
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
বাংলাদেশ ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যবসা, বিনিয়োগ, পেশাগত সহযোগিতা ও আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব আরও জোরদারের লক্ষ্য নিয়ে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক আয়োজন ‘এনআরবি ওয়ার্ল্ড সামিট ২০২৬’। আগামী ২৮ ও ২৯ ডিসেম্বর রাজধানীর শেরাটন হোটেলে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, এই সামিটের মাধ্যমে দেশ ও প্রবাসের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ ও সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি হবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রবাসী বাংলাদেশি উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবী, শিক্ষাবিদ, গবেষক, তথ্যপ্রযুক্তি পেশাজীবী, নীতিনির্ধারক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা সম্মেলনে অংশ নেবেন।
বিজনেস আমেরিকা ম্যাগাজিনের উদ্যোগে এবং অর্থকণ্ঠ, এনআরবি ওয়ার্ল্ড ও গ্লোবাল এনআরবি চেম্বারের সহযোগিতায় এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করা হচ্ছে।
প্রথম দিনে গ্লোবাল হেলথ সামিট
সামিটের প্রথম দিন ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে ‘গ্লোবাল হেলথ সামিট ২০২৬’। স্বাস্থ্যসেবা খাতের বর্তমান চ্যালেঞ্জ, চিকিৎসা প্রযুক্তির অগ্রগতি, উদ্ভাবন, বিনিয়োগ, গবেষণা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে এদিন আলোচনা হবে।
দেশ ও প্রবাসের খ্যাতনামা চিকিৎসক, স্বাস্থ্যসেবা বিশেষজ্ঞ, গবেষক, বিনিয়োগকারী এবং সংশ্লিষ্ট খাতের প্রতিনিধিরা বিভিন্ন সেমিনার ও আলোচনায় অংশ নেবেন। স্বাস্থ্যসেবা খাতে বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জ্ঞান ও প্রযুক্তি বিনিময়ের সম্ভাবনাও আলোচনায় গুরুত্ব পাবে।
আয়োজকদের মতে, বাংলাদেশি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবীদের সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞদের যোগাযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে চিকিৎসা, গবেষণা ও প্রযুক্তি খাতে নতুন সহযোগিতার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
বিনিয়োগ ও বাণিজ্যে গুরুত্ব দ্বিতীয় দিনে
সামিটের দ্বিতীয় দিনজুড়ে থাকবে এনআরবি বিনিয়োগ, বাণিজ্য, প্রবাসী সম্পৃক্ততা, পেশাগত জ্ঞান বিনিময় এবং বৈশ্বিক অংশীদারত্ব নিয়ে বিভিন্ন অধিবেশন।
বাংলাদেশের ব্যবসায়ী গ্রুপ, চেম্বার ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ও পেশাজীবীরা এসব অধিবেশনে অংশ নেবেন।
এর মাধ্যমে দেশীয় ব্যবসায়ী ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে নতুন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা এবং সম্ভাবনাময় ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব তৈরির উদ্যোগ থাকবে। বিশেষ করে বিনিয়োগ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ততার সুযোগ নিয়ে আলোচনা হবে।
অংশ নেবেন নীতিনির্ধারক ও কূটনীতিকরা
আয়োজকরা জানিয়েছেন, এনআরবি ওয়ার্ল্ড সামিট ২০২৬-এ বাংলাদেশের উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারক, কূটনীতিক, ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন পেশার প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন।
সম্মেলনে দেশের অর্থনীতি, বিনিয়োগ পরিবেশ এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময়ের সুযোগ থাকবে। একই সঙ্গে প্রবাসী উদ্যোক্তা ও পেশাজীবীদের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে কীভাবে কাজে লাগানো যায়, সে বিষয়েও আলোচনা হবে।
এ ছাড়া বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা প্রবাসী বাংলাদেশিদের সম্মান জানাতে সম্মেলনে প্রদান করা হবে ‘এনআরবি অ্যাওয়ার্ড’। দেশের বাইরে থেকেও বাংলাদেশের অর্থনীতি, ব্যবসা, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, প্রযুক্তি ও অন্যান্য ক্ষেত্রে অবদান রাখা ব্যক্তিদের স্বীকৃতি দেওয়ার মাধ্যমে তাদের কাজকে উৎসাহিত করাই এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।
দেশ-প্রবাসের মধ্যে দ্বিমুখী সেতুবন্ধ
আয়োজকদের মতে, এনআরবি ওয়ার্ল্ড সামিট ২০২৬-এর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে দেশ ও প্রবাসের মধ্যে একটি কার্যকর ও দ্বিমুখী সেতুবন্ধ তৈরি করা।
প্রবাসী বাংলাদেশি উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের দেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করার পাশাপাশি বিভিন্ন খাতে দক্ষ প্রবাসী পেশাজীবীদের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি করা হবে।
বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি পেশাজীবী ও উদ্যোক্তা কাজ করছেন। তাদের অর্জিত অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ দেশের অর্থনীতি ও ব্যবসায়িক খাতের উন্নয়নে কাজে লাগানোর বড় সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সম্ভাবনাকে একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার লক্ষ্যেই এবারের সামিট আয়োজন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।
দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার প্রত্যাশা
দুই দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনের মাধ্যমে বাংলাদেশি প্রবাসীদের সঙ্গে দেশের ব্যবসা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, প্রযুক্তি, বিনিয়োগসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন খাতের দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে উঠবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।
তাদের প্রত্যাশা, সামিটে আলোচনার পাশাপাশি ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী ও পেশাজীবীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ তৈরি হবে। এর ফলে ভবিষ্যতে যৌথ বিনিয়োগ, ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব, জ্ঞান বিনিময় এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
সব মিলিয়ে এনআরবি ওয়ার্ল্ড সামিট ২০২৬ দেশ ও প্রবাসের মধ্যে সম্পর্ককে আরও কার্যকর ও ফলপ্রসূ করার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।