• হোম > বিদেশ > ডলার নির্ভরতা কমিয়ে উৎপাদন বাড়ানোর ডাক মোজতবা খামেনির

ডলার নির্ভরতা কমিয়ে উৎপাদন বাড়ানোর ডাক মোজতবা খামেনির

  • শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১৬:৪৬
  • ১৬

---

 

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

অর্থনৈতিক ও জীবনযাত্রাসংক্রান্ত সংকট মোকাবিলায় দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়ানো এবং অর্থনীতিতে মার্কিন ডলারের ব্যবহার ধীরে ধীরে কমিয়ে আনার ওপর জোর দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সরকার সপ্তাহ উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এ আহ্বান জানান। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসন, নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধের মধ্যেও জনগণের প্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবা নিশ্চিত করতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের প্রশংসা করেন তিনি।

অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব

অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় করণীয় তুলে ধরে মোজতবা খামেনি বলেন, মূল্যস্ফীতির মতো জীবনযাত্রাসংক্রান্ত সমস্যার পাশাপাশি দেশের উৎপাদন বাড়ানোর দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে অর্থনীতিতে মার্কিন ডলারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ধীরে ধীরে কমিয়ে আনার প্রয়োজন রয়েছে।

তার মতে, এসব সংকট মোকাবিলার অন্যতম প্রধান উপায় হলো যতটা সম্ভব দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের ওপর নির্ভর করা। যেসব পণ্য দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণে উৎপাদন সম্ভব নয়, সেগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী বিচক্ষণতার সঙ্গে আমদানি করতে হবে।

খামেনি বলেন, শেষ পর্যন্ত ‘প্রতিরোধী অর্থনীতি’র নীতিগুলোকে দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসতে হবে। অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও স্বনির্ভর করার মাধ্যমে সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।

সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের প্রশংসা

সরকার সপ্তাহ উপলক্ষে দেওয়া বার্তায় সরকারের কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপকদের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা। বিশেষভাবে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের আন্তরিক ও দায়িত্বশীল ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

খামেনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নানা বিধিনিষেধ, ষড়যন্ত্র, নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধের মধ্যেও জনগণের প্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবা নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো মেরামত এবং জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় সরকারের নেওয়া পদক্ষেপও প্রশংসনীয়।

গত ছয় মাসের যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি আগ্রাসনের সময় ইরানের জনগণ নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে প্রশাসনের বিভিন্ন শাখা থেকে প্রয়োজনীয় সেবা পাওয়া জনগণের অধিকার বলেও উল্লেখ করেন।

নতুন অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেই বার্তা

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেই মোজতবা খামেনি এই বার্তা দিয়েছেন। এর আগে সোমবার ওয়াশিংটন ইরানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামে নতুন অর্থনৈতিক অভিযান শুরু করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

খামেনি বলেন, যুদ্ধের সময় এবং পরবর্তী সময়ে শত্রুপক্ষের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড দেশের ওপর প্রভাব ফেললেও অর্থনীতির বিভিন্ন উপাদান আরও দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে জনগণ ও বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতা নেওয়া এবং নতুন সক্ষমতাগুলো কাজে লাগানোর মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথ তৈরি করা যেতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতার সমালোচনা

ইরানের শত্রুরা জনগণকে বোঝানোর চেষ্টা করছে যে উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথ তাদের অনুসরণ করা এবং তাদের দাবি মেনে নেওয়ার মধ্যেই রয়েছে—এমন অভিযোগ করেন খামেনি।

তিনি বলেন, ইসলামি বিপ্লবের আগের বহু বছর ধরে ইরান ও দেশটির সম্পদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আচরণ পর্যালোচনা করলে ভিন্ন চিত্র পাওয়া যায়। তাই দেশের উন্নয়নের জন্য নিজস্ব সক্ষমতা ও সম্পদের ওপর নির্ভরতা বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

প্রযুক্তি ও তরুণদের মেধা কাজে লাগানোর আহ্বান

দেশের অগ্রগতিতে তরুণ মেধাবীদের উদ্ভাবনী সক্ষমতা ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপরও গুরুত্ব দেন মোজতবা খামেনি।

তিনি বলেন, সময়মতো নতুন প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন কাজে লাগানো এবং প্রয়োজন অনুযায়ী প্রচলিত পদ্ধতি ও দীর্ঘদিনের অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসা দেশের উন্নয়নে কার্যকর পরিবর্তন আনতে পারে।

অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় শুধু প্রচলিত ব্যবস্থার ওপর নির্ভর না করে নতুন সক্ষমতা ও উদ্ভাবনী ধারণাকে কাজে লাগানোর পরামর্শ দেন তিনি।

হতাশাজনক বক্তব্যের বিষয়ে সতর্কতা

জাতীয় মনোবল ও উদ্দীপনা দুর্বল করে এমন বক্তব্যের বিরুদ্ধেও সতর্ক করেন খামেনি। তার মতে, জনগণের মধ্যে হতাশা তৈরি করে এমন বক্তব্য এবং কল্পিত বিভাজন দেশের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

যুদ্ধ না আলোচনা, ঐকমত্য না উগ্রতা কিংবা সমঝোতা না যুদ্ধংদেহী মনোভাব—এ ধরনের বিভাজনমূলক অবস্থান অতীতেও ইরানের জনগণের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ক্ষতি করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। ভবিষ্যতেও এসবের একই ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে সতর্ক করেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা।

জাতীয় ঐক্য ধরে রাখার আহ্বান

সামাজিক সংহতি ক্ষতিগ্রস্ত করে এমন কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানিয়ে খামেনি জাতীয় ঐক্য ধরে রাখার ওপর জোর দেন।

সরকারের সব কৌশল ও নীতিতে সংস্কৃতি, শিক্ষা এবং নৈতিক বিকাশকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথাও বলেন তিনি। তার মতে, অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ভিত্তি শক্তিশালী করাও দেশের দীর্ঘমেয়াদি অগ্রগতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

এ ছাড়া সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক, বিশ্ববিদ্যালয় ও ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, নার্স এবং চিকিৎসকদের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

পরিবারের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব

দেশের সাংস্কৃতিক ভবিষ্যৎ গঠনে পরিবারের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন মোজতবা খামেনি। সন্তানদের লালন-পালনের মাধ্যমে দেশের সাংস্কৃতিক ভবিষ্যৎ নির্মাণে গৃহিণীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সরকার সপ্তাহ উপলক্ষে দেওয়া বার্তায় সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আলী রাজাই, সাবেক প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি, সাবেক প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভাদ বাহোনার এবং বিভিন্ন সরকারের নিহত কর্মকর্তা, ব্যবস্থাপক ও মন্ত্রীদের স্মরণ করেন খামেনি।

প্রতি বছর সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আলী রাজাই ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভাদ বাহোনারের স্মরণে সরকার সপ্তাহ পালিত হয়। ১৯৮১ সালের ৩০ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বোমা হামলায় তারা নিহত হন।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/16040 ,   Print Date & Time: Sunday, 30 August 2026, 05:46:09 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh