনে সর্বোচ্চ সাত বছর মেয়াদি ঋণের সুযোগ রাখা হয়েছে।এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ এক বছর গ্রেস পিরিয়ড সুবিধা পাওয়া যাবে।বিদ্যমান কারখানা সম্প্রসারণে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর মেয়াদি ঋণ দেওয়া যাবে।চলতি মূলধনের ঋণের মেয়াদ হবে এক বছর পর্যন্ত।ব্যবসা সন্তোষজনক থাকলে সেই ঋণ একবার নবায়ন করা যাবে।
গ্রাহক পর্যায়ে ঋণের সর্বোচ্চ সুদহার নির্ধারণ করা হয়েছে সাত শতাংশ।ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে চার শতাংশ সুদে প্রাক্-অর্থায়ন নেবে।নতুন কারখানার জন্য সর্বোচ্চ ত্রিশ কোটি টাকা মেয়াদি ঋণ পাওয়া যাবে।বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানের সম্প্রসারণে সর্বোচ্চ বিশ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া যাবে। সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে অতিরিক্ত পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণের সুযোগ থাকবে।
ঋণ বিতরণের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে গ্রাহকের ঝুঁকি যাচাই করতে হবে। প্রয়োজনীয় অনুমোদন, আর্থিক প্রতিবেদন ও সিআইবি প্রতিবেদন যাচাই করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক অর্থ ছাড়ার আগে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পরীক্ষা করবে। ঋণ অনুমোদনের পর ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে আবেদন করতে হবে। চলতি মূলধন ঋণ নবায়নে মেয়াদ শেষের ৩০ দিন আগে আবেদন প্রয়োজন।
তহবিলের অর্থ ব্যবহারে নিয়মিত নজরদারির দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ওপর থাকবে। ব্যাংককে প্রতি তিন মাসে কারখানা বা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করতে হবে। ঋণ যথাসময়ে পরিশোধ না হলে প্রচলিত নিয়মে শ্রেণিকরণ করতে হবে।
শর্ত ভঙ্গ হলে সংশ্লিষ্ট অর্থ অতিরিক্ত সুদসহ আদায় করা হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকও প্রয়োজন অনুযায়ী সরেজমিনে পরিদর্শন করতে পারবে।
তহবিলের সুবিধাভোগী প্রতিষ্ঠানকে বিদ্যুৎ চাহিদার ১৫ শতাংশ সৌরবিদ্যুৎ থেকে নিতে হবে।এ জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগামী দুই বছরের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।শ্রমিকদের পেশাগত স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতেও প্রতিষ্ঠানকে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। বিশেষ শর্ত পূরণে ব্যর্থ প্রতিষ্ঠান ভবিষ্যতে এই সুবিধা পাবে না। সার্কুলারটি অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
চিংড়ি ও মাছনির্ভর রপ্তানিতে অর্থায়নের সুযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যেই উদ্যোগটি নেওয়া হয়েছে।এর মাধ্যমে উৎপাদনথেকে প্রক্রিয়াজাতকরণ পর্যন্ত অর্থায়নের পরিধি বাড়বে।একই সঙ্গে কোল্ড স্টোরেজ ও বন্ধ কারখানায় বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে।