
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক রিপোর্ট
চীনা রোবটিকস প্রতিষ্ঠান লিংকারবটের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী অ্যালেক্স ঝৌ সাশ্রয়ী ও নিখুঁতভাবে কাজ করতে সক্ষম রোবটিক হাত ব্যাপকভাবে উৎপাদনের লক্ষ্যে দ্রুত এগিয়ে চলেছেন। তাঁর লক্ষ্য, এমন রোবটিক হাত তৈরি করা, যা হিউম্যানয়েড ও শিল্প রোবটের ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে।
চীনা রোবটিকস প্রতিষ্ঠান লিংকারবটের সদর দপ্তরের লবি একই সঙ্গে অপেক্ষাকক্ষ ও প্রদর্শনকক্ষ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বেইজিংভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটির তৈরি সারি সারি রোবটিক হাত জায়গাটির প্রায় অর্ধেক দখল করে আছে। কয়েকটি হাত রোবটিক বাহুর সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে, যাতে দর্শনার্থীদের সামনে সেগুলোর সক্ষমতা দেখানো যায়। যেমন, আগে থেকে তৈরি করা একটি ছিদ্রে স্ক্রু ঢুকিয়ে শক্ত করে আটকে দিতে পারে এসব রোবটিক হাত।
আবার কয়েকটি রোবটিক হাত পূর্ণ আকারের চারটি হিউম্যানয়েড রোবটের সঙ্গে যুক্ত। ঐতিহ্যবাহী লাল ‘মামিয়ানছুন’ স্কার্ট পরানো এসব হিউম্যানয়েড রোবট কিবোর্ড ও ড্রামে চীনা সুরকার লি হুয়ানঝির ‘স্প্রিং ফেস্টিভ্যাল ওভারচার’সহ বিভিন্ন সংগীত পরিবেশন করতে পারে।
‘১০০ টু ওয়াচ’-এর তালিকায়:
২০২৩ সালে চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী অ্যালেক্স ঝৌয়ের সহপ্রতিষ্ঠায় যাত্রা শুরু করে লিংকারবট। গত বছর এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের সম্ভাবনাময় ছোট প্রতিষ্ঠান ও স্টার্টআপ নিয়ে ফোর্বস এশিয়ার ‘১০০ টু ওয়াচ’ তালিকায় জায়গা করে নেয় প্রতিষ্ঠানটি।
লিংকারবটের তৈরি পাঁচ আঙুলবিশিষ্ট নিখুঁতভাবে কাজ করতে সক্ষম রোবটিক হাত হিউম্যানয়েড ও শিল্প রোবটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদানগুলোর অন্যতম। এসব হাতের মাধ্যমে সাধারণ ও পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ থেকে শুরু করে অত্যন্ত জটিল বিভিন্ন কাজও সম্পন্ন করা সম্ভব।
ঝৌ বলেন, চীনের বিভিন্ন কারখানায় ইতিমধ্যে এসব রোবটিক হাত ব্যবহার করা হচ্ছে। কোনো বস্তু আঁকড়ে ধরা কিংবা বিভিন্ন যন্ত্রাংশ সংযোজনের মতো কাজে এগুলো ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে তাঁর পরবর্তী লক্ষ্য হলো রান্না ও ঘর পরিষ্কারের মতো কাজেও রোবটিক হাতকে দক্ষ করে তোলা। এতে হিউম্যানয়েড রোবট ভবিষ্যতে ঘরের অপরিহার্য সহকারী হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
৪০ বছর বয়সী এই উদ্যোক্তা রোবটিক যন্ত্রাংশে ঠাসা নিজের কার্যালয়ে বসে বলেন, “আমরা যা করছি, তার মূল কথা হলো রোবটিক হাতকে একজন দক্ষ কারিগরের মতো দক্ষতা দেওয়া। আমরা শুধু রান্নার মতো একটি নির্দিষ্ট কাজ করতে হাতটিকে সক্ষম করার চেষ্টা করছি না। বরং মানুষের হাতের সম্পূর্ণ দক্ষতাগুলোই এর মধ্যে দেওয়ার চেষ্টা করছি।”
মানুষের হাতের অনুকরণই বড় চ্যালেঞ্জ:
মানুষের হাতের রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং—যার সূক্ষ্ম নড়াচড়া নিয়ন্ত্রণ, পরিস্থিতি অনুযায়ী আঁকড়ে ধরার ক্ষমতা এবং স্পর্শের মাধ্যমে অনুভব করার অসাধারণ সক্ষমতা রয়েছে—রোবটিকস শিল্পের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত ‘অল-ইন সামিট’-এ বিলিয়নিয়ার ইলন মাস্ক বলেছিলেন, টেসলার ‘অপ্টিমাস’ হিউম্যানয়েড হাঁটাচলায় ভালো হলেও মানুষের মতো হাত তৈরি করা অনেক বেশি কঠিন হয়ে উঠেছে। হাতের নড়াচড়া নিয়ন্ত্রণকারী হার্ডওয়্যার থেকে শুরু করে সেই নড়াচড়া পরিচালনাকারী সফটওয়্যার—সব ক্ষেত্রেই বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
ঝৌ স্বীকার করেন, প্রযুক্তির ক্ষেত্রে একটি ব্যবধান রয়েছে। তবে তাঁর পরিকল্পনা হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে চীনের শক্তিশালী উৎপাদন সক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত করে সেই ব্যবধান কমিয়ে আনা।
তিনি জানান, রোবটিক হাতের বহুমুখিতা বাড়াতে প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন দক্ষতার একটি তথ্যভান্ডার তৈরি করছে। একই সঙ্গে উৎপাদন বাড়িয়ে খরচ কমানোর চেষ্টা চলছে। এর ফলে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক—উভয় বাজারেই প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় দামে সুবিধা পেতে পারে লিংকারবট।
চীনে বাড়ছে রোবটিক হাতের বাজার:
উহানভিত্তিক ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান টিএফ সিকিউরিটিজের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সাল নাগাদ চীনে রোবটিক হাত তৈরি করছিল দুই ডজনের বেশি প্রতিষ্ঠান।
শেনঝেনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গাওগং ইন্ডাস্ট্রি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের শেষ নাগাদ চীনে রোবটিক হাতের মোট সরবরাহ ৭০ হাজার ইউনিটে পৌঁছাতে পারে। ২০২৫ সালের তুলনায় এটি প্রায় ৩০০ শতাংশ বেশি। ২০৩০ সালের মধ্যে বার্ষিক সরবরাহ ছয় গুণেরও বেশি বেড়ে ৪ লাখ ৩০ হাজার ইউনিটে পৌঁছাতে পারে।
বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ:
বিনিয়োগকারীরাও লিংকারবটের দিকে ঝুঁকছেন। ফিনটেক জায়ান্ট অ্যান্ট গ্রুপ, এইচএসজি ও সিআইসিসি ক্যাপিটালের সমর্থন পাওয়া প্রতিষ্ঠানটি এপ্রিলে সিরিজ বি প্লাস বিনিয়োগ পর্ব সম্পন্ন করে। লিংকারবটের দাবি, ওই বিনিয়োগ পর্বে প্রতিষ্ঠানটির মূল্যায়ন দাঁড়ায় ৩ বিলিয়ন ডলার।
লিংকারবটে ঝৌয়ের ৩১ শতাংশ মালিকানা রয়েছে। এর ভিত্তিতে তাঁর আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ ৯২ কোটি ডলার। এরই মধ্যে তিনি নতুন একটি অর্থায়ন পর্ব শুরু করেছেন, যেখানে প্রতিষ্ঠানটির মূল্যায়ন ৬ বিলিয়ন ডলারে নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। সেটি সফল হলে ঝৌ বিলিয়নিয়ার হয়ে যাবেন।
গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৭ সালে হংকংয়ে লিংকারবটের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানের এক প্রতিনিধি জানিয়েছেন, প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও নিয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি নেই।
এখন পর্যন্ত লিংকারবটের পণ্যভান্ডারে ছয়টি মডেল রয়েছে। এগুলোর দাম ৬ হাজার ৬৬৬ ইউয়ান থেকে ৯৯ হাজার ৯৯৯ ইউয়ান পর্যন্ত। মার্কিন ডলারে এর পরিমাণ প্রায় ৯৮০ থেকে ১৪ হাজার ৭০০ ডলার।
প্রতিষ্ঠানটির সবচেয়ে সস্তা মডেল ‘০৬’। এর পাঁচটি আঙুল বাঁকিয়ে স্মার্টফোনের মতো বড় বস্তু আঁকড়ে ধরা ও ধরে রাখার সক্ষমতা রয়েছে।
সবচেয়ে দামি মডেল ‘এল৩০’-এর প্রতিটি আঙুল ও গাঁট স্বাধীনভাবে নড়াচড়া করতে পারে। ফলে টুইজারের সাহায্যে ক্ষুদ্র স্ক্রু তুলে নেওয়ার মতো উচ্চনির্ভুলতার কাজও এটি করতে পারে।
লিংকারবটের সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া মডেল হলো ৪৯ হাজার ৯৯৯ ইউয়ানের ‘এল২০’। দক্ষতার দিক থেকে এটি এল৩০-এর চেয়ে এক ধাপ পিছিয়ে থাকলেও পানির কাপের মতো আকারের বস্তু ধরে রাখা, বোল্ট শক্ত করা এবং বোতলের ঢাকনা খোলার মতো কাজ করতে পারে।
ছোট কাজও বড় প্রকৌশল চ্যালেঞ্জ:
শাংহাইভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান জেনজেন ল্যাবসের প্রতিষ্ঠাতা ডারমট ম্যাকগ্রাথ বলেন, আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ এসব কাজ সম্পন্ন করতে পারাও বড় ধরনের প্রকৌশল দক্ষতার বিষয়।
রোবটিক হাত সাধারণত ছোট ছোট মোটর দিয়ে তৈরি হয়, যা হাতের নড়াচড়া চালায়। নড়াচড়ায় সহায়তার জন্য বিশেষ ধরনের তারও থাকে। আঙুলের ডগায় বসানো সেন্সর রোবটিক হাতকে ‘অনুভব’ করার ক্ষমতা দেয়।
উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, একটি স্ক্রু শক্ত করতে একাধিক মোটরকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হয়, যাতে হাতের চাপ খুব বেশি বা খুব কম না হয়। আবার ডিমের মতো ভঙ্গুর কোনো বস্তু খোসা না ভেঙে তুলতে হলে কতটা চাপ প্রয়োগ করতে হবে, তা নির্ধারণে জটিল সেন্সিং প্রযুক্তি প্রয়োজন।
মার্চে লিংকারবটের অন্যতম বড় প্রতিদ্বন্দ্বী সিঙ্গাপুরভিত্তিক শার্পা তাদের ‘ওয়েভ’ রোবটিক হাতকে সফলভাবে আপেল ছাড়ানোর প্রশিক্ষণ দেয়। রোবটিকস বিশ্বে কাজটিকে বড় ধরনের অগ্রগতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
ম্যাকগ্রাথের মতে, ওয়েভের তুলনায় লিংকারবটের সবচেয়ে উন্নত মডেল এল৩০ চাপ প্রয়োগের ক্ষেত্রে ততটা নিখুঁত নয়। কারণ এতে সেন্সরের সংখ্যা কম। তবে দুই পণ্যের দক্ষতা প্রায় একই ধরনের। লিংকারবটের জন্য সবচেয়ে বড় সুবিধা হতে পারে এর দাম—বিশেষ করে উৎপাদন সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে।
নিজস্ব যন্ত্রাংশ, কম খরচ:
বেশির ভাগ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানের তুলনায় লিংকারবটের একটি বড় সুবিধা হলো, প্রতিষ্ঠানটি প্রায় সব উপাদান নিজেরাই তৈরি করে। এতে সরবরাহব্যবস্থার ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ে এবং উৎপাদন খরচ কম রাখা সম্ভব হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়েভ রোবটিক হাতের প্রতিটির দাম প্রায় ৫০ হাজার ডলার। অর্থাৎ লিংকারবটের এল৩০-এর তুলনায় এটি তিন গুণ বেশি ব্যয়বহুল।
লন্ডনভিত্তিক রোবটিক হাত নির্মাতা শ্যাডো রোবট তাদের সবচেয়ে উন্নত মডেল প্রতিটি ১ লাখ ১০ হাজার ইউরো বা প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার ডলারে বিক্রি করে। ওই মডেল রেঞ্চের মতো যন্ত্রও ব্যবহার করতে পারে।
ম্যাকগ্রাথ বলেন, “এই মুহূর্তে আপনি যে সবচেয়ে কম দামের এবং ভালো মানের রোবটিক হাত কিনতে পারেন, লিংকারবট তার অন্যতম। তারা নিজেদের যন্ত্রাংশ ও উপাদান নিজেরাই তৈরি করে। ফলে খরচের ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ থাকে এবং তারা আরও দ্রুত উন্নয়ন করতে পারে।”
বছরে ১ লাখ হাত তৈরির লক্ষ্য:
ঝৌ আরও খরচ কমাতে চান। আগস্টে বেইজিংয়ে নতুন একটি উৎপাদন লাইন চালু করেছে লিংকারবট। এর ফলে চীনে প্রতিষ্ঠানটির কারখানার সংখ্যা বেড়ে হয়েছে চারটি।
আগামী কয়েক বছরে বছরে সর্বোচ্চ ১ লাখ রোবটিক হাত উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
গাওগং ইন্ডাস্ট্রি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর সরবরাহের হিসাবে লিংকারবট ছিল চীনের দ্বিতীয় বৃহত্তম রোবটিক হাত নির্মাতা। তাদের আগে ছিল বেইজিংভিত্তিক আরেক প্রতিষ্ঠান ইনস্পায়ার রোবটস।
লিংকারবটের ভাষ্য অনুযায়ী, বড় পরিসরে উৎপাদনের সুবিধা কাজে লাগিয়ে তিন বছরের মধ্যে এক জোড়া রোবটিক হাতের হার্ডওয়্যার খরচ ১০০ ডলারের নিচে নামিয়ে আনা সম্ভব হতে পারে।
ব্যাংক অব আমেরিকা গ্লোবাল রিসার্চের হংকংভিত্তিক বিশ্লেষক মিং হসুন লির মতে, বিশ্বব্যাপী এক জোড়া রোবটিক হাতের গড় হার্ডওয়্যার খরচ প্রায় ৬ হাজার ডলার। চীনে এই গড় খরচ ১ হাজার ২০০ ডলার। উৎপাদন বাড়লে প্রতিবছর খরচ ১৫ শতাংশ করে কমতে পারে বলে তাঁর ধারণা।
বেশি পরিমাণে উৎপাদন করলে সরবরাহকারীদের সঙ্গে দর-কষাকষিতে লিংকারবটের ক্ষমতা বাড়বে। এতে আরও খরচ কমানো সম্ভব হবে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সফটওয়্যার বিভাগের দায়িত্বে থাকা লিংকারবটের সহপ্রতিষ্ঠাতা সু ইয়াং গত বছর স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, উৎপাদন বাড়লে এক জোড়া রোবটিক হাতের দাম ৫০০ ইউয়ান বা প্রায় ৭৫ ডলারে নামিয়ে আনা সম্ভব হতে পারে।
হিউম্যানয়েড রোবটের সবচেয়ে ব্যয়বহুল একক উপাদান
রোবটিক হাত একটি হিউম্যানয়েড রোবটের সবচেয়ে ব্যয়বহুল একক উপাদান।
তথ্যসূত্র: ব্যাংক অব আমেরিকা গ্লোবাল রিসার্চ
হিউম্যানয়েড রোবট নির্মাতাদের পাশাপাশি লিংকারবটের গ্রাহকদের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ও। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থিত স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং বেইজিংয়ের সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের গবেষণাগারে রোবটিক হাতের আরও নতুন ব্যবহার নিয়ে গবেষণা চলছে।
লিংকারবটের তথ্য অনুযায়ী, বিদেশি গ্রাহকদের মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং এবং জার্মানির সিমেন্স রয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের আর্থিক তথ্য প্রকাশ করতে রাজি হয়নি।
শ্রমিক সংকটেও রোবটিক হাতের ব্যবহার:
দ্রুত বয়স্ক হয়ে উঠছে চীনের জনসংখ্যা। এর ফলে সামনে শ্রমিকের ঘাটতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে চীনের উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোও বিভিন্ন সংযোজন লাইনে লিংকারবটের পণ্য ব্যবহার করছে বলে জানান ঝৌ।
এর মধ্যে রয়েছে শেনঝেনের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত খাদ্যসেবা প্রতিষ্ঠান চিয়ানওয়েইইয়াংচু ফুড। প্রতিষ্ঠানটি জুলাইয়ে জানায়, হিমায়িত ও প্যাকেটজাত খাবার তৈরির জন্য একটি নতুন স্বয়ংক্রিয় সংযোজন লাইনে লিংকারবটের রোবটিক হাত ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে চীনের স্থানীয় প্রতিদ্বন্দ্বীরাও দ্রুত এগিয়ে আসছে।
লিংকারবটের একই বছর প্রতিষ্ঠিত শাংহাইভিত্তিক এজিবট তাদের ‘অমনি হ্যান্ড’ প্রতিটি ২ হাজার ২০০ ডলারে বিক্রি করে। আর ইনস্পায়ার রোবটসের প্রাথমিক পর্যায়ের একটি মডেলের দাম ২ হাজার ৭০০ ডলার।
চীনা ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান জেডি ডটকমে কয়েক ডজন ব্র্যান্ডের রোবটিক হাত বিক্রি হচ্ছে। কাজের ধরন ও দক্ষতার ওপর নির্ভর করে এসব পণ্যের দাম ৪৪৫ ডলার থেকে ১৪ হাজার ৮০০ ডলার পর্যন্ত।
শিকাগোর নর্থওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক কেভিন লিঞ্চ বলেন, তিনি চীনের রোবটেরা, উজি টেকনোলজি ও ইনস্পায়ার রোবটসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের রোবটিক হাত পরীক্ষা করেছেন। পাশাপাশি শার্পা, শ্যাডো রোবট এবং দক্ষিণ কোরিয়ার ওনিক রোবটিকসের পণ্যও পরীক্ষা করেছেন।
তবে তাঁর মতে, এখনো কোনো একটি প্রতিষ্ঠানকে স্পষ্ট বিজয়ী বলা যায় না।
তিনি বলেন, “প্রতিটি মডেলেরই নিজস্ব শক্তি ও দুর্বলতা রয়েছে।”
সূত্র: প্রতিবেদনটি ফোর্বস এশিয়ার সেপ্টেম্বর ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে।
ছবির ক্যাপশন:
লিংকারবটের তৈরি রোবটিক হাতের সক্ষমতা প্রদর্শন করছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী অ্যালেক্স ঝৌ।
রয়টার্স/ম্যাক্সিম শেমেতভ