
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প খাতের বাড়তি চাহিদা মেটাতে আগামী সেপ্টেম্বর মাসে আরও দুই কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট (এমএমবিটিইউ) ২৪ ডলারের বেশি দরে এসব এলএনজি কেনা হবে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় এ সংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।
ক্রয়সংক্রান্ত প্রস্তাব অনুযায়ী, দক্ষিণ কোরিয়ার বৃহত্তম বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান পোসকো ইন্টারন্যাশনাল করপোরেশনের কাছ থেকে একটি কার্গো এলএনজি কেনা হবে। আগামী ১৩ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এই এলএনজি দেশে আসার কথা রয়েছে। প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২৪ দশমিক ৬২৫ ডলার।
এ ছাড়া যুক্তরাজ্যের টোটাল এনার্জিস গ্যাস অ্যান্ড পাওয়ার লিমিটেডের কাছ থেকেও একটি কার্গো এলএনজি কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ২৩ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সরবরাহের জন্য নির্ধারিত এই কার্গোর দাম পড়বে প্রতি এমএমবিটিইউ ২৪ দশমিক ২৫ ডলার।
আন্তর্জাতিক কোটেশনের মাধ্যমে ক্রয়
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক কোটেশন আহ্বান বা আরএফকিউ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এলএনজি কেনার প্রস্তাবটি সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির কাছে উপস্থাপন করে।
সরকারি ক্রয়-বিধিমালা-২০২৫-এর বিধি ১০৫(৩)(ক)-এর আওতায় প্রস্তাবটি উপস্থাপন করা হয়। ক্রয়প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর সুপারিশকৃত দরদাতাদের প্রস্তাব এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় পর্যালোচনা করে কমিটি দুই কার্গো এলএনজি কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করে।
এর ফলে সেপ্টেম্বর মাসে নির্ধারিত সময়ে দেশে এলএনজি সরবরাহ নিশ্চিত করার পথে আরেক ধাপ এগোল সরকার।
বিদ্যুৎ ও শিল্প খাতে এলএনজির চাহিদা
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প খাতে প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা দীর্ঘদিন ধরেই বেশি। দেশীয় গ্যাসের সরবরাহ দিয়ে এই চাহিদার পুরোটা পূরণ করা সম্ভব না হওয়ায় আমদানি করা এলএনজির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে।
বিশেষ করে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোতে গ্যাসের সরবরাহ নিশ্চিত করতে এলএনজি আমদানি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন শিল্পকারখানার উৎপাদন সচল রাখতেও নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ প্রয়োজন।
এ অবস্থায় সেপ্টেম্বরের জন্য দুই কার্গো এলএনজি কেনার সরকারি সিদ্ধান্ত জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রতি এমএমবিটিইউতে ২৪ ডলারের বেশি
সরকারের অনুমোদিত দুই কার্গোর মধ্যে পোসকো ইন্টারন্যাশনাল থেকে কেনা এলএনজির দাম তুলনামূলকভাবে বেশি। এই কার্গোর প্রতি এমএমবিটিইউ দাম ২৪ দশমিক ৬২৫ ডলার।
অন্যদিকে টোটাল এনার্জিস গ্যাস অ্যান্ড পাওয়ার লিমিটেডের কাছ থেকে কেনা এলএনজির প্রতি এমএমবিটিইউ দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২৪ দশমিক ২৫ ডলার।
দুই সরবরাহকারীর কাছ থেকেই আন্তর্জাতিক কোটেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এলএনজি সংগ্রহ করা হচ্ছে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি ও শেষ সপ্তাহে এসব কার্গো দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
জ্বালানি চাহিদা বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ উৎপাদন সচল রাখা এবং শিল্প খাতে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার নিয়মিতভাবে স্পট মার্কেট ও অন্যান্য প্রক্রিয়ায় এলএনজি আমদানি করছে। নতুন দুই কার্গো যুক্ত হলে সেপ্টেম্বর মাসে আমদানি করা এলএনজির মাধ্যমে দেশের জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সক্ষমতা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।