• হোম > বিদেশ > মুসলিম দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান মোজতবা খামেনির

মুসলিম দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান মোজতবা খামেনির

  • রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১৮:১৫
  • ১৮

---

 

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

বিশ্বজুড়ে মুসলিম সমাজকে বিভক্ত করে নিজেদের প্রভাব ও কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে—এমন অভিযোগ তুলে সব ইসলামী দেশকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি।

এক লিখিত বার্তায় তিনি মুসলিম বিশ্বের বিভাজনের জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে দায়ী করেন। তার দাবি, বাইরের শক্তিগুলো মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে ভাষা, জাতি, সামাজিক কাঠামো ও রাজনৈতিক মতপার্থক্যকে কাজে লাগিয়ে বিভেদ সৃষ্টি করছে। এর মাধ্যমে মুসলিম দেশগুলোকে দুর্বল করে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিভেদের সুযোগে ফিলিস্তিনে নির্যাতন: খামেনি

মুসলিমদের মধ্যকার বিভেদ ও মতপার্থক্যের সুযোগ নিয়েই ফিলিস্তিনিদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন চালানো সম্ভব হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন মোজতবা খামেনি।

তিনি বলেন, মুসলিম বিশ্ব যদি শক্ত অবস্থান নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলত, তাহলে ফিলিস্তিনিদের ওপর এ ধরনের নির্যাতন চালানো সম্ভব হতো না।

ফিলিস্তিন পরিস্থিতির জন্য মুসলিম দেশগুলোর বিভক্ত অবস্থানকে দায়ী করে তিনি বলেন, পারস্পরিক মতপার্থক্য ও বিরোধকে পাশ কাটিয়ে মুসলিম দেশগুলোর নিজেদের মধ্যে ঐক্য জোরদার করা প্রয়োজন।

‘মুসলিম বিশ্ব এক হলে কেউ সম্পদ দখলের সাহস পেত না’

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা। তার বক্তব্য, পুরো মুসলিম সমাজ যদি ইসলামের পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ হতে পারে, তাহলে হাজার হাজার মাইল দূরের কোনো শক্তি মধ্যপ্রাচ্যের সম্পদ ও স্বার্থের ওপর আধিপত্য বিস্তারের সাহস পেত না।

তিনি মুসলিম দেশগুলোর রাষ্ট্রপ্রধানদের নিজেদের মধ্যকার বিরোধ ও বিভেদ থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বাইরের শক্তির উদ্দেশ্য ও কর্মকাণ্ডকে গভীরভাবে মূল্যায়ন করার পরামর্শ দেন।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলকে ‘মূল শত্রু’ উল্লেখ

মোজতবা খামেনি তার বার্তায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে মুসলিম বিশ্বের প্রধান শত্রু হিসেবে উল্লেখ করেন। তার দাবি, এসব শক্তি শুধু ইরান বা মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের বিরুদ্ধে অবস্থান করছে না; বরং তাদের কর্মকাণ্ডের প্রভাব পুরো মুসলিম বিশ্বের জন্য ক্ষতিকর।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শাসকগোষ্ঠী এবং ইসরাইলি সরকার মুসলিমদের প্রকৃত বন্ধু হতে পারে না। মুসলিম দেশগুলোর উচিত তাদের নীতিগত অবস্থান ও কর্মকাণ্ড বিবেচনা করে নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় সতর্ক থাকা।

বিভেদ ভুলে ঐক্যের আহ্বান

মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে হিংসা, বিদ্বেষ ও পারস্পরিক বিরোধ ভুলে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে মোজতবা খামেনি বলেন, সময় থাকতে মুসলিম দেশগুলোকে নিজেদের মধ্যে ঐক্য ও সহযোগিতা বাড়াতে হবে।

তার মতে, ভাষা, জাতি, রাজনৈতিক মতাদর্শ কিংবা সামাজিক পার্থক্য থাকলেও বৃহত্তর স্বার্থে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতার জায়গা তৈরি করা সম্ভব।

ফিলিস্তিনসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংকট মোকাবিলায় মুসলিম বিশ্বের সম্মিলিত অবস্থান প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে বাইরের শক্তির প্রভাব ও হস্তক্ষেপ মোকাবিলায় পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

মোজতবা খামেনির এই আহ্বান এমন এক সময়ে এসেছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলমান সংঘাত, ফিলিস্তিন সংকট এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য ও ভিন্ন ভিন্ন কূটনৈতিক অবস্থান রয়েছে। তার বক্তব্যে এসব বিভাজন কাটিয়ে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপরই জোর দেওয়া হয়েছে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/16119 ,   Print Date & Time: Monday, 31 August 2026, 06:05:59 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh