• হোম > দেশজুড়ে > প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য বাড়ছে পুষ্টিকর টিফিন

প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য বাড়ছে পুষ্টিকর টিফিন

  • বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১৮:৩৫
  • ৫

---

 

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুল ফিডিং বা পুষ্টিকর টিফিন কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের ৬৫ হাজার গ্রামে এ কার্যক্রম ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

বুধবার চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহীদ সাটু হলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ফিডিং কর্মসূচি নিয়ে প্রধান শিক্ষকদের ওরিয়েন্টেশন ও প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বর্তমানে দেশের ১৫০টি উপজেলার ১৯ হাজার ৪১৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৩১ লাখ ১৩ হাজার শিক্ষার্থী স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। সপ্তাহে পাঁচ কর্মদিবসে এসব শিক্ষার্থীকে ফর্টিফাইড বিস্কুট, কলা বা মৌসুমি ফল, বনরুটি, ডিম ও ইউএইচটি দুধের মতো পুষ্টিকর খাবার দেওয়া হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য দেশের প্রতিটি শিশুকে বিদ্যালয়মুখী করা এবং তাদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা। এ উদ্দেশ্যে শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও যুগোপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

মায়েদের সম্পৃক্ত করে রান্না করা খাবার

স্কুল ফিডিং কার্যক্রমে নতুন মডেল চালুর পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন ববি হাজ্জাজ। শ্রীলঙ্কা ও ভারতের তামিলনাড়ুর অভিজ্ঞতা অনুসরণ করে বাংলাদেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য মায়েদের সম্পৃক্ততায় রান্না করা খাবার সরবরাহের পাইলট প্রকল্প চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এই উদ্যোগে স্থানীয় বাজার থেকে শাকসবজি, ডিম, মাছসহ প্রয়োজনীয় খাদ্য উপকরণ সংগ্রহ করে মায়েদের মাধ্যমে খাবার রান্না ও সরবরাহের সম্ভাব্য মডেল পরীক্ষা করা হবে। এর মাধ্যমে শিশুদের কাছে নিরাপদ, পুষ্টিকর ও সময়মতো খাবার পৌঁছে দেওয়াই সরকারের লক্ষ্য।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্কুল ফিডিং কার্যক্রমে মাদারস কমিটির নজরদারি বাড়ানোর ফলে অনিয়ম কমেছে। তাই শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে মায়েদের আরও সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।

দুর্গম এলাকার শিক্ষকদের জন্য ভাতার পরিকল্পনা

দুর্গম অঞ্চলে কর্মরত শিক্ষকদের সমস্যার কথা বিবেচনায় নিয়ে দুর্গম ভাতা চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। পাশাপাশি নদীভাঙনসহ বিভিন্ন কারণে যেসব বিদ্যালয় বারবার স্থান পরিবর্তনের ঝুঁকিতে রয়েছে, সেসব এলাকায় মডুলার বা স্থানান্তরযোগ্য বিদ্যালয় ভবনের মডেল নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।

দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত বিভিন্ন মডেল পর্যালোচনা করে সরকারি ব্যবস্থায় তা প্রয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

শিক্ষক সংকট কমাতে সংস্কারের উদ্যোগ

বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংকট নিরসনেও বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন ববি হাজ্জাজ। শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে, যাতে দীর্ঘ সময় বিদ্যালয়ের বাইরে থেকে প্রশিক্ষণ নিতে না হয় এবং শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক সংকট তৈরি না হয়।

এ ছাড়া মূল্যায়নভিত্তিক পদোন্নতি, নতুন বদলি নীতি ও শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি। শূন্য পদ পূরণ, প্রধান শিক্ষক নিয়োগ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষক নিশ্চিত করার কাজও এগিয়ে চলছে।

বিদ্যালয়ে নাইটগার্ড, এমএলএসএসসহ প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ওই মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, সংসদ সদস্য, প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা, প্রধান শিক্ষক, শিক্ষক, সুধীজন ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ে উপস্থিতি ও শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

 

 


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/15909 ,   Print Date & Time: Wednesday, 26 August 2026, 01:00:44 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh