• হোম > রাজনীতি > হাসনাতের বক্তব্য ঘিরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এনসিপি-কওমি শিক্ষার্থী উত্তেজনা

হাসনাতের বক্তব্য ঘিরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এনসিপি-কওমি শিক্ষার্থী উত্তেজনা

  • শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১৫:৫১
  • ১৭

---

 

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

জাতীয় সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অন্যতম শীর্ষ নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এনসিপি ও স্থানীয় কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘিরে পরিস্থিতি আরও আলোচনায় এসেছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে শনিবার (২৯ আগস্ট) এনসিপির পূর্বনির্ধারিত একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি আয়োজনের কথা ছিল। ওই কর্মসূচি প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছে ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ’। একই ভেন্যুতে তারা পাল্টা একটি ইসলামি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে।

হাসনাতের বক্তব্যের প্রতিবাদে পাল্টা কর্মসূচি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আবদুল খালেক বলেন, সংসদে হাসনাত আবদুল্লাহ ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে নিয়ে ‘অসত্য’ বক্তব্য দিয়েছেন। এ কারণে তাকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল।

তবে হাসনাত আবদুল্লাহ ক্ষমা না চাওয়ায় পাল্টা কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

আবদুল খালেক বলেন, হাসনাত আবদুল্লাহ ক্ষমা না চাওয়ায় তারা আজকের কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। এর অংশ হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে একটি ইসলামি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করার পরিকল্পনা রয়েছে।

কোনো পক্ষকেই অনুমতি দেয়নি প্রশাসন

পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি নিয়ে উত্তেজনার মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, কোনো পক্ষের কর্মসূচির জন্যই প্রশাসনিক অনুমতি দেওয়া হয়নি।

জেলা প্রশাসক (ডিসি) আবু সাঈদ বলেন, এনসিপির পক্ষ থেকে প্রশাসনকে জানানো হয়েছিল যে তারা শিল্পকলা একাডেমিতে একটি ঘরোয়া বা ইনডোর অনুষ্ঠান করবে। কিন্তু এটি যে রাজনৈতিক সমাবেশ, সে বিষয়টি স্পষ্টভাবে জানানো হয়নি।

তিনি বলেন, শিল্পকলা একাডেমি রাজনৈতিক কর্মসূচির জন্য ব্যবহারের জায়গা নয়। তাই এ ধরনের কর্মসূচির জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়।

কওমি শিক্ষার্থীদের ঘোষিত কর্মসূচির বিষয়েও প্রশাসনের কাছে কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি বলে জানান জেলা প্রশাসক।

তিনি বলেন, তাদের পক্ষ থেকে কর্মসূচির বিষয়ে প্রশাসনের কাছে কোনো তথ্য বা অনুমতি চাওয়া হয়নি। ফলে তাদের কর্মসূচিতেও শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তন ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।

কর্মসূচি নিয়ে এনসিপির বক্তব্য

তবে এনসিপির কেন্দ্রীয় সংগঠক আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জিহাদ প্রশাসনের বক্তব্যের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেছেন। তাঁর দাবি, এনসিপির পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসনকে সুনির্দিষ্টভাবেই জানানো হয়েছিল যে শিল্পকলা একাডেমিতে একটি ঘরোয়া রাজনৈতিক কর্মসূচি আয়োজন করা হবে।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, রাজনৈতিক কর্মসূচি ইনডোরে আয়োজন করা যায় না কি না।

আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জিহাদ জানান, বিষয়টি নিয়ে তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করছেন। একই সঙ্গে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি যথানিয়মে অনুষ্ঠিত হবে বলেও তিনি দাবি করেন।

সংসদে কী বলেছিলেন হাসনাত আবদুল্লাহ

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কিশোরগঞ্জের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নিয়ে কথা বলেন হাসনাত আবদুল্লাহ।

তিনি অভিযোগ করেন, কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ লাইন্সে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বন্ধ বা বাতিল করার পরও সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে সরকারের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্যের একটি অংশকে কেন্দ্র করেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে, যেখানে সুস্থ ও স্বাভাবিক সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘিরে বাড়ছে উত্তেজনা

হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্যের প্রতিবাদ, এনসিপির রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং কওমি শিক্ষার্থীদের পাল্টা সাংস্কৃতিক আয়োজন—সব মিলিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

একদিকে এনসিপি তাদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার কথা বলছে, অন্যদিকে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদও একই ভেন্যুতে পাল্টা কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে। তবে জেলা প্রশাসন কোনো পক্ষকেই শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তন ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ায় শেষ পর্যন্ত কর্মসূচিগুলো কীভাবে এবং কোথায় অনুষ্ঠিত হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এ অবস্থায় পরিস্থিতি যাতে আরও উত্তপ্ত না হয় এবং কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে প্রশাসনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক কর্মসূচি ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে যে বিরোধ তৈরি হয়েছে, তা আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের বিষয়টিও সামনে এসেছে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/16014 ,   Print Date & Time: Sunday, 30 August 2026, 05:45:15 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh