
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মানবাধিকার ব্যক্তিত্ব আইরিন জুবাইদা খান জাতিসংঘে বাংলাদেশের নতুন স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের কাছে পরিচয়পত্র পেশ করেন তিনি।
শনিবার (২৯ আগস্ট) ঢাকায় প্রাপ্ত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। পরিচয়পত্র পেশের মধ্য দিয়ে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে আইরিন খানের দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা
মানবাধিকার, আন্তর্জাতিক আইন, শরণার্থী সুরক্ষা, আইনের শাসন ও টেকসই উন্নয়নসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে আইরিন খানের রয়েছে কয়েক দশকের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কারণে জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে তার দায়িত্বকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে কাজ করার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের কূটনৈতিক কার্যক্রমেও ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জাতিসংঘের স্পেশাল র্যাপোর্টিয়ার ছিলেন
আইরিন খান ২০২০ সাল থেকে মতামত ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অধিকার সুরক্ষা ও প্রসারবিষয়ক জাতিসংঘের স্পেশাল র্যাপোর্টিয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
এই দায়িত্বে থাকাকালে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, মানবাধিকার এবং নাগরিক অধিকারসংক্রান্ত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিষয়ে কাজ করেছেন তিনি। মানুষের মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতা রক্ষায় তার দীর্ঘদিনের ভূমিকা আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিতি পেয়েছে।
এর আগে ২০০১ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আইরিন খান। সংস্থাটির ইতিহাসে তিনিই ছিলেন প্রথম নারী মহাসচিব।
আইডিএলওর মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব
২০১২ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত আইরিন খান ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ল’ অর্গানাইজেশনের (আইডিএলও) মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় তিনি আইন, উন্নয়ন এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেন।
এর আগে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় (ইউএনএইচসিআর)-এ দীর্ঘ ২১ বছর কাজ করেন তিনি। সেখানে ভারতের চিফ অব মিশন এবং ডিভিশন অব ইন্টারন্যাশনাল প্রটেকশনের উপ-পরিচালকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন।
শরণার্থী সুরক্ষা ও মানবাধিকার নিয়ে দীর্ঘ এই কর্মজীবন তাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
সিডনি পিস প্রাইজে ভূষিত
মানবাধিকার ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৬ সালে মর্যাদাপূর্ণ সিডনি পিস প্রাইজে ভূষিত হন আইরিন খান। মানবাধিকার রক্ষা, শান্তি ও সামাজিক ন্যায়বিচারের পক্ষে তার দীর্ঘদিনের কাজের স্বীকৃতি হিসেবে এই পুরস্কার দেওয়া হয়।
আইরিন খান লেখালেখির সঙ্গেও যুক্ত। তিনি ‘দ্য আনহার্ড ট্রুথ: পভার্টি অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস’ গ্রন্থের লেখক। বইটিতে দারিদ্র্য ও মানবাধিকারের পারস্পরিক সম্পর্কসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।
আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা
আইরিন খান ইউনিভার্সিটি অব ম্যানচেস্টার এবং হার্ভার্ড ল’ স্কুলে আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। আইন, মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিষয়ে তার শিক্ষাগত ও পেশাগত অভিজ্ঞতা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তাকে একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করে দিয়েছে।
জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক কূটনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বের নতুন অধ্যায় শুরু হলো। মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের বিভিন্ন স্বার্থ ও অবস্থান জাতিসংঘে তুলে ধরতে সহায়ক হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।