• হোম > বাংলাদেশ > প্রতিমন্ত্রী হতে বিদেশি নাগরিকত্ব বাধা কি, প্রশ্ন হুমায়ুন কবিরকে ঘিরে

প্রতিমন্ত্রী হতে বিদেশি নাগরিকত্ব বাধা কি, প্রশ্ন হুমায়ুন কবিরকে ঘিরে

  • বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১৩:০৭
  • ২১

---

 

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

বিএনপি সরকারের নতুন প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরকে ঘিরে দ্বৈত নাগরিকত্বের প্রশ্ন উঠেছে। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর কয়েকটি গণমাধ্যমে তার বিদেশি নাগরিকত্ব থাকার বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়। খবর বিবিসি বাংলার।

হুমায়ুন কবির এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় দায়িত্ব পালন করেন। বিএনপি সরকার গঠনের প্রায় ছয় মাস পর মন্ত্রিসভায় রদবদলের অংশ হিসেবে চার মন্ত্রী ও দুই প্রতিমন্ত্রী শপথ নেন। নতুন প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে হুমায়ুন কবিরও রয়েছেন।

তবে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর তার বিদেশি নাগরিকত্বের বিষয়টি সামনে আসায় নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে—অন্য কোনো দেশের নাগরিকত্ব থাকলে তিনি কীভাবে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন।

নাগরিকত্ব নিয়ে সরাসরি উত্তর দেননি হুমায়ুন কবির

সোমবার ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকরা হুমায়ুন কবিরের কাছে তার বিদেশি নাগরিকত্বের বিষয়ে জানতে চান। বিশেষ করে তিনি যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়।

তবে জবাবে তিনি বিষয়টি নিয়ে সরাসরি কোনো ব্যাখ্যা দেননি। বরং কে এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছেন, তা জানতে চান এবং মন্তব্য করেন, ‘কে এটা নিয়ে নিউজ করেছে, কার এত জ্বালা?’

তার এই মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনা আরও জোরালো হয়। অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, যদি তার বিদেশি নাগরিকত্ব থেকে থাকে, তাহলে তিনি কীভাবে আগে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বর্তমানে প্রতিমন্ত্রীর পদে শপথ নিয়েছেন।

সংবিধানে কী বলা আছে?

বাংলাদেশের সংবিধানে সংসদ সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব বা আনুগত্যকে অযোগ্যতার কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব গ্রহণ করলে বা তার প্রতি আনুগত্য স্বীকার করলে সংসদ সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে সাংবিধানিক জটিলতা তৈরি হতে পারে।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী কাজী জাহেদ ইকবাল বিবিসি বাংলাকে বলেন, বিষয়টি সাংবিধানিক। কোনো ব্যক্তি অন্য দেশের নাগরিক হলে তিনি এমপি, মন্ত্রী কিংবা কোনো সাংবিধানিক পদে যেতে পারবেন না।

এ ক্ষেত্রে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের নিয়োগের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী এবং অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীকে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দেন।

বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সংসদ সদস্য না হয়েও টেকনোক্র্যাট হিসেবে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ থাকলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সংসদ সদস্য হওয়ার সাংবিধানিক যোগ্যতা পূরণ করতে হয়।

মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর ক্ষেত্রেও কি একই শর্ত?

সংবিধান বিশেষজ্ঞ শাহদীন মালিকের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বাংলাদেশের সংবিধানে সংসদ সদস্য হওয়ার যে যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়েছে, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের ক্ষেত্রেও প্রায় একই ধরনের যোগ্যতা প্রযোজ্য। ফলে কোনো ব্যক্তি সংসদ সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্য হলে তাকে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী করার ক্ষেত্রেও সাংবিধানিক প্রশ্ন দেখা দিতে পারে।

এ কারণেই হুমায়ুন কবিরের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্নটি গুরুত্ব পেয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তিনি শৈশব থেকে যুক্তরাজ্যে বসবাস করেছেন এবং সেখানকার নাগরিকত্ব পেয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। তবে বর্তমানে তার ব্রিটিশ নাগরিকত্বের অবস্থা কী, সেটি তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে স্পষ্ট করেননি।

উপদেষ্টা ও প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব কি এক?

হুমায়ুন কবিরকে ঘিরে আরেকটি প্রশ্ন হলো—তিনি যদি আগে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন, তাহলে প্রতিমন্ত্রী হওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা কোথায়?

বিশেষজ্ঞদের মতে, উপদেষ্টা পদটি সাংবিধানিকভাবে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর সমতুল্য নয়। উপদেষ্টা মূলত সরকারের প্রশাসনিক ও পরামর্শমূলক দায়িত্ব পালন করেন। ফলে একজন উপদেষ্টার ক্ষেত্রে মন্ত্রী বা সংসদ সদস্য হওয়ার মতো একই সাংবিধানিক শর্ত সরাসরি প্রযোজ্য নাও হতে পারে।

অন্যদিকে, মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী পদটি সরাসরি সরকারের নির্বাহী কাঠামোর সাংবিধানিক দায়িত্বের সঙ্গে যুক্ত। তাই এ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সাংবিধানিক যোগ্যতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

নাগরিকত্ব ত্যাগের বিষয়ে স্পষ্টতা চায় আলোচনা

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আরেক প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছিলেন বলে জানা যায়। ফলে হুমায়ুন কবিরের ক্ষেত্রেও তিনি বিদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

তবে এখন পর্যন্ত হুমায়ুন কবিরের নাগরিকত্বের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। ফলে তার বর্তমান নাগরিকত্বের অবস্থান নিয়ে যে আলোচনা তৈরি হয়েছে, সেটি পরিষ্কার করতে সরকারি বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

হুমায়ুন কবিরের বিদেশি নাগরিকত্বের বিষয়টি শেষ পর্যন্ত কীভাবে নিষ্পত্তি হয়, তা এখন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে আগ্রহের বিষয়। একই সঙ্গে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে সাংবিধানিক যোগ্যতা কতটা কঠোরভাবে যাচাই করা হয়, সেই প্রশ্নও নতুন করে সামনে এসেছে।

 

 


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/15865 ,   Print Date & Time: Wednesday, 26 August 2026, 07:52:47 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh