• হোম > বাংলাদেশ | শিক্ষা > মেধার সঙ্গে মানবিক মূল্যবোধ অর্জনের আহ্বান ইউজিসি চেয়ারম্যানের

মেধার সঙ্গে মানবিক মূল্যবোধ অর্জনের আহ্বান ইউজিসি চেয়ারম্যানের

  • শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১৬:৩৩
  • ১৪

---

 

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

মেধা ও জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধে সমৃদ্ধ হয়ে দেশ ও সমাজের জন্য যোগ্য মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) নবীন শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ।

তিনি বলেছেন, শিক্ষার অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য শুধু জ্ঞান অর্জন নয়, বরং মানুষের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ ঘটানো। তাই বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে শিক্ষার্থীদের একদিকে যেমন নিজেদের মেধা ও দক্ষতা বিকশিত করতে হবে, অন্যদিকে সমাজে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও দায়িত্বশীলতার চর্চাও করতে হবে।

শনিবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক একটি প্রক্রিয়া। কঠোর প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে ভর্তি হওয়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মেধার উৎকর্ষ ও স্বপ্ন পূরণের যে যাত্রা শুরু হয়েছে, তা ধরে রাখতে হবে। নিজেদের লক্ষ্য অর্জনের জন্য তাদের নিয়মিত পরিশ্রম ও নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।

তিনি বলেন, জ্ঞানের আলোয় নিজেদের আলোকিত করতেই শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্জিত জ্ঞান, মেধা ও সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে দেশ ও সমাজকে আলোকিত করার দায়িত্বও তাদের নিতে হবে। উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকা সুযোগ-সুবিধা এবং অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ব্যবহার করার জন্য তিনি নবীনদের পরামর্শ দেন।

ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর আহ্বান

শিক্ষার সঙ্গে মানবিক মূল্যবোধের সম্পর্ক তুলে ধরে অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, একজন শিক্ষার্থীর প্রকৃত সাফল্য শুধু পরীক্ষার ফলাফল বা একাডেমিক অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি তাকে একজন মানবিক, নৈতিক ও দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবেও গড়ে উঠতে হবে।

তিনি বলেন, জীবনে ব্যর্থতা কিংবা হতাশা আসতেই পারে। এমন পরিস্থিতিতে নিজের সক্ষমতার ওপর আস্থা রাখতে হবে। ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন উদ্যমে আবার উঠে দাঁড়ানোর মানসিকতা তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে সমাজে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় শিক্ষার্থীদের ইতিবাচক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

মুক্তচিন্তা ও মতপ্রকাশের ওপর গুরুত্ব

বিশ্ববিদ্যালয়ে মুক্তচিন্তা ও মতপ্রকাশের পরিবেশের গুরুত্ব তুলে ধরে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যুক্তিনির্ভর মুক্তচিন্তা ও মতপ্রকাশের সুযোগ থাকা প্রয়োজন। তবে নিজের মত প্রকাশের সময় অন্যের অধিকার, মর্যাদা ও মতামতের প্রতি সম্মান দেখাতে হবে।

তিনি বলেন, অধিকার ও দায়িত্বের মধ্যে ভারসাম্য রেখে স্বাধীনতার চর্চা করতে হবে। মতের ভিন্নতা থাকলেও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহনশীলতা বজায় রাখা একটি সুস্থ শিক্ষাঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।

পড়াশোনার পাশাপাশি গবেষণা ও উদ্ভাবনে যুক্ত হওয়ার আহ্বান

শিক্ষার্থীদের শুধু শ্রেণিকক্ষ ও পাঠ্যবইয়ের মধ্যে নিজেদের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ না রাখার পরামর্শ দেন অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ। পড়াশোনার পাশাপাশি গবেষণা, খেলাধুলা, বিতর্ক, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, স্বেচ্ছাসেবা, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

যোগাযোগ, নেতৃত্ব, দলগতভাবে কাজ করা এবং সমস্যা সমাধানের দক্ষতা অর্জনের ওপরও গুরুত্ব দেন ইউজিসি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, বিশ্ব দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ বৈশ্বিক কর্মক্ষেতরের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় ও সমাজের মধ্যে সংযোগ বাড়ানোর তাগিদ

উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ ও সংযোগ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন ইউজিসি চেয়ারম্যান। তার মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্জিত জ্ঞান ও গবেষণার ফলাফল শুধু শিক্ষাঙ্গনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। মানুষের কল্যাণ এবং জাতীয় উন্নয়নে সেই জ্ঞান ও গবেষণাকে কাজে লাগাতে হবে।

অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমাজ ও দেশের প্রয়োজনের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও উদ্ভাবন যেন বাস্তব জীবনের সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখতে পারে, সেদিকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

রাবির উন্নয়নে ইউজিসির পরিকল্পনা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রসঙ্গে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়টির উন্নয়নে কমিশনের বিশেষ মনোযোগ রয়েছে। আগামী পাঁচ বছরের উন্নয়ন পরিকল্পনা পর্যালোচনা করে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বিভিন্ন চাহিদা পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ধাপে ধাপে স্মার্ট ক্যাম্পাসে রূপান্তরের উদ্যোগের কথাও জানান। আধুনিক প্রযুক্তি, গবেষণা ও শিক্ষা অবকাঠামোর সমন্বয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য আরও উন্নত শিক্ষার পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

নবীনবরণ অনুষ্ঠানে যারা ছিলেন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাবির উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. আব্দুল আলিম এবং উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মামুনুর রশীদ। এছাড়া বক্তব্য দেন ছাত্র-উপদেষ্টা অধ্যাপক এ এইচ এম খুরশীদ আলম এবং প্রক্টর অধ্যাপক মো. মাহবুবর রহমান।

নতুন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ইউজিসি চেয়ারম্যানের বক্তব্যে একদিকে যেমন উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ উঠে এসেছে, অন্যদিকে মানবিক মূল্যবোধ, নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ ও সহনশীলতার মতো গুণাবলি অর্জনের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের শুরুতেই নবীনদের জ্ঞান ও দক্ষতার পাশাপাশি মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার বার্তা দেওয়া হয়েছে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/16034 ,   Print Date & Time: Sunday, 30 August 2026, 06:27:50 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh