• হোম > অর্থনীতি > ১৭ ব্যাংক দিচ্ছে ৪১ হাজার কোটি, সচল হবে অর্থনীতি

১৭ ব্যাংক দিচ্ছে ৪১ হাজার কোটি, সচল হবে অর্থনীতি

  • বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬, ১৪:৫৫
  • ৮৬

---

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক:

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা কলকারখানা পুনরায় চালু, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং স্থবির অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষিত ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নে অগ্রগতি হয়েছে। এ প্যাকেজের আওতায় ১৭টি ব্যাংক থেকে ৪১ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।

গত ২৩ মে দেশের অর্থনীতিতে উৎপাদন ও বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরায় চালুর লক্ষ্যে এই বড় আকারের প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিকল্পনা অনুযায়ী, মোট ৬০ হাজার কোটি টাকার এই প্যাকেজে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে ৪১ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে। বাকি ১৯ হাজার কোটি টাকা বাংলাদেশ ব্যাংক নিজস্ব তহবিল থেকে সরবরাহ করবে।

প্রণোদনা প্যাকেজে অর্থ দিতে সম্মত হওয়া ১৭টি ব্যাংক হলো—সোনালী ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, এনসিসি ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক ও সাউথইস্ট ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য শুধু আর্থিক সহায়তা দেওয়া নয়; বরং বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পকারখানাগুলোকে উৎপাদনে ফিরিয়ে এনে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানো। দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদনের বাইরে থাকা শিল্পপ্রতিষ্ঠান চালু হলে সংশ্লিষ্ট খাতে বিনিয়োগের পাশাপাশি শ্রমবাজারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান এর আগে এক ব্রিফিংয়ে জানিয়েছিলেন, ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজটি মূলত একটি ‘উৎপাদন ও কর্মসংস্থান পুনরুদ্ধার’ কর্মসূচি। এর মাধ্যমে প্রায় ২৫ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির আশা করা হচ্ছে।

বন্ধ শিল্প পুনরায় চালুতে ২০ হাজার কোটি টাকা

প্রণোদনা প্যাকেজের সবচেয়ে বড় অংশ বরাদ্দ রাখা হয়েছে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা শিল্পকারখানা পুনরায় চালুর জন্য। এ খাতে ২০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এই তহবিল থেকে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের তুলনামূলক কম সুদে ঋণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। উদ্যোক্তারা গড়ে সাড়ে ৭ শতাংশ সুদে এ অর্থায়ন সুবিধা পাবেন। এর মাধ্যমে বন্ধ কারখানার যন্ত্রপাতি সংস্কার, উৎপাদন পুনরায় শুরু এবং প্রয়োজনীয় বিনিয়োগে সহায়তা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো আবার উৎপাদনে ফিরলে একদিকে যেমন নতুন করে কর্মসংস্থান তৈরি হবে, অন্যদিকে দেশীয় উৎপাদন বাড়ার ফলে অর্থনীতিতেও গতি আসবে।

বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্য

সাম্প্রতিক সময়ে বেসরকারি বিনিয়োগে স্থবিরতা এবং শিল্পখাতে নানা চ্যালেঞ্জের কারণে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যে ধীরগতি তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে ওঠার লক্ষ্যেও প্রণোদনা প্যাকেজটি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

ব্যাংকিং খাতের অর্থায়নের মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে উৎসাহিত করা হলে নতুন শিল্প স্থাপন, পুরোনো শিল্পের উৎপাদন বাড়ানো এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে শিল্পকারখানার উৎপাদন বাড়লে সরবরাহব্যবস্থা, পরিবহন, কাঁচামাল ও অন্যান্য সহযোগী খাতেও কর্মচাঞ্চল্য বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

২৫ লাখ কর্মসংস্থানের প্রত্যাশা

বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষিত প্রণোদনা কর্মসূচির অন্যতম বড় লক্ষ্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি। গভর্নরের বক্তব্য অনুযায়ী, এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় ২৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বিশেষ করে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা কারখানাগুলো পুনরায় চালু করা গেলে সেখানে সরাসরি কর্মসংস্থানের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরবরাহকারী, পরিবেশক ও সেবা খাতেও পরোক্ষ কর্মসংস্থান তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সব মিলিয়ে, ১৭টি ব্যাংকের কাছ থেকে ৪১ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের চুক্তি সম্পন্ন হওয়াকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন এই অর্থ দ্রুত ও কার্যকরভাবে নির্ধারিত খাতে বিতরণ করা গেলে বন্ধ শিল্প চালু, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

 


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/15923 ,   Print Date & Time: Saturday, 10 October 2026, 02:27:51 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh