
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
ট্রিলিয়ন ডলারের হালাল বাজারে পিছিয়ে বাংলাদেশ
বিশ্বজুড়ে হালাল পণ্যের বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হলেও সেই বিশাল বাজারে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ এখনো খুবই সীমিত। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হিসেবে বড় ভোক্তা বাজার, শক্তিশালী কৃষিভিত্তি, তুলনামূলক কম শ্রম ব্যয় এবং উল্লেখযোগ্য উৎপাদন সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কয়েক ট্রিলিয়ন ডলারের বৈশ্বিক হালাল অর্থনীতিতে বাংলাদেশের রফতানি হিস্যা এক শতাংশেরও কম।
খাতসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গবেষণা ও তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক হালাল অর্থনীতির আকার বর্তমানে ৩ থেকে ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি। অন্যদিকে গত অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে হালাল পণ্য রফতানি হয়েছে প্রায় ৯৪ কোটি ৩০ লাখ ডলারের। অর্থাৎ সম্ভাবনার তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থান এখনো অনেক পিছিয়ে।
কৃষিপণ্য, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, মাংস ও মাছসহ বিভিন্ন পণ্য ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া ও আফ্রিকার বাজারে যাচ্ছে। তবে খাদ্যপণ্যের পাশাপাশি ওষুধ, প্রসাধনী, পোশাক, পর্যটন ও বিভিন্ন সেবা খাতেও হালাল অর্থনীতির সুযোগ কাজে লাগানো গেলে বাংলাদেশের রফতানি আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশাল বাজার, বাংলাদেশের অংশ নগণ্য
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বজুড়ে হালাল পণ্যের চাহিদা দ্রুত বেড়েছে। মুসলিম জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি অমুসলিম ক্রেতাদের মধ্যেও নিরাপদ, মানসম্মত ও নির্দিষ্ট উৎপাদনপ্রক্রিয়ায় তৈরি পণ্যের প্রতি আগ্রহ বাড়ায় হালাল বাজারের পরিধি আরও বিস্তৃত হচ্ছে।
বাংলাদেশের জন্য এই বাজার বিশেষ সম্ভাবনাময়। কারণ দেশের কৃষি উৎপাদন, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, মাংস ও মাছ শিল্প এবং তৈরি পোশাক খাতে বড় ধরনের উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে। শ্রম ব্যয়ও অনেক প্রতিযোগী দেশের তুলনায় তুলনামূলক কম।
তারপরও বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে পারেনি দেশীয় উদ্যোক্তারা। এর পেছনে সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে উঠে আসছে আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য হালাল সনদের সংকট।
সনদই বড় বাধা
আন্তর্জাতিক বাজারে কোনো পণ্য হালাল হিসেবে বিক্রি করতে শুধু উৎপাদন প্রক্রিয়া যথাযথ হওয়াই যথেষ্ট নয়। ক্রেতা ও আমদানিকারকদের কাছে গ্রহণযোগ্য একটি স্বীকৃত হালাল সনদও প্রয়োজন।
বাংলাদেশে ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) পৃথকভাবে হালাল সনদ দিয়ে থাকে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, একাধিক প্রতিষ্ঠানের আলাদা সনদব্যবস্থা থাকায় উদ্যোক্তাদের জন্য প্রক্রিয়াটি জটিল হয়ে উঠেছে।
আরও বড় সমস্যা হলো, বাংলাদেশের সনদ সব আন্তর্জাতিক বাজারে সমানভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। বিশেষ করে সৌদি আরব, মালয়েশিয়াসহ বড় হালাল বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে অনেক সময় তৃতীয় কোনো দেশের স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান থেকে নতুন করে সনদ নিতে হয়।
ফলে একই পণ্যের জন্য একাধিকবার সনদ নেওয়া, বাড়তি সময় ব্যয় এবং অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধের প্রয়োজন হয়। এতে ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের অনেকেই আন্তর্জাতিক হালাল বাজারে প্রবেশের আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন।
সনদ নিতে বাড়তি খরচের অভিযোগ
হালাল সনদ নেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ রয়েছে। কারখানা পরিদর্শন, পণ্যের পরীক্ষা, বিভিন্ন নথিপত্র এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতার কারণে সনদ পেতে সময় ও অর্থ ব্যয় হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তারা।
সম্প্রতি বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) আয়োজিত এক কর্মশালায় ব্যবসায়ীরা হালাল সনদ প্রক্রিয়ায় নানা অনিয়ম ও বাড়তি ব্যয়ের অভিযোগ তোলেন। বিসিআইয়ের পরিচালক ও ইজি ফুডের চেয়ারম্যান জিয়া হায়দার অভিযোগ করেন, সনদ নিতে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে গাড়ি ও অর্থ চাওয়া হয়।
তার দাবি, অতিরিক্ত খরচের বিষয়টি শুনে কোনো কোনো বিদেশি ক্রেতা আনুষ্ঠানিক সনদ নেওয়ার পরিবর্তে পণ্যের মোড়কে শুধু ‘হালাল’ লিখে দেওয়ার পরামর্শ দেন। ব্যবসায়ীদের মতে, এমন পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ও রফতানি সম্ভাবনার জন্য নেতিবাচক।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিএসটিআই। সংস্থাটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হালাল সনদের জন্য সরকার নির্ধারিত ফি রয়েছে এবং অভিযোগকারীদের অনেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সনদের জন্য আবেদনই করেননি।
অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের বাইরে ব্যবসায়ীদের মূল দাবি হলো—হালাল সনদ দেওয়ার প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, স্বচ্ছ, দ্রুত এবং আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য করতে হবে।
বিদেশি সনদ নিতে হচ্ছে উদ্যোক্তাদের
বম্বে সুইটস অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডের আন্তর্জাতিক ব্যবসা ও করপোরেট অ্যাফেয়ার্স বিভাগের মহাব্যবস্থাপক খুরশীদ আহমাদ ফরহাদ জানান, একসময় হালাল সনদ নিতে ১৬ থেকে ১৮ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়েছে। বর্তমানে ফি কিছুটা কমলেও বাংলাদেশের সনদ অনেক ক্ষেত্রে সৌদি আরবের বাজারে গ্রহণযোগ্য নয়।
এ কারণে ভারত, থাইল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরের স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান থেকে অতিরিক্ত সনদ নিতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।
এর ফলে শুধু সনদ নেওয়ার খরচই বাড়ছে না, পণ্যের প্যাকেজিংয়েও পরিবর্তন আনতে হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সনদের স্বীকৃতি না থাকায় পণ্যের মোড়ক থেকে হালাল লোগো সরিয়ে ফেলতে হয়েছে বলেও জানান তিনি।
শুধু হালাল লোগো যথেষ্ট নয়
আন্তর্জাতিক হালাল বাজারে ক্রেতাদের চাহিদাও সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়েছে। এখন শুধু পণ্যের মোড়কে ‘হালাল’ লেখা থাকলেই আন্তর্জাতিক ক্রেতারা সন্তুষ্ট হচ্ছেন না।
তারা জানতে চাইছেন পণ্যের কাঁচামাল কোথা থেকে এসেছে, কীভাবে উৎপাদিত হয়েছে এবং উৎপাদনের প্রতিটি ধাপে মান ও নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিশেষ করে মাংসজাত পণ্যের ক্ষেত্রে পশুর জন্ম, পালন, খাবার, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, জবাই, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও প্যাকেজিং পর্যন্ত পুরো সরবরাহ ব্যবস্থার তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বেঙ্গল মিটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আহমদ আসিফের মতে, ক্রেতারা এখন পশুর জন্ম থেকে শুরু করে জবাই ও প্যাকেজিং পর্যন্ত প্রতিটি ধাপের তথ্য দেখতে চান। তাই আন্তর্জাতিক হালাল বাজারে টিকে থাকতে শুধু সনদ নয়, পুরো উৎপাদনব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে হবে।
আন্তর্জাতিক মানের পরীক্ষাগারের ঘাটতি
হালাল পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের আরেকটি বড় দুর্বলতা হলো আন্তর্জাতিক মানের পরীক্ষাগারের সীমাবদ্ধতা।
পণ্যের নিরাপত্তা, মান ও বিভিন্ন উপাদান যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের পরীক্ষা দেশে করা সম্ভব হয় না। ফলে অনেক ক্ষেত্রে নমুনা বিদেশে পাঠিয়ে পরীক্ষা করাতে হয়।
এতে একদিকে রফতানিকারকদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হয়, অন্যদিকে পণ্য রফতানিতে সময়ও বেশি লাগে। আন্তর্জাতিক বাজারে দ্রুত সরবরাহের ক্ষেত্রে এটি বাংলাদেশের জন্য বড় প্রতিযোগিতামূলক দুর্বলতা তৈরি করছে।
প্রাণ গ্রুপের পরিচালক কামরুজ্জামান কামালও আন্তর্জাতিক মানের পরীক্ষাগারের ঘাটতিকে হালাল পণ্য রফতানি বৃদ্ধির অন্যতম বাধা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
হালাল পণ্যের আলাদা তথ্যভান্ডার নেই
বাংলাদেশের হালাল পণ্য রফতানির প্রকৃত চিত্র বের করাও কঠিন। কারণ রফতানি বাণিজ্যে হালাল পণ্যের জন্য পৃথক এইচএস কোড নেই।
ফলে কোন ধরনের হালাল পণ্য কত পরিমাণ রফতানি হচ্ছে, কোন দেশে বেশি যাচ্ছে এবং কোন পণ্যের চাহিদা সবচেয়ে বেশি—এসব তথ্য আলাদাভাবে সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হালাল পণ্যের জন্য পৃথক কোড চালু করা হলে নির্ভরযোগ্য তথ্যভান্ডার তৈরি করা সম্ভব হবে। তখন বাজার বিশ্লেষণ করে উৎপাদন, বিনিয়োগ ও রফতানি নীতিও আরও কার্যকরভাবে নির্ধারণ করা যাবে।
ব্র্যান্ডিংয়েও পিছিয়ে বাংলাদেশ
বিশ্ববাজারে বাংলাদেশ এখনো মূলত কমমূল্যের পণ্য ও কাঁচামাল সরবরাহকারী দেশ হিসেবে পরিচিত। হালাল পণ্যের ক্ষেত্রেও আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত শক্তিশালী বাংলাদেশি ব্র্যান্ডের সংখ্যা খুবই কম।
অন্যদিকে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাত হালাল অর্থনীতিকে শুধু খাদ্যপণ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেনি। তারা হালাল সনদ, গবেষণা, বিপণন, পর্যটন, অর্থায়ন ও শিল্পকে সমন্বিত করে একটি বড় অর্থনৈতিক কাঠামো তৈরি করেছে।
বাংলাদেশের জন্যও এমন একটি সমন্বিত হালাল অর্থনীতি গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে। তবে এজন্য সরকারি নীতি, বেসরকারি বিনিয়োগ, গবেষণা এবং আন্তর্জাতিক বিপণনের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন।
একক হালাল কর্তৃপক্ষের দাবি
ব্যবসায়ীদের অন্যতম প্রধান দাবি হলো দেশে একটি একক জাতীয় হালাল কর্তৃপক্ষ বা হালাল বোর্ড গঠন করা।
তাদের মতে, উদ্যোক্তাদের একাধিক প্রতিষ্ঠানের কাছে ঘুরে সনদ নেওয়ার পরিবর্তে একটি কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে স্বচ্ছ ও দ্রুত প্রক্রিয়ায় সনদ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হলে সময় ও খরচ দুটোই কমবে।
একই সঙ্গে ওই কর্তৃপক্ষকে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ হালাল বাজারের নিয়ন্ত্রক ও সনদ প্রদানকারী সংস্থার সঙ্গে পারস্পরিক স্বীকৃতির ব্যবস্থা করতে হবে। এতে বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের একই পণ্যের জন্য বিভিন্ন দেশে আলাদা সনদ নেওয়ার প্রয়োজন কমবে।
নতুন বাজারে বড় সুযোগ
রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ হাসান আরিফ জানিয়েছেন, বৈশ্বিক হালাল বাজারে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলোকে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রেও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
আইইউবিএটি বিজনেস স্কুলের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. মোমিনুল ইসলামের মতে, হালাল বাজারের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হলে সরবরাহ ব্যবস্থা, শিক্ষা, সনদ, শিল্প ও দক্ষ জনবল উন্নয়নকে একই কাঠামোর মধ্যে আনতে হবে।
বিসিআই সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, বৈশ্বিক হালাল বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে, কিন্তু বাংলাদেশের অংশগ্রহণ এখনো খুবই কম।
তিনি জানান, বাংলাদেশ বর্তমানে বছরে প্রায় ৮৫ কোটি ডলারের হালাল পণ্য রফতানি করছে। অন্যদিকে ২০২৫ সালে বিশ্বে হালাল পণ্যের চাহিদা ছিল প্রায় ৩ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলার। ২০৩৪ সালে এ বাজার ৯ দশমিক ৪৫ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস রয়েছে।
অর্থাৎ আগামী বছরগুলোতে বাজারটি আরও দ্রুত সম্প্রসারিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা এই বাজারের সামান্য অংশও ধরতে পারলে রফতানি আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব।
খাদ্যের বাইরেও সম্ভাবনা
বাংলাদেশের হালাল অর্থনীতির সম্ভাবনা শুধু খাদ্যপণ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ওষুধ, প্রসাধনী, পোশাক, পর্যটন, ইসলামি অর্থায়ন এবং বিভিন্ন সেবা খাতেও হালাল মানদণ্ডের বাজার দ্রুত বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে পারলে বাংলাদেশের জন্য নতুন রফতানি বাজার তৈরি হতে পারে। তবে এর জন্য প্রয়োজন আন্তর্জাতিক মানের সনদ, আধুনিক পরীক্ষাগার, দক্ষ জনবল, নির্ভরযোগ্য তথ্যভান্ডার এবং শক্তিশালী ব্র্যান্ডিং।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, হালাল পণ্যের জন্য একটি স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য জাতীয় কাঠামো তৈরি করা।
কয়েক ট্রিলিয়ন ডলারের বৈশ্বিক বাজার বাংলাদেশের সামনে বড় একটি অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি করেছে। কিন্তু সুযোগটি কাজে লাগাতে হলে দীর্ঘদিনের সনদ জটিলতা, পরীক্ষাগারের সীমাবদ্ধতা, তথ্যের ঘাটতি, দুর্বল ব্র্যান্ডিং এবং সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা দূর করতে হবে।
সঠিক নীতি ও কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা গেলে হালাল অর্থনীতি বাংলাদেশের রফতানি খাতের জন্য নতুন একটি শক্তিশালী ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে। বিশাল এই বাজারে বাংলাদেশের অংশ এখন ছোট হলেও সম্ভাবনা মোটেও ছোট নয়।