• হোম > ক্রিকেট | খেলা > দিনুশার বীরত্বে কলম্বো টেস্টে ভারতের জয় হাতছাড়া

দিনুশার বীরত্বে কলম্বো টেস্টে ভারতের জয় হাতছাড়া

  • বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬, ১৯:৩০
  • ৭৬

---

 

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

কলম্বো টেস্টে ভারতের নিশ্চিত জয় যেন হাতছাড়া করে দিলেন শ্রীলঙ্কার বাঁহাতি ব্যাটার সোনাল দিনুশা। টেলএন্ডারদের নিয়ে অবিশ্বাস্য প্রতিরোধ গড়ে তুলে শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ড্র করাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। তার দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে শেষ দিনে ৪ উইকেট তুলে নিয়ে দুই ম্যাচের সিরিজ ২-০ ব্যবধানে জয়ের ভারতের স্বপ্ন পূরণ হয়নি।

পঞ্চম দিনে শ্রীলঙ্কার শেষ চার উইকেট তুলে নিতে ভারতের হাতে ছিল পর্যাপ্ত সময়। কিন্তু ৮১ ওভার ২ বল ব্যাট করে শ্রীলঙ্কা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে। শেষ পর্যন্ত ২১৬ রানের লিড নিয়ে ইনিংস ঘোষণা করে স্বাগতিকরা। এরপর জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় সময় না থাকায় ভারত ব্যাটিংয়ে না নেমেই ড্র মেনে নেয়। ফলে দুই ম্যাচের সিরিজ ১-০ ব্যবধানে জিতে নেয় ভারত।

এই ড্রয়ের নেপথ্যে সবচেয়ে বড় অবদান দিনুশার। প্রথম ইনিংসের পর দ্বিতীয় ইনিংসেও সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে ভারতীয় বোলারদের হতাশ করেন ২৫ বছর বয়সী এই ব্যাটার। ২৬৪ বল মোকাবিলা করে ১৩৩ রানের অপরাজিত বীরত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন তিনি।

টেলএন্ডারদের নিয়ে দিনুশার লড়াই

ফলোঅনে পড়া শ্রীলঙ্কা চতুর্থ দিনের শেষে ১৬ রানের লিড নিতে গিয়ে ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল। দলের সেই কঠিন পরিস্থিতিতে ব্যাট হাতে দায়িত্ব নেন দিনুশা। তাকে দারুণভাবে সঙ্গ দেন আট নম্বরে ব্যাট করতে নামা কেশারা নুয়ান্থা।

সপ্তম উইকেট জুটিতে দিনুশা ও নুয়ান্থা ২৪৬ বল মোকাবিলা করে ১১২ রান যোগ করেন। ১৫০ বলে ৪৬ রান করে নুয়ান্থা ফিরে গেলেও থামেননি দিনুশা। এরপর স্পিনার প্রবাথ জয়সুরিয়ার সঙ্গে অষ্টম উইকেটে আরও ৭১ বল খেলেন তিনি।

২৮ বলে মাত্র ২ রান করা জয়সুরিয়াকে রবীন্দ্র জাদেজা ফিরিয়ে দিলে ভারতের সামনে আবারও জয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়। কিন্তু সেই আশাও দ্রুত ফিকে হয়ে যায়। নবম উইকেটে লাহিরু কুমারাকে সঙ্গে নিয়ে ভারতীয় বোলারদের আরও দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় রাখেন দিনুশা।

এই জুটিতে ১৭০ বল মোকাবিলা করে ৪৭ রান যোগ করেন তারা। এর মধ্যেই নিজের টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন দিনুশা। শেষ পর্যন্ত ২৬৪ বলে ১৩৩ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি।

টেস্ট ইতিহাসে বিরল কীর্তি

কলম্বো টেস্টে দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি করে বিরল এক কীর্তি গড়েছেন সোনাল দিনুশা। ফলোঅনে পড়া কোনো দলের হয়ে দুই ইনিংসেই শতরান করার ইতিহাসে মাত্র তৃতীয় ক্রিকেটার তিনি।

এর আগে ভারতের বিজয় হাজারে এবং জিম্বাবুয়ের অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার এই কীর্তি গড়েছিলেন।

১৯৪৮ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অ্যাডিলেড টেস্টে ভারতের বিজয় হাজারে প্রথম ইনিংসে ১১৬ এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ১৪৫ রান করেছিলেন। এরপর ২০০১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে হারারে টেস্টে জিম্বাবুয়ের অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার প্রথম ইনিংসে ১৪১ এবং দ্বিতীয় ইনিংসে অপরাজিত ১৯৯ রান করেন।

ক্যারিয়ারের মাত্র পঞ্চম টেস্টেই এমন বিরল অর্জনে নিজের নাম লেখালেন দিনুশা। একই সঙ্গে এই সিরিজে এটি তার তৃতীয় সেঞ্চুরি।

শেষ উইকেটেও হার মানেননি দিনুশা

লাহিরু কুমারাকে ৯০ বলে ১২ রানে ফিরিয়ে আবারও ভারতের জয়ের আশা জাগান রবীন্দ্র জাদেজা। তখন শ্রীলঙ্কার হাতে ছিল মাত্র একটি উইকেট। কিন্তু শেষ উইকেটে আসিথা ফার্নান্দোকে নিয়ে ভারতের জয় আটকে দেন দিনুশা।

দুজন মিলে শেষ উইকেটে ৫৬ বল অবিচ্ছিন্ন থেকে শ্রীলঙ্কার লিড ২১৬ রানে নিয়ে যান। এরপর ইনিংস ঘোষণা করে স্বাগতিকরা।

ভারতের সামনে জয়ের জন্য পর্যাপ্ত সময় না থাকায় সফরকারীরা শেষ পর্যন্ত ব্যাটিংয়ে নামেনি। নির্ধারিত সময়ের ১৭ ওভার আগেই ম্যাচ ড্র মেনে নেয় তারা।

ভারতের সিরিজ জয়, তবে ২-০ হলো না

কলম্বো টেস্ট ড্র হওয়ায় দুই ম্যাচের সিরিজ ১-০ ব্যবধানে জিতে নিয়েছে ভারত। প্রথম টেস্টে জয় পাওয়ায় সিরিজে এগিয়ে ছিল শুভমান গিলের দল। দ্বিতীয় টেস্টেও জয়ের খুব কাছে পৌঁছে গিয়েছিল তারা।

কিন্তু দিনুশার অসাধারণ প্রতিরোধ ভারতের সেই সম্ভাবনাকে শেষ পর্যন্ত বাস্তবে রূপ নিতে দেয়নি। বিশেষ করে টেলএন্ডারদের সঙ্গে নিয়ে তার দীর্ঘ সময় ব্যাট করা শ্রীলঙ্কাকে ম্যাচ বাঁচানোর সুযোগ করে দেয়।

পঞ্চম দিনে ভারতীয় বোলাররা একের পর এক উইকেট তুলে নিলেও দিনুশাকে কিছুতেই থামাতে পারেননি। ফলে ম্যাচের ফল ভারতের পক্ষে না গিয়ে ড্রতেই শেষ হয়।

দিনুশার ব্যাটেই শ্রীলঙ্কার ঘুরে দাঁড়ানো

কলম্বো টেস্টের শেষ দিনে শ্রীলঙ্কার ব্যাটিংয়ের মূল প্রতীক হয়ে ওঠেন দিনুশা। একদিকে যখন নিয়মিত ব্যাটাররা সাজঘরে ফিরছিলেন, তখন একাই প্রতিরোধ গড়ে তোলেন তিনি। তার সঙ্গে লোয়ার অর্ডারের ব্যাটারদের ছোট ছোট জুটি শ্রীলঙ্কাকে বড় লিড এনে দেয়।

শেষ পর্যন্ত ২১৬ রানের লিড নিয়ে ইনিংস ঘোষণা করে শ্রীলঙ্কা। আর সেই লিডই ভারতকে জয়ের সুযোগ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।

দিনুশার ১৩৩ রানের ইনিংস তাই শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, শ্রীলঙ্কার জন্য ম্যাচ বাঁচানোর অন্যতম প্রধান কারণও। ভারতের বিপক্ষে কঠিন পরিস্থিতিতে এমন ব্যাটিং করে তিনি কলম্বো টেস্টের শেষ দিনের নায়ক হয়ে ওঠেন।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/15975 ,   Print Date & Time: Sunday, 18 October 2026, 04:04:42 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh