• হোম > রাজনীতি > এনসিপি জোট ছাড়ছে, গুঞ্জন ভিত্তিহীন: শফিকুর রহমান

এনসিপি জোট ছাড়ছে, গুঞ্জন ভিত্তিহীন: শফিকুর রহমান

  • বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১৩:১২
  • ৭

---

 

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্য থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বেরিয়ে যাচ্ছে—এমন গুঞ্জনকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, এনসিপির জোট ছাড়ার বিষয়টি তাদের কিংবা এনসিপির রাজনৈতিক আলোচ্যসূচিতে নেই।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় জামায়াত, এনসিপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোর শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এনসিপি ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্য থেকে বেরিয়ে যেতে পারে—এমন আলোচনা সম্পর্কে জানতে চাইলে শফিকুর রহমান বলেন, বিষয়টি এনসিপিরও এজেন্ডা নয়, জামায়াতেরও এজেন্ডা নয়। এ ধরনের গুঞ্জনকে তিনি রসিকতার সঙ্গে এমন একটি বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন, যার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বাস্তব আলোচনার কোনো সম্পর্ক নেই।

নির্বাচনী সমঝোতা, স্থায়ী জোট নয়

জামায়াত আমির স্পষ্ট করেন, তাদের সঙ্গে এনসিপিসহ সংশ্লিষ্ট দলগুলোর সমঝোতা কোনো স্থায়ী বা আনুষ্ঠানিক জোটের কাঠামো নয়। এটি মূলত একটি কার্যকর নির্বাচনী সমঝোতা। একই সঙ্গে জনগণের মৌলিক অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে তারা যুগপৎভাবে রাজপথের আন্দোলনও চালিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, বহুদলীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থান ও প্ল্যাটফর্ম বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা রয়েছে। অতীতে চারদলীয় ঐক্যজোটের পরিসর চার দল থেকে ১৮, ২০ এবং একপর্যায়ে ২৭ দলে বিস্তৃত হওয়ার উদাহরণও তুলে ধরেন তিনি।

শফিকুর রহমান বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলকে জোর করে কোনো ঐক্যে রাখা সম্ভব নয়। তবে দেশের বৃহত্তর স্বার্থ এবং জনগণের অধিকার রক্ষার জন্য বিদ্যমান ঐক্যের ভিত্তি আরও শক্তিশালী করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।

বিরোধীদের ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ গঠনের প্রস্তুতি

সরকারের কর্মকাণ্ডের ওপর কার্যকর নজরদারি বাড়াতে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে একটি দক্ষ ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ গঠনের উদ্যোগের কথাও জানিয়েছেন জামায়াত আমির।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে ইতিমধ্যে অভ্যন্তরীণভাবে প্রাথমিক প্রস্তুতি ও ‘হোমওয়ার্ক’ শুরু হয়েছে। শুধু শরিক রাজনৈতিক দলগুলোর যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে নয়, দেশ-বিদেশে থাকা অভিজ্ঞ ও দক্ষ পেশাজীবীদেরও এই উদ্যোগে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

শফিকুর রহমানের ভাষায়, দেশের বাইরে থাকা দক্ষ ও অভিজ্ঞ বাংলাদেশিদের মেধা ও অভিজ্ঞতাকেও কাজে লাগানো হবে। তিনি এটিকে ‘ইন্টেলেকচুয়াল রেমিট্যান্স’ হিসেবে উল্লেখ করেন। এসব অভিজ্ঞতা ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে একটি কার্যকর ও দায়িত্বশীল ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

বিরোধীদলীয় আসনে বৈষম্যের অভিযোগ

সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের নির্বাচনী এলাকায় উন্নয়ন বরাদ্দে বৈষম্যের অভিযোগও করেন শফিকুর রহমান। তার দাবি, সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের এলাকার তুলনায় বিরোধীদলীয় আসনগুলোতে উন্নয়ন বরাদ্দের ক্ষেত্রে চরম বৈষম্য করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, সরকারদলীয় দায়িত্বশীল নেতাদের কেউ কেউ জনসমক্ষে এমন বক্তব্য দিচ্ছেন যে, জামায়াতকে ভোট দিলে উন্নয়নের জন্য ক্ষমতাসীনদের কাছে যাওয়া যাবে না। কিন্তু উন্নয়ন কোনো রাজনৈতিক অনুকম্পা নয়; এটি জনগণের অধিকার।

বিরোধীদলীয় আসনগুলোর উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সমান সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে কোনো এলাকার মানুষকে উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত করা উচিত নয়।

এ ছাড়া সংসদীয় রীতি ও সংবিধানের বাইরে গিয়ে বিরোধীদলীয় আসনগুলোতে সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যদের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্তেরও সমালোচনা করেন তিনি।

গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি

গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারের উদাসীনতার অভিযোগও করেন জামায়াত আমির। তার দাবি, দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ টেকসই সংস্কারের পক্ষে মত দিলেও জাতীয় নির্বাচনে বড় জয় পাওয়ার পর সরকার সেই প্রতিশ্রুতি থেকে সরে গেছে।

শফিকুর রহমান বলেন, সরকার সংকট সমাধানের কার্যকর পথ গ্রহণ না করায় বিরোধী দলগুলোকে বাধ্য হয়ে রাজপথে সক্রিয় হতে হয়েছে। জনগণের মৌলিক অধিকার, রাষ্ট্রীয় সংস্কার এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।

ঐক্য অটুট রাখার ঘোষণা এনসিপির

অনুষ্ঠানে এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, ফ্যাসিবাদী কাঠামোর সামগ্রিক বিলোপ এবং নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সংসদ ও রাজপথের এই ঐক্য অটুট থাকবে।

তিনি দেশের চলমান গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সারের সংকটসহ সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। জনস্বার্থে এসব সংকটের সমাধানের দাবিতে রাজপথে সক্রিয় আন্দোলন অব্যাহত রাখার কথা জানান তিনি।

নাহিদ ইসলাম বিদ্যমান কর্তৃত্ববাদী কাঠামোর বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক, সংস্কারকামী ও জাতীয়তাবাদী শক্তিগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

জামায়াত ও এনসিপির নেতাদের এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্য নিয়ে সাম্প্রতিক গুঞ্জনের বিষয়ে দুই দলের অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে। একই সঙ্গে বিরোধী দলের কার্যক্রম আরও সংগঠিত করতে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের উদ্যোগও রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

পরিদর্শনকালে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য জাহিদুর রহমানসহ এনসিপি, জাতীয় ছাত্রশক্তি, যুবশক্তি ও নারীশক্তির কেন্দ্রীয় এবং মহানগর পর্যায়ের বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

 


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/15869 ,   Print Date & Time: Wednesday, 26 August 2026, 08:03:40 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh