• হোম > রাজনীতি > জামায়াতের লংমার্চে আওয়ামী লীগ ঢোকার শঙ্কা রাশেদের

জামায়াতের লংমার্চে আওয়ামী লীগ ঢোকার শঙ্কা রাশেদের

  • রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১৫:০৭
  • ১২

---

 

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

দেশে চলমান জ্বালানি সংকটের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর ঘোষিত লংমার্চ কর্মসূচি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি কর্মসূচিটির ব্যয়, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য এবং এতে আওয়ামী লীগের সম্পৃক্ততার সম্ভাবনা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন।

রাশেদ খাঁনের দাবি, জ্বালানি সংকটের মধ্যেই জামায়াতের লংমার্চ কর্মসূচিতে প্রায় এক লাখ লিটার তেল ব্যয় হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, জামায়াতের ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ঢুকে পড়তে পারে।

সম্প্রতি দেওয়া এক ফেসবুক পোস্টে এসব মন্তব্য করেন রাশেদ খাঁন। সেখানে তিনি বর্তমান সরকারের বয়স ছয় মাস পার হয়ে সাত মাসে পড়ার কথা উল্লেখ করে জামায়াতকে ‘ক্ষমতার জন্য মরিয়া’ হয়ে ওঠার অভিযোগ করেন।

‘জ্বালানি সংকটের মধ্যে লংমার্চ’

রাশেদ খাঁনের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশে যখন জ্বালানি সংকট চলছে, তখন প্রায় এক লাখ লিটার তেল খরচ করে জামায়াত লংমার্চ কর্মসূচি পালন করতে যাচ্ছে।

ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘জ্বালানি সংকটের মধ্যে প্রায় ১ লাখ লিটার তেল খরচ করে লংমার্চ করবে জামায়াত!’

এরপর তিনি সরকারের বয়সের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, মাত্র ছয় মাস পার হয়ে সরকার সাত মাসে পড়েছে। এর মধ্যেই জামায়াত ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রাশেদ খাঁনের মতে, জামায়াত ক্ষমতায় যেতে না পারলেও রাষ্ট্রে অস্থিরতা ও অশান্তি সৃষ্টির সক্ষমতা রাখে।

কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগ ঢোকার শঙ্কা

রাশেদ খাঁনের বক্তব্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশজুড়ে রয়েছে জামায়াতের কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য সম্পৃক্ততার বিষয়টি। তিনি দাবি করেছেন, জামায়াত কর্মসূচি ডাকলেও এর মধ্যে আওয়ামী লীগ প্রবেশ করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তার ভাষায়, ‘কর্মসূচি ডাকবে জামায়াত, আর তার মধ্যে ঢুকে পড়বে আওয়ামীলীগ।’

তবে এটি রাশেদ খাঁনের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও আশঙ্কা। তার পোস্টে করা এসব দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের কোনো বক্তব্য এই তথ্যের সঙ্গে উল্লেখ করা হয়নি।

আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের বক্তব্য প্রসঙ্গ

জামায়াতের এমপি আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের একটি বক্তব্যের প্রসঙ্গও নিজের পোস্টে তুলে ধরেছেন রাশেদ খাঁন। ওই বক্তব্য বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগ ও জামায়াত আলোচনার ভিত্তিতে একসঙ্গে মাঠে নামতে পারে বলে তিনি ধারণা করছেন।

রাশেদ খাঁনের ভাষায়, ‘যদিও জামায়াত এমপি আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের বক্তব্য বিশ্লেষণ করলে দাঁড়ায় যে, আলোচনার ভিত্তিতেই ভবিষ্যতে আওয়ামীলীগ-জামায়াত একতাবদ্ধ হয়ে মাঠে নামবে।’

তিনি আরও দাবি করেন, আওয়ামী লীগের মাঠে নামার পথ তৈরি করতেই জামায়াত লংমার্চের ঘোষণা দিয়েছে।

‘ক্ষমতার স্বার্থে একতাবদ্ধ হওয়ার প্রস্তুতি’

নিজের রাজনৈতিক বিশ্লেষণে রাশেদ খাঁন জামায়াত ও আওয়ামী লীগের অতীত রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও মন্তব্য করেছেন। তিনি দুই দলকে নিয়ে তীব্র ভাষায় সমালোচনা করেন এবং দাবি করেন, ক্ষমতার স্বার্থে তারা একজোট হয়ে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘৭১ এর গণহত্যাকারী দল ও ২৪ এর গণহত্যাকারী দল’ ক্ষমতার স্বার্থে একতাবদ্ধ হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।

এ সময় তিনি দেশের জ্বালানি সংকটসহ জাতীয় সমস্যাগুলোর প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তার অভিযোগ, জাতীয় সংকটকে গুরুত্ব না দিয়ে রাজনৈতিক ক্ষমতা অর্জনকেই প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।

জ্বালানি সংকট নিয়েও প্রশ্ন

বর্তমানে জ্বালানি সংকট একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যু হয়ে উঠেছে—এমন প্রেক্ষাপটেই জামায়াতের লংমার্চের ঘোষণা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রাশেদ খাঁন।

তার দাবি, একটি বড় রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ব্যবহারের সম্ভাবনা থাকলেও একই সময়ে দেশে জ্বালানি সংকট রয়েছে। এ বিষয়টিকেই তিনি তার সমালোচনার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরেছেন।

পোস্টের শেষাংশে তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘ক্ষমতা না জনতা!’

রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক

রাশেদ খাঁনের এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে জ্বালানি সংকটের মধ্যে বড় রাজনৈতিক কর্মসূচির আয়োজন, এর সম্ভাব্য ব্যয় এবং কর্মসূচিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষের সম্পৃক্ততার আশঙ্কা—এই তিনটি বিষয় তার বক্তব্যে গুরুত্ব পেয়েছে।

তবে রাশেদ খাঁনের পোস্টে করা অভিযোগ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণকে তার ব্যক্তিগত বক্তব্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে। জামায়াতে ইসলামীর লংমার্চের উদ্দেশ্য, সম্ভাব্য অংশগ্রহণকারী এবং আওয়ামী লীগের সম্পৃক্ততার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দলগুলোর আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানা গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।

সব মিলিয়ে, জ্বালানি সংকটের সময় জামায়াতের লংমার্চ কর্মসূচি নিয়ে রাশেদ খাঁনের সমালোচনা রাজনৈতিক বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। একদিকে কর্মসূচির জন্য সম্ভাব্য জ্বালানি ব্যবহারের প্রশ্ন, অন্যদিকে এতে আওয়ামী লীগের সম্পৃক্ততার আশঙ্কা—দুই বিষয়েই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/16096 ,   Print Date & Time: Monday, 31 August 2026, 06:51:40 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh