• হোম > অর্থনীতি > তীব্র তাপদাহে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বাড়ছে ক্ষতি

তীব্র তাপদাহে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বাড়ছে ক্ষতি

  • শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১৯:৪৩
  • ১৯

---

 

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

ইউরোপে গত দুই মাসে ইতিহাসের অন্যতম উষ্ণ গ্রীষ্মকাল দেখা গেছে। ভয়াবহ তাপদাহে বিপর্যস্ত হয়েছে জনজীবন, চাপ বেড়েছে স্বাস্থ্যব্যবস্থায়, ব্যাহত হয়েছে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে দাবানল। উন্নত অবকাঠামো ও শক্তিশালী সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও ইউরোপের দেশগুলো যেখানে চরম তাপমাত্রার অভিঘাত সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশের মতো উষ্ণ ও ঘনবসতিপূর্ণ দেশে এর সম্ভাব্য প্রভাব আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত একাধিক আন্তর্জাতিক গবেষণা ও প্রতিবেদনে তীব্র তাপদাহকে শুধু পরিবেশগত বা আবহাওয়াগত দুর্যোগ হিসেবে নয়, বরং জনস্বাস্থ্য, শ্রমবাজার, মানুষের আয়, উৎপাদনশীলতা এবং সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য বড় হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব গবেষণায় বিশেষভাবে উঠে এসেছে বাংলাদেশের ঝুঁকির চিত্র।

বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনের হিসাবে, শুধু ২০২৪ সালেই তীব্র তাপদাহের কারণে বাংলাদেশের উৎপাদনশীলতায় প্রায় ১ দশমিক ৩ থেকে ১ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে। দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) হিসাবে এই ক্ষতির পরিমাণ প্রায় শূন্য দশমিক ৩ থেকে শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ।

অন্যদিকে, বার্লিনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান অ্যাডেলফি গ্লোবালের গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশে তীব্র তাপদাহের কারণে কর্মঘণ্টা কমে যাওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসা ব্যয়ও বাড়ছে। এতে বিশেষ করে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি আর্থিক চাপে পড়ছে।

তাপদাহে কমছে কর্মঘণ্টা, বাড়ছে অর্থনৈতিক ক্ষতি

বাংলাদেশের অর্থনীতি শ্রমঘন বিভিন্ন খাতের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। কৃষি, নির্মাণ, পরিবহন, হকারি ও অন্যান্য অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে কর্মরত লাখ লাখ মানুষকে জীবিকার প্রয়োজনে প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও বাইরে কাজ করতে হয়।

অ্যাডেলফি গ্লোবালের গবেষণা অনুযায়ী, বাংলাদেশ, ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও নাইজেরিয়ার কৃষি ও নির্মাণ খাতের শ্রমিকরা তীব্র তাপদাহের কারণে বছরে গড়ে প্রায় ২০ কর্মঘণ্টা বা তারও বেশি সময় হারাচ্ছেন।

এই ক্ষতি শুধু জাতীয় অর্থনীতির হিসাবেই সীমাবদ্ধ নয়। দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের শ্রমিকদের ক্ষেত্রে একটি কর্মদিবস হারানোর অর্থ হলো ওই দিনের আয় হারানো। একই সঙ্গে অতিরিক্ত গরমে অসুস্থ হলে চিকিৎসা ব্যয়ের বোঝাও পরিবারের ওপর এসে পড়ে।

ফলে একদিকে আয় কমছে, অন্যদিকে চিকিৎসা ব্যয় বাড়ছে। দুর্বল সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থার কারণে এই দ্বিমুখী চাপ অনেক পরিবারকে আরও বেশি আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দিতে পারে।

অ্যাডেলফি গ্লোবালের পর্যবেক্ষণে বাংলাদেশ, ভারত ও নাইজেরিয়াকে তাপদাহের কারণে বহুমুখী ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঢাকায় বছরে হারাচ্ছে বিপুল কর্মঘণ্টা

তীব্র গরমের প্রভাব শহরাঞ্চলেও দ্রুত দৃশ্যমান হচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের ‘এ লিভেবল ফিউচার: প্রটেক্টিং জবস অ্যান্ড গ্রোথ ফ্রম এক্সট্রিম হিট ইন সাউথ এশিয়া’স সিটিস’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দিনের তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে উঠলে শ্রমিকদের উৎপাদনশীলতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধু ঢাকাতেই তাপদাহের কারণে বার্ষিক কর্মঘণ্টার প্রায় ৩ শতাংশ তাত্ত্বিকভাবে অব্যবহৃত থেকে যায়। এটি প্রায় ৪ লাখ ৬৫ হাজার পূর্ণকালীন চাকরির সমপরিমাণ কর্মঘণ্টার ক্ষতি।

এই হিসাব দেখিয়ে দেয়, তাপদাহের প্রভাব শুধু মানুষের শারীরিক অস্বস্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হচ্ছে উৎপাদন, আয় ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি।

পোশাক খাতেও বাড়ছে ঝুঁকি

বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক খাতও তাপদাহের অভিঘাত থেকে নিরাপদ নয়।

বিশ্বব্যাংক আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও), আন্তর্জাতিক ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি) এবং কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্লোবাল লেবার ইনস্টিটিউটের যৌথ বিশ্লেষণ উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, তাপদাহের ঝুঁকি কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা না গেলে ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ার পোশাক খাত সম্মিলিতভাবে প্রায় ৬৫ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আয় হারাতে পারে।

অর্থাৎ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাড়তে থাকা তাপমাত্রা এখন শুধু পরিবেশগত সংকট নয়; এটি বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও রপ্তানি সক্ষমতার সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত।

ইতোমধ্যে বেড়েছে বাংলাদেশের তাপমাত্রা

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিল্পবিপ্লব-পূর্ব সময়ের তুলনায় বাংলাদেশে গড় তাপমাত্রা ইতোমধ্যে প্রায় ১ দশমিক ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার ছয়টি দেশের মধ্যে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বৃদ্ধি।

একই প্রতিবেদনে ‘গ্লোবাল বার্ডেন অব ডিজিজ’-এর হিসাব তুলে ধরে বলা হয়েছে, ২০০০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশে তাপদাহজনিত মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

এতে বোঝা যায়, তাপদাহের ঝুঁকি ভবিষ্যতের কোনো আশঙ্কা নয়; এর প্রভাব ইতোমধ্যেই দেশের মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্যে পড়ছে।

সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে শিশুরা

তীব্র তাপমাত্রার প্রভাব শুধু কর্মজীবী মানুষের ওপর পড়ছে না। শিশুদের জন্যও তৈরি হচ্ছে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি।

ব্রাসেলসভিত্তিক ভ্রিজে ইউনিভার্সিটেট ব্রাসেলসের নেতৃত্বে পরিচালিত এবং ‘সায়েন্স অ্যাডভান্সেস’-এ গত ২৭ আগস্ট প্রকাশিত এক গবেষণায় দক্ষিণ এশিয়ার শিশুদের তাপপ্রবাহজনিত ঝুঁকি তুলে ধরা হয়েছে।

গবেষণাটির তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক তাপমাত্রা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লে বাংলাদেশে প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখ শিশু বছরে আরও অন্তত এক মাস তীব্র তাপদাহের মুখে পড়তে পারে।

বিশ্বব্যাংকও সতর্ক করেছে, জীবনের প্রথম এক হাজার দিনে অতিরিক্ত তাপমাত্রার সংস্পর্শে এলে শিশুদের শারীরিক বৃদ্ধির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে এবং স্টান্টিংয়ের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

ফলে তাপদাহের ক্ষতি শুধু বর্তমান কর্মক্ষমতা বা আয় কমিয়ে দেয় না; ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বাস্থ্য ও মানবসম্পদের ওপরও এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে।

স্বাস্থ্য খরচের বড় অংশই অদৃশ্য

তাপদাহের অর্থনৈতিক ক্ষতি কর্মঘণ্টা ও উৎপাদন কমে যাওয়ার মাধ্যমে পরিমাপ করা গেলেও এর স্বাস্থ্যগত ক্ষতির একটি বড় অংশ এখনো হিসাবের বাইরে থেকে যাচ্ছে।

অতিরিক্ত তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার মধ্যে দীর্ঘ সময় কাজ করলে শরীরে পানিশূন্যতা, পেশিতে টান, প্রচণ্ড ক্লান্তি থেকে শুরু করে প্রাণঘাতী হিটস্ট্রোক পর্যন্ত হতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) তাপদাহকে ‘নীরব ঘাতক’ হিসেবে উল্লেখ করে মানুষের জীবন, শ্রম উৎপাদনশীলতা ও পরিবেশ রক্ষায় দেশগুলোকে হিট-হেলথ অ্যাকশন প্ল্যান তৈরির আহ্বান জানিয়েছে।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সমস্যাটি আরও জটিল। কারণ দেশের বিপুলসংখ্যক শ্রমিক এমন সব খাতে কাজ করেন, যেখানে ঘরের ভেতরে থেকে কাজ করার সুযোগ নেই।

কৃষককে মাঠে যেতে হয়, নির্মাণশ্রমিককে খোলা জায়গায় কাজ করতে হয়, পরিবহন শ্রমিক ও হকারদের দীর্ঘ সময় রাস্তায় থাকতে হয়। ফলে তাপপ্রবাহ বাড়লেও তাদের কাজ বন্ধ করার সুযোগ সীমিত।

প্রয়োজন কর্মঘণ্টায় পরিবর্তন

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. ফাহমিদা খাতুন তাপদাহ মোকাবিলায় কয়েকটি বাস্তবসম্মত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন।

তার মতে, তীব্র গরমের সময়ে কর্মঘণ্টা পুনর্নির্ধারণ, শ্রমিকদের তাপজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করা, চিকিৎসা ব্যয়ের বিষয়ে নিয়োগকর্তাদের দায়িত্বশীল করা এবং কৃষিসহ শ্রমঘন খাতে যান্ত্রিকীকরণ বাড়ানো প্রয়োজন।

তিনি বিশেষভাবে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতকে ধীরে ধীরে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে আনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। একই সঙ্গে নিয়োগকর্তাদের শ্রম আইনের আওতায় এনে কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ উন্নত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেছেন।

তার মতে, এসব পদক্ষেপ কার্যকর হলে তাপদাহের কারণে শ্রমিকদের স্বাস্থ্যঝুঁকি ও উৎপাদনশীলতার ক্ষতি উভয়ই কমানো সম্ভব।

অভিযোজনের কিছু উদাহরণ তৈরি পোশাক খাতে

তাপদাহ মোকাবিলায় বাংলাদেশের কিছু শিল্পখাতে ইতোমধ্যে অভিযোজনের উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে।

উৎপাদকদের জ্বালানি ও পানিসাশ্রয়ী প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ এবং কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ উন্নয়নে সহায়তার জন্য ২০১৬ সালে গ্রিন ট্রান্সফরমেশন ফান্ড চালু করা হয়। পরবর্তী সময়ে পরিবেশবান্ধব উৎপাদনব্যবস্থায় বিনিয়োগ বাড়ায় পোশাক খাতে এর প্রভাবও দেখা গেছে।

আইএফসির ‘পার্টনারশিপ ফর ক্লিনার টেক্সটাইল’ এবং টেকসই অর্থায়নের ফলে বাংলাদেশে পরিবেশবান্ধব কারখানার সংখ্যাও বেড়েছে। ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ দেশে লিড সনদপ্রাপ্ত পোশাক কারখানার সংখ্যা ২৭০ ছাড়িয়েছে।

পরিবেশবান্ধব কারখানাগুলোতে উন্নত বায়ু চলাচল, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ও শক্তি সাশ্রয়ী প্রযুক্তির ব্যবহার শ্রমিকদের জন্য তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক কর্মপরিবেশ তৈরিতে সহায়তা করছে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু কারখানা পর্যায়ের উদ্যোগ দিয়ে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। কারণ দেশের বিপুলসংখ্যক শ্রমিক অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে কাজ করেন, যেখানে কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষা তুলনামূলকভাবে দুর্বল।

তাপদাহকে নীতির মূলধারায় আনার তাগিদ

এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক ও পোশাক রপ্তানিকারক মো. ফজলুল হক মনে করেন, ভবিষ্যতে শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যবস্থায় তাপদাহ ব্যবস্থাপনা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

তার মতে, বাইরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। তবে বছরের যে কয়েকটি দিনে তাপমাত্রা চরম পর্যায়ে পৌঁছে, সেসব দিনে কারখানার ভেতরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, কর্মীদের স্বস্তি নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনে সন্ধ্যা বা রাতের শিফটে কাজের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

তিনি তাপদাহের কারণে শ্রমিকদের হারানো কর্মঘণ্টার জন্য ক্ষতিপূরণের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

অপ্রাতিষ্ঠানিক শ্রমিকদের সুরক্ষাই বড় চ্যালেঞ্জ

তাপদাহ মোকাবিলায় স্বাস্থ্যবিমা ও সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার সুপারিশও এসেছে।

অ্যাডেলফি গ্লোবাল তাপদাহের কারণে নষ্ট হওয়া কর্মঘণ্টার ক্ষতিপূরণ, রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্যবিমা এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের শ্রম সুরক্ষার আওতায় আনার পরামর্শ দিয়েছে।

তবে বাংলাদেশের বাস্তবতায় এ ধরনের ব্যবস্থা কার্যকর করা সহজ নয়। নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য অতীতে পরিচালিত সর্বজনীন স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্পের অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, সবার জন্য বিমা সুবিধা চালু করা এবং তা টেকসই রাখা বড় ধরনের নীতিগত ও আর্থিক চ্যালেঞ্জ।

স্বাস্থ্য অর্থনীতিবিদ ডা. শাফিউন নাহিন শিমুলও তাপদাহজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকির আর্থিক প্রভাব নিয়ে দেশে পর্যাপ্ত গবেষণার ঘাটতির কথা উল্লেখ করেছেন।

এখনই প্রস্তুতির প্রয়োজন

তাপমাত্রা বৃদ্ধির বৈশ্বিক প্রবণতা একা বাংলাদেশ থামাতে পারবে না। তবে তাপদাহের কারণে সৃষ্ট মানবিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতি কমানোর জন্য আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ বাংলাদেশের রয়েছে।

এর জন্য তাপদাহকে শুধু একটি সাময়িক গরমের সমস্যা হিসেবে দেখলে চলবে না। এটি একই সঙ্গে জনস্বাস্থ্য, শ্রমবাজার, উৎপাদনশীলতা, দারিদ্র্য, সামাজিক নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির বিষয়।

ইউরোপের সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা দেখিয়ে দিয়েছে, শক্তিশালী অবকাঠামো ও সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকলেও চরম তাপদাহ প্রচলিত ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে।

বাংলাদেশের মতো দেশে ঝুঁকিটা আরও বেশি। কারণ এখানে লাখ লাখ মানুষ জীবিকার তাগিদে খোলা আকাশের নিচে কাজ করেন এবং তাদের বড় একটি অংশের নেই পর্যাপ্ত সামাজিক সুরক্ষা।

তাই তাপদাহ আরও ভয়াবহ রূপ নেওয়ার অপেক্ষা না করে এখনই কর্মক্ষেত্রে তাপ নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা, শ্রমিক সুরক্ষা, নগর পরিকল্পনা ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি।

কারণ তাপদাহের বিরুদ্ধে প্রস্তুতি শুধু মানুষের জীবন রক্ষার জন্য নয়—বাংলাদেশের আয়, কর্মসংস্থান, উৎপাদনশীলতা এবং ভবিষ্যৎ অর্থনীতিকে সুরক্ষিত রাখার জন্যও অপরিহার্য।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/16052 ,   Print Date & Time: Sunday, 30 August 2026, 05:45:18 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh