
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
মুক্তির আগেই বক্স অফিসে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে দক্ষিণী তারকা যশ অভিনীত বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘টক্সিক: এ ফেয়ারিটেল ফর গ্রোন-আপস’। অগ্রিম টিকিট বিক্রির গতি দেখে সিনেমাটি মুক্তির প্রথম দিনেই বিশ্বব্যাপী ১০০ কোটি রুপির বেশি আয় করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গীতু মোহনদাস পরিচালিত গ্যাংস্টার অ্যাকশন-ড্রামা সিনেমাটি বুধবার (২৬ আগস্ট) বিশ্বব্যাপী প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে। ‘কেজিএফ: চ্যাপ্টার ২’-এর ব্যাপক সাফল্যের পর বড় পর্দায় যশের নতুন সিনেমা হওয়ায় দর্শকদের মধ্যে শুরু থেকেই তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ।
ভারতীয় বক্স অফিসে অগ্রিম টিকিট বিক্রির হিসাবও সেই প্রত্যাশারই প্রতিফলন দিচ্ছে। স্যাকনিল্কের তথ্য অনুযায়ী, উদ্বোধনী দিনের জন্য ‘টক্সিক’-এর ১০ লাখের বেশি টিকিট বিক্রি হয়েছে। ভারতে ব্লক করা আসন বাদ দিয়ে অগ্রিম বুকিং থেকে সিনেমাটির আয় ৩৫ কোটি রুপি ছাড়িয়েছে। ব্লক করা আসনসহ এই অঙ্ক ৪৬ কোটি রুপির বেশি।
কর্ণাটক ও হিন্দি বাজারে বেশি চাহিদা
অগ্রিম বুকিংয়ে সবচেয়ে বেশি সাড়া দেখা যাচ্ছে কর্ণাটক ও হিন্দিভাষী বাজারে। যশের নিজ রাজ্য কর্ণাটকে সিনেমাটি নিয়ে দর্শকদের উন্মাদনা বেশ চোখে পড়ার মতো। পাশাপাশি হিন্দি সংস্করণ নিয়েও তৈরি হয়েছে শক্তিশালী আগ্রহ।
অগ্রিম টিকিট বিক্রির এই গতি অব্যাহত থাকলে শুধু ভারতেই প্রথম দিনে সিনেমাটির আয় ৬০ কোটি রুপি ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের প্রত্যাশা, ভারতে প্রথম দিনে ‘টক্সিক’ ৮০ থেকে ১০০ কোটি রুপি গ্রস আয় করতে পারে। এর মধ্যে শুধু হিন্দি সংস্করণ থেকেই ৪০ কোটি রুপির বেশি আয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশ্বজুড়ে ১০০ থেকে ১২০ কোটির সম্ভাবনা
ভারতের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও ‘টক্সিক’ নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ রয়েছে। সব মিলিয়ে সিনেমাটি মুক্তির প্রথম দিনেই বিশ্বব্যাপী ১০০ থেকে ১২০ কোটি রুপি আয় করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রত্যাশা অনুযায়ী ব্যবসা করতে পারলে ‘কেজিএফ: চ্যাপ্টার ২’-এর পর ‘টক্সিক’ হতে পারে দ্বিতীয় কোনো কন্নড় সিনেমা, যা মুক্তির প্রথম দিনেই বিশ্বব্যাপী ১০০ কোটি রুপির বেশি আয় করবে।
সিনেমাটির প্রতি দর্শকদের আগ্রহের পেছনে যশের প্যান-ইন্ডিয়া জনপ্রিয়তা, ‘কেজিএফ’ ফ্র্যাঞ্চাইজির ব্যাপক প্রভাব, একাধিক ভাষায় মুক্তি এবং একই সময়ে বড় কোনো সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বী সিনেমা না থাকার বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
ছয় ভাষায় মুক্তি, ‘এ’ সার্টিফিকেট
‘টক্সিক’ মুক্তি পেয়েছে ‘এ’ সার্টিফিকেট নিয়ে। সিনেমাটির দৈর্ঘ্য তিন ঘণ্টারও বেশি। কন্নড়ের পাশাপাশি হিন্দি, তামিল, তেলুগু, মালয়ালম ও ইংরেজি—মোট ছয় ভাষায় সিনেমাটি মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
ফলে ভারতজুড়ে বড় দর্শকগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে সিনেমাটির। যশের তারকাখ্যাতি, বড় বাজেটের নির্মাণ এবং অ্যাকশননির্ভর গল্পের কারণে মুক্তির প্রথম সপ্তাহেই ‘টক্সিক’ বক্স অফিসে বড় রেকর্ড গড়তে পারে বলে প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এখন দেখার বিষয়, অগ্রিম বুকিংয়ের এই উন্মাদনা মুক্তির পর বাস্তব বক্স অফিস আয়ে কতটা প্রতিফলিত হয় এবং যশের ‘টক্সিক’ শেষ পর্যন্ত প্রথম দিনেই শতকোটির ক্লাবে প্রবেশ করতে পারে কি না।