
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
ইংলিশ ক্লাব ফুটবলের দলবদলের বাজারে বাংলাদেশ জাতীয় দলের মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরীকে নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিনের ক্লাব লেস্টার সিটি ছাড়তে পারেন এই বাংলাদেশি তারকা—এমন গুঞ্জনের মধ্যেই তাকে দলে ভেড়াতে আগ্রহ দেখিয়েছে চ্যাম্পিয়নশিপের ক্লাব ডার্বি কাউন্টি।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টেলিগ্রাফ’-এর দলবদলবিষয়ক প্রতিবেদক মাইক ম্যাকগ্রা এক প্রতিবেদনে ডার্বি কাউন্টির আগ্রহের বিষয়টি জানিয়েছেন। গত মৌসুমে চ্যাম্পিয়নশিপে অষ্টম অবস্থানে থেকে মৌসুম শেষ করা ডার্বি এবার দলকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা করছে। সেই পরিকল্পনায় হামজা চৌধুরীকে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
তবে হামজার সম্ভাব্য দলবদল এখনো চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। লেস্টার সিটির কাছে ডার্বি কাউন্টি আনুষ্ঠানিক কোনো প্রস্তাব দিয়েছে কি না, সেটিও নিশ্চিত নয়। একই সঙ্গে হামজাকে স্থায়ীভাবে দলে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে, নাকি ধারে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে—এ বিষয়েও এখন পর্যন্ত স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
২০২৭ সাল পর্যন্ত লেস্টারের সঙ্গে চুক্তি
হামজা চৌধুরীর সঙ্গে লেস্টার সিটির বর্তমান চুক্তির মেয়াদ ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত। বয়সও এখন ২৮-এর কাছাকাছি। ফলে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে হামজাকে বিক্রি করে ভালো অঙ্কের অর্থ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে লেস্টার সিটির সামনে।
লেস্টারের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক থাকলেও ক্লাবটির বর্তমান অবস্থান হামজার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে। দলবদলের বাজারে তার নাম আসায় এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত ডার্বি কাউন্টি তাকে দলে ভেড়াতে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রস্তাব দেয় কি না।
ডার্বিতে গেলে উচ্চস্তরের ফুটবলে ফিরবেন হামজা
হামজার সম্ভাব্য নতুন ঠিকানা ডার্বি কাউন্টি বর্তমানে লেস্টার সিটির চেয়ে এক ধাপ ওপরে খেলছে। লেস্টার ইংলিশ ফুটবলের তৃতীয় স্তর লিগ ওয়ানে অবস্থান করছে, অন্যদিকে ডার্বি কাউন্টি খেলছে চ্যাম্পিয়নশিপে।
ফলে ডার্বিতে যোগ দিলে হামজার সামনে তুলনামূলক উচ্চমানের প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে ফেরার সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে নিয়মিত চ্যাম্পিয়নশিপ ফুটবলে খেলার সুযোগ পেলে নিজের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি বাংলাদেশের জাতীয় দলের হয়েও তার প্রস্তুতি ও ম্যাচ ফিটনেস ধরে রাখা সহজ হতে পারে।
বহুমুখী দক্ষতাই হামজার বড় শক্তি
ডার্বি কাউন্টির হামজার প্রতি আগ্রহের অন্যতম কারণ তার বহুমুখী সামর্থ্য। মূলত ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসেবে খেললেও প্রয়োজনে রাইট-ব্যাক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতে পারেন তিনি।
মাঝমাঠে প্রতিপক্ষের আক্রমণ ঠেকানো, বল দখলে রাখা, রক্ষণভাগকে সহায়তা করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী একাধিক পজিশনে খেলার সক্ষমতা হামজাকে যেকোনো দলের জন্য কার্যকর খেলোয়াড়ে পরিণত করেছে।
একজন খেলোয়াড়কে একাধিক পজিশনে ব্যবহার করার সুযোগ কোচদের জন্য বাড়তি সুবিধা তৈরি করে। ডার্বি কাউন্টির মতো দল, যারা নিজেদের স্কোয়াড আরও শক্তিশালী করতে চাইছে, তাদের কাছে হামজার এই বৈশিষ্ট্য বিশেষভাবে আকর্ষণীয় হতে পারে।
লেস্টার একাডেমি থেকেই উঠে এসেছেন
হামজা চৌধুরীর ফুটবল ক্যারিয়ারের বড় অংশই লেস্টার সিটির সঙ্গে জড়িয়ে। ক্লাবটির একাডেমি থেকে উঠে আসা এই মিডফিল্ডার ২০১৫ সালে লেস্টারের মূল দলে অভিষেক করেন।
এরপর অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য ধারে বিভিন্ন ক্লাবে খেলেছেন তিনি। বার্টন অ্যালবিয়ন, ওয়াটফোর্ড ও শেফিল্ড ইউনাইটেডের জার্সিতেও মাঠে নেমেছেন হামজা। সর্বশেষ ধারের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর গত মৌসুমে লেস্টার সিটিতে ফিরে আসেন তিনি।
লেস্টারের হয়ে দীর্ঘ সময়ের পথচলায় হামজা ইংলিশ ফুটবলের বিভিন্ন স্তরে খেলার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। সেই অভিজ্ঞতাই এখন চ্যাম্পিয়নশিপের ক্লাব ডার্বির আগ্রহের অন্যতম কারণ হতে পারে।
বাংলাদেশের ফুটবলে হামজা গুরুত্বপূর্ণ নাম
বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়েও হামজা চৌধুরী এখন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। ইংল্যান্ডে জন্ম ও বেড়ে ওঠা এই মিডফিল্ডার বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক ফুটবলে প্রতিনিধিত্ব করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর থেকেই দেশের ফুটবলপ্রেমীদের ব্যাপক আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছেন।
জাতীয় দলের মাঝমাঠে তার শারীরিক সক্ষমতা, বল পুনরুদ্ধারের দক্ষতা ও রক্ষণাত্মক ভূমিকা বাংলাদেশকে বাড়তি শক্তি দিয়েছে। তাই ক্লাব পর্যায়ে তার ভবিষ্যৎ নিয়েও বাংলাদেশের ফুটবল সমর্থকদের আগ্রহ রয়েছে।
এখন হামজার সামনে সম্ভাব্য নতুন অধ্যায় হিসেবে ডার্বি কাউন্টির নাম উঠে এসেছে। তবে দলবদল চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত তাকে লেস্টারেই থাকতে হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত ডার্বি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেয় কি না এবং লেস্টার সেটিতে সাড়া দেয় কি না—সেটিই এখন হামজার সম্ভাব্য নতুন ঠিকানা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।