• হোম > বাংলাদেশ > ঢাকায় যাত্রাবিরতিতে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ভুটানের রাজার সাক্ষাৎ

ঢাকায় যাত্রাবিরতিতে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ভুটানের রাজার সাক্ষাৎ

  • বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১১:৪৮
  • ৭

---

 

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগে ওয়াংচুক ঢাকায় যাত্রাবিরতিকালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। বুধবার (২৬ আগস্ট) ভোরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিভিআইপি লাউঞ্জে তাদের মধ্যে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

সিঙ্গাপুর থেকে ভুটান যাওয়ার পথে ভুটানের রাজাকে বহনকারী বিশেষ বিমানটি ঢাকায় প্রায় এক ঘণ্টার জন্য যাত্রাবিরতি করে। এ সময় রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিমানবন্দরে গিয়ে ভুটানের রাজার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

সাক্ষাতে বাংলাদেশ ও ভুটানের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা হয়। দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করার পাশাপাশি শিক্ষা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও উন্নয়ন সহযোগিতার বিভিন্ন সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভুটানের রাজা ও রাজপরিবারের সদস্যদের সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় সফরের আমন্ত্রণ জানান। জবাবে ভুটানের রাজা বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে তাদের সুবিধাজনক সময়ে ভুটান সফরের আমন্ত্রণ জানান।

এ সময় ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগে ওয়াংচুক রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা জানান। বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের পক্ষ থেকেও ভুটানের রাজা এবং রাজপরিবারের সদস্যদের প্রতি উষ্ণ শুভেচ্ছা জানান রাষ্ট্রপতি।

ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা স্মরণ

আলোচনায় বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক সম্পর্কের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। রাষ্ট্রপতি বলেন, ভুটান বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে বিশেষ স্থান দখল করে আছে। কারণ, ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া বিশ্বের প্রথম দেশ ছিল ভুটান।

রাষ্ট্রপতি এ সময় বাংলাদেশের প্রতি ভুটানের বর্তমান রাজার পিতা প্রয়াত রাজা জিগমে সিংগে ওয়াংচুকের বিশেষ মমত্ববোধ ও শুভকামনার কথাও গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক পারস্পরিক আস্থা, বন্ধুত্ব ও ঐতিহাসিক যোগাযোগের ওপর প্রতিষ্ঠিত। ভবিষ্যতে এই সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত করে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের নতুন সুযোগ তৈরি করা সম্ভব।

শিক্ষা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগে সহযোগিতা বাড়ানোর তাগিদ

ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগে ওয়াংচুক দুই দেশের অভিন্ন উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির আকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরে শিক্ষা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।

বিশেষ করে অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের মাধ্যমে দুই দেশের জনগণের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করা যেতে পারে বলে আলোচনায় উঠে আসে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক পর্যায়ে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সাক্ষাতে ভুটানের রাজা তার দূরদর্শী ‘গেলেফু মাইন্ডফুলনেস সিটি’ প্রকল্প সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। এ প্রকল্পে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ও সহযোগিতারও আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।

ভুটানের এ উদ্যোগের প্রতি গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি প্রকল্পটির প্রশংসা করে বলেন, পারস্পরিক কল্যাণ, সমৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে এ অঞ্চলের রূপান্তরমূলক উদ্যোগগুলো এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ভুটানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে প্রস্তুত।

ভুটান-বাংলাদেশ সম্পর্ক আরও গভীর করার প্রত্যাশা

সৌজন্য সাক্ষাৎটি সংক্ষিপ্ত হলেও এতে দুই দেশের সম্পর্কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে আসে। বিশেষ করে উচ্চপর্যায়ের সফর, শিক্ষা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগ সহযোগিতা সম্প্রসারণের মাধ্যমে বাংলাদেশ-ভুটান সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

দুই দেশের মধ্যে ঐতিহাসিক বন্ধুত্বকে ভিত্তি করে ভবিষ্যতে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

সৌজন্য সাক্ষাতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভুটানের রাষ্ট্রদূত এবং বাংলাদেশ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সাক্ষাৎ শেষে ভুটানের রাজাকে বহনকারী বিশেষ বিমানটি সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ভুটানের উদ্দেশে যাত্রা করে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/15863 ,   Print Date & Time: Wednesday, 26 August 2026, 06:34:14 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh