
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ইলেকট্রনিক্স খাতের প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি শেয়ারহোল্ডারদের জন্য মোট ১৯০ শতাংশ লভ্যাংশ দেওয়ার সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে ১৮০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ এবং ১০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ রয়েছে।
অর্থাৎ, ১০ টাকা মূল্যের প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে ১৮ টাকা নগদ লভ্যাংশ এবং প্রতি ১০টি সাধারণ শেয়ারের বিপরীতে একটি বোনাস শেয়ার দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) অনুষ্ঠিত কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী পর্যালোচনার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বেড়েছে শেয়ারপ্রতি আয়
ওয়ালটনের প্রকাশ করা মূল্য সংবেদনশীল তথ্য (পিএসআই) অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩.৭৫ টাকা। আগের অর্থবছর ২০২৪-২৫ সালে এই আয় ছিল ৩১.১১ টাকা।
অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ওয়ালটনের শেয়ারপ্রতি আয় বেড়েছে ২.৬৪ টাকা। কোম্পানিটির আর্থিক সক্ষমতা ও মুনাফা বৃদ্ধির পেছনে অর্থায়ন ব্যয় কমে যাওয়াকে অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
কমেছে অর্থায়ন ব্যয়
ওয়ালটনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কোম্পানিটির অর্থায়ন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। আলোচ্য বছরে অর্থায়ন ব্যয় ২৬৭.২৬ কোটি টাকা কমে মোট বিক্রয়ের ২.৪৫ শতাংশে নেমে এসেছে।
এর আগের অর্থবছর ২০২৪-২৫ সালে অর্থায়ন ব্যয় ছিল ৪৪৮.৪০ কোটি টাকা, যা ওই সময়ের মোট বিক্রয়ের ৬.৩৩ শতাংশের সমান ছিল।
অর্থায়ন ব্যয় কমে আসায় কোম্পানিটির মুনাফায় ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে জানিয়েছে ওয়ালটন।
শক্তিশালী হয়েছে নগদ প্রবাহ
মুনাফার পাশাপাশি ওয়ালটনের নগদ প্রবাহেও ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট অপারেটিং ক্যাশ ফ্লো বা এনওসিএফপিএস বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৩.৭২ টাকা।
আগের অর্থবছরে এই সূচক ছিল ৫২.৯১ টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে শেয়ারপ্রতি অপারেটিং নগদ প্রবাহ বেড়েছে ১০.৮১ টাকা।
কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রাহকদের কাছ থেকে বকেয়া আদায় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ায় নগদ প্রবাহে উন্নতি হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে গ্রাহকদের কাছ থেকে বকেয়া আদায়ের পরিমাণ ৬৯৪.৩৬ কোটি টাকা বা ৮.৮৪ শতাংশ বেড়েছে।
একই সময়ে সরবরাহকারীদের পাওনা পরিশোধের পরিমাণ ২.৩১ শতাংশ কমেছে। এই দুই পরিবর্তনের সম্মিলিত প্রভাবে কোম্পানির নগদ প্রবাহ আরও শক্তিশালী হয়েছে বলে জানিয়েছে ওয়ালটন।
বেড়েছে শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য
২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী, পুনর্মূল্যায়নসহ ওয়ালটনের শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য বা এনএভি দাঁড়িয়েছে ৩৮১.২৬ টাকা। এক বছর আগে এই পরিমাণ ছিল ৩৬৩.৪০ টাকা।
অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পুনর্মূল্যায়নসহ শেয়ারপ্রতি এনএভি বেড়েছে ১৭.৮৬ টাকা।
তবে পুনর্মূল্যায়ন বাদ দিলে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে ২৮০.২৪ টাকা।
‘গ্রিন এনার্জি প্রজেক্টে’ ব্যবহার হবে স্টক লভ্যাংশ
ওয়ালটন জানিয়েছে, প্রস্তাবিত ১০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশের অর্থ কোম্পানির বিএমআরই বা আধুনিকায়ন, সম্প্রসারণ ও পুনর্বিন্যাস কার্যক্রমের আওতায় পরিচালিত ‘গ্রিন এনার্জি প্রজেক্ট’-এর সক্ষমতা বাড়াতে ব্যবহার করা হবে।
এই প্রকল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে কারখানায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে কোম্পানিটির। উৎপাদন কার্যক্রমে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি জ্বালানি ব্যবস্থাপনায়ও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
রেকর্ড ডেট ২০ সেপ্টেম্বর
লভ্যাংশ পাওয়ার জন্য শেয়ারহোল্ডারদের যোগ্যতা নির্ধারণে আগামী ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করেছে ওয়ালটন।
লভ্যাংশের প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য কোম্পানিটির বার্ষিক সাধারণ সভা বা এজিএম আগামী ১৫ অক্টোবর বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় ভার্চুয়াল মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হবে।
সব মিলিয়ে আয়, নগদ প্রবাহ এবং সম্পদমূল্যের বিভিন্ন সূচকে ইতিবাচক পরিবর্তনের পাশাপাশি বড় অঙ্কের লভ্যাংশ দেওয়ার প্রস্তাব করেছে ওয়ালটন। ফলে কোম্পানিটির আর্থিক কর্মদক্ষতা এবং শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ঘোষিত সুবিধা—দুই দিকেই নতুন অর্থবছরের ফলাফলকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন বিনিয়োগকারীরা।