
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল চালুর প্রস্তুতি হিসেবে পরিচালিত অপারেশনাল রেডিনেস অ্যান্ড এয়ারপোর্ট ট্রান্সফার (ওআরএটি) কার্যক্রমের প্রায় ৫৭ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। অবশিষ্ট কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
রোববার (৩০ আগস্ট) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে মহিলা আসন-১৭-এর সংসদ সদস্য সুলতানা আহমেদের এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে এ তথ্য জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে মন্ত্রীর লিখিত জবাব টেবিলে উপস্থাপন করা হয়।
থার্ড টার্মিনাল চালুর প্রস্তুতি
মন্ত্রী জানান, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালুর লক্ষ্যে সরকার ও বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
এরই মধ্যে ওআরএটির প্রায় ৫৭ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। অবশিষ্ট কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
নতুন টার্মিনাল চালু হলে বিমানবন্দরের যাত্রীসেবা ও পরিচালন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে প্রত্যাশা রয়েছে। তবে পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যক্রম শুরু করার আগে নতুন স্থাপনার বিভিন্ন ব্যবস্থাপনা, সরঞ্জাম, সেবা ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম প্রস্তুত করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
এ কারণে ওআরএটি কার্যক্রমকে থার্ড টার্মিনাল চালুর প্রস্তুতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ব্যাগেজ ও গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং নিয়ে ১,০৪৮ অভিযোগ
জাতীয় সংসদে দেওয়া তথ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ব্যাগেজ ও গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবার অভিযোগের বিষয়টিও উঠে এসেছে।
মন্ত্রী জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিমানবন্দরের ব্যাগেজ ও গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং নিয়ে মোট ১ হাজার ৪৮টি অভিযোগ পাওয়া গেছে। বেবিচকের ওয়েবসাইট ও হটলাইন নম্বরে এসব অভিযোগ করা হয়।
এর মধ্যে ১ হাজার ৪০টি অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হয়েছে। ফলে অভিযোগ নিষ্পত্তির হার দাঁড়িয়েছে ৯৯ দশমিক ২৩ শতাংশ।
অভিযোগ গ্রহণ ও দ্রুত নিষ্পত্তির এই ব্যবস্থা যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে ব্যাগেজ হারানো, দেরি হওয়া কিংবা গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং-সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যায় যাত্রীদের অভিযোগ জানানোর সুযোগ থাকায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়গুলো দ্রুত পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বিমান বাংলাদেশকে নিয়ে ২,১৬০ অভিযোগ
সংসদে দেওয়া তথ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিরুদ্ধে পাওয়া অভিযোগের সংখ্যাও তুলে ধরেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী।
তিনি জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স-সংক্রান্ত মোট ২ হাজার ১৬০টি অভিযোগ পাওয়া যায়। এর মধ্যে ২ হাজার ৪০টি অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হয়েছে।
ব্যাগেজ ও গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং-সংক্রান্ত এসব অভিযোগ নিষ্পত্তির হার প্রায় ৯৪ শতাংশ বলে জানান তিনি।
যাত্রীদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির পাশাপাশি বিমানবন্দর ও বিমান সংস্থার সেবার মান আরও উন্নত করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীদের অভিজ্ঞতার বড় একটি অংশ নির্ভর করে ব্যাগেজ ব্যবস্থাপনা, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং এবং সময়মতো সেবা পাওয়ার ওপর।
পর্যটন করপোরেশনের সাত ইউনিটে ধারাবাহিক লোকসান
এদিকে জাতীয় সংসদে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের আর্থিক পরিস্থিতি সম্পর্কেও তথ্য দিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি জানান, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের ৫৪টি বাণিজ্যিক স্থাপনার মধ্যে সাতটি ইউনিট ক্রমাগত লোকসান করছে।
লোকসানে থাকা ইউনিটগুলোর মধ্যে রয়েছে—
- মেহেরপুরের মুজিবনগর পর্যটন মোটেল
- সিলেটের জাফলং পর্যটন মোটেল
- মৌলভীবাজারের মাধবকুন্ড রেস্তোরাঁ
- যশোরের কেশবপুরের সাগরদাঁড়ি পর্যটন কেন্দ্র
- নেত্রকোণার মোহনগঞ্জের আদর্শনগর পর্যটন কেন্দ্র
- নারায়ণগঞ্জের বারদী পর্যটন কেন্দ্র
- সিরাজগঞ্জের কাজীপুরের মেঘাই পর্যটন কেন্দ্র
দেশের বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় থাকা এসব স্থাপনা পর্যটকদের সেবা দেওয়ার পাশাপাশি পর্যটন অবকাঠামোর অংশ হিসেবে কাজ করে। তবে ধারাবাহিক লোকসানে থাকা ইউনিটগুলোর পরিচালন ব্যবস্থা, পর্যটক আকর্ষণ এবং আয় বৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন রয়েছে।
পর্যটন করপোরেশনের আয় বাজেট ২১৬.৫৭ কোটি টাকা
মন্ত্রী জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের মোট আয় বা বিক্রয়ের বাজেট ২১৬ দশমিক ৫৭ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
একদিকে দেশের পর্যটন খাতকে আরও সম্প্রসারণের চেষ্টা চলছে, অন্যদিকে করপোরেশনের কিছু বাণিজ্যিক স্থাপনা ধারাবাহিক লোকসানের মুখে রয়েছে। ফলে আয় বাড়ানোর পাশাপাশি লোকসানি ইউনিটগুলোর কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সব মিলিয়ে জাতীয় সংসদে দেওয়া মন্ত্রীর বক্তব্যে একদিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল চালুর প্রস্তুতির অগ্রগতি, অন্যদিকে বিমানবন্দর ও বিমান সংক্রান্ত অভিযোগ নিষ্পত্তির চিত্র এবং পর্যটন করপোরেশনের লোকসানি ইউনিটগুলোর তথ্য উঠে এসেছে। থার্ড টার্মিনালের ওআরএটি কার্যক্রমের ৫৭ শতাংশ শেষ হওয়ায় প্রকল্পটি চালুর প্রস্তুতিও ধীরে ধীরে আরও এগিয়ে যাচ্ছে।