
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেছেন, বিএনপি ‘জুলাই সনদ গুম করে ফেলেছে’। তিনি বলেছেন, জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা ও জনগণের অধিকার কোনো রাজনৈতিক দলের কাছে বন্দী থাকার বিষয় নয়।
আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে রোববার (৩০ আগস্ট) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।
পোস্টে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী লেখেন, “বিএনপি নামক ‘আয়নাঘর’ থেকে জুলাই সনদ উদ্ধার করতে হবে। জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা ও জনগণের অধিকার কোনো রাজনৈতিক দলের বন্দী থাকার বিষয় নয়। জুলাই সনদকে মুক্ত করতেই হবে।”
তার এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে জুলাই সনদ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান ও এর বাস্তবায়ন ঘিরে চলমান রাজনৈতিক বিতর্ক আরও সামনে এসেছে।
জুলাই সনদ নিয়ে পাটওয়ারীর বক্তব্য
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তার বক্তব্যে জুলাই সনদকে জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত করেছেন। তার দাবি, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছিল, সেটিকে কোনো রাজনৈতিক দলের নিজস্ব সম্পদ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
তিনি মনে করেন, জুলাই সনদ জনগণের রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। তাই এটি রাজনৈতিক দলীয় স্বার্থের বাইরে রেখে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
কী এই জুলাই সনদ?
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সংস্কার ও গণতান্ত্রিক রূপরেখা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়।
পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক দলগুলোর আলোচনার ভিত্তিতে তৈরি হয় ‘জুলাই সনদ’। এটি রাষ্ট্র সংস্কার, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণ এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রাজনৈতিক কাঠামো নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঐকমত্যের দলিল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় জুলাই সনদ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়।
রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা
আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর এমন বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা, রাষ্ট্র সংস্কার এবং রাজনৈতিক ঐকমত্যের বিষয়গুলোকে সামনে রেখে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অবস্থান ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্যে বিএনপির বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ তোলা হলেও তার পোস্টে এ অভিযোগের বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা বা নির্দিষ্ট প্রমাণ তুলে ধরা হয়নি।
তবে তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, জুলাই সনদ কোনো রাজনৈতিক দলের ‘বন্দী’ হয়ে থাকার বিষয় নয়। জনগণের অধিকার ও জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের স্বার্থে সনদকে মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে জুলাই সনদ কীভাবে বাস্তবায়িত হবে এবং এর রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক প্রভাব কী হবে—এ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য থাকায় বিষয়টি আগামী দিনগুলোতেও দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে।