• হোম > বাণিজ্য > ২৫ টাকা ইউনিটে বর্জ্যের বিদ্যুৎ কিনবে সরকার

২৫ টাকা ইউনিটে বর্জ্যের বিদ্যুৎ কিনবে সরকার

  • বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬, ১৫:৫০
  • ৪৬

---

 

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

ঢাকার আমিনবাজারের ল্যান্ডফিলে জমা হওয়া বর্জ্য কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছে চীনা একটি কোম্পানি। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রতিদিনের বিপুল পরিমাণ বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি সেখান থেকে ৪২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে।

আগামী ১৮ মাসের মধ্যে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। উৎপাদিত এই বিদ্যুৎ সরকার প্রতি ইউনিট ২৫ টাকা দরে কিনবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রকল্পটির বিষয়ে বিস্তারিত জানান প্রতিমন্ত্রী।

মীর শাহে আলম বলেন, আগামী দেড় বছরের মধ্যে চীন আমিনবাজারের বর্জ্য থেকে উৎপাদিত ৪২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করবে। অর্থাৎ ঢাকার ময়লা-আবর্জনাকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে একই সঙ্গে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জ্বালানি উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হবে।

২ সেপ্টেম্বর চীনে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি

প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক ত্রিপক্ষীয় চুক্তি আগামী ২ সেপ্টেম্বর চীনের বেইজিংয়ে হওয়ার কথা রয়েছে। প্রকল্পটি নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে ইতোমধ্যে চুক্তি হয়েছে। পরবর্তী সময়ে বিনিয়োগকারী ব্যাংক, প্রকল্প বাস্তবায়নকারী কোম্পানি এবং বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে চূড়ান্ত অর্থায়ন চুক্তি সম্পন্ন হবে।

প্রকল্পের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, এতে বাংলাদেশ সরকারের সরাসরি বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে না। চীনা বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে এবং আমিনবাজারের ল্যান্ডফিল ব্যবহারের জন্য সিটি করপোরেশনকে নির্দিষ্ট হারে মাসিক ভাড়া দেবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতি ইউনিট ২৫ টাকা দরে বিদ্যুৎ কেনার বিষয়টি প্রথম দৃষ্টিতে বেশি মনে হতে পারে। তবে শুধু বিদ্যুতের দাম দিয়ে প্রকল্পটির অর্থনৈতিক সুবিধা বিচার করলে পুরো চিত্র পাওয়া যাবে না। কারণ প্রকল্পের মাধ্যমে একদিকে ঢাকার বর্জ্য অপসারণ ও ব্যবস্থাপনা হবে, অন্যদিকে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ এবং জৈব সার উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হবে।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নতুন সম্ভাবনা

ঢাকার জন্য বর্জ্য ব্যবস্থাপনা দীর্ঘদিন ধরেই একটি বড় চ্যালেঞ্জ। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বর্জ্য উৎপাদন হওয়ায় তা সংগ্রহ, পরিবহন ও নির্দিষ্ট স্থানে সংরক্ষণ করতে সিটি করপোরেশনকে বড় ধরনের অবকাঠামো ও অর্থ ব্যয় করতে হয়।

আমিনবাজারের ল্যান্ডফিলে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বর্জ্যকে শুধু ফেলে রাখার পরিবর্তে তা থেকে অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সুবিধা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। প্রকল্পে বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করার পর অবশিষ্ট অংশ থেকেও জৈব সার তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।

মীর শাহে আলমের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটির পরিবেশগত সুবিধাও গুরুত্বপূর্ণ। বর্জ্যের পরিমাণ কমানো, ল্যান্ডফিলের ওপর চাপ হ্রাস এবং বর্জ্যকে উৎপাদনশীল কাজে ব্যবহার করার মাধ্যমে ঢাকার পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

তিনি বলেন, বর্জ্য ঢাকার জন্য একটি বড় বোঝা। সেই বর্জ্য যদি বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করা যায় এবং একই সঙ্গে পরিবেশগত ক্ষতি কমানো সম্ভব হয়, তাহলে প্রকল্পটির সামগ্রিক সুবিধা বিবেচনা করা প্রয়োজন।

দক্ষিণ সিটির ল্যান্ডফিলেও বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ

শুধু আমিনবাজার নয়, ঢাকার দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ল্যান্ডফিলের বর্জ্য থেকেও বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি জানান, চীনের পাওয়ার চায়না নামে একটি কোম্পানি বাংলাদেশের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। প্রতিষ্ঠানটিকে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ল্যান্ডফিলে জমে থাকা বর্জ্য ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রীর মতে, ওই ল্যান্ডফিলের বর্জ্য থেকেও প্রতিদিন প্রায় ৪০ থেকে ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে ঢাকার বিভিন্ন ল্যান্ডফিলের বর্জ্যকে কাজে লাগিয়ে জাতীয় গ্রিডে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদ্যুৎ যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

চট্টগ্রাম ও মোংলা নিয়েও চীনের আগ্রহ

বৈঠকে বাংলাদেশে চীনের অন্যান্য সম্ভাব্য বিনিয়োগ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। মীর শাহে আলম জানান, চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং মোংলা বন্দর উন্নয়নেও চীনের আগ্রহ রয়েছে।

বিশেষ করে মোংলা বন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে এর যোগাযোগ ও সংযোগ বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। দেশের বন্দর অবকাঠামো উন্নয়ন ও আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়াতে এসব প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে আমিনবাজারের ল্যান্ডফিলে বর্জ্য থেকে ৪২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের নতুন একটি পথ খুলবে। তবে প্রতি ইউনিট ২৫ টাকা দরে বিদ্যুৎ কেনার খরচ তুলনামূলক বেশি হলেও সরকার ও সিটি করপোরেশনের সরাসরি বিনিয়োগ না থাকা, ল্যান্ডফিল ব্যবহারের ভাড়া পাওয়া, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশগত সুবিধাকে প্রকল্পটির সামগ্রিক লাভের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

 

 


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/15957 ,   Print Date & Time: Sunday, 30 August 2026, 07:32:27 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh