
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনীকে আরও জনবান্ধব, জবাবদিহিমূলক ও স্বচ্ছ বাহিনীতে পরিণত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর আইনি কাঠামোতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার পাশাপাশি তাদের কর্মকাণ্ডে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির উদ্যোগে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের পুলিশ বাহিনীকে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী একটি জনবান্ধব বাহিনীতে রূপান্তর করা হবে। এ ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রমে মানুষের আস্থা বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের দায়িত্ব পালনে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের এই পুলিশবাহিনী জনপ্রত্যাশিত জনবান্ধব বাহিনীতে পরিণত হবে, ইনশাআল্লাহ।’ একই সঙ্গে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ক্ষেত্রেও আইনি কাঠামোতে পরিবর্তন আনা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে। বাহিনীগুলোর ওপর কার্যকর নজরদারি ও জবাবদিহিতার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনগণের কাছে তাদের গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
আলোচিত অপরাধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি
দেশের সাম্প্রতিক বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি রংপুরের একটি ঘটনার উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, ঘটনা সংঘটিত হওয়ার পর যৌক্তিক সময়ের মধ্যেই সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
তিনি বলেন, রামিসা হত্যা থেকে শুরু করে জাতীয়ভাবে আলোচিত বিভিন্ন ঘটনায় অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের আদালতে সোপর্দ করার কথাও জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই আলোচিত অপরাধগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তার মতে, এই স্বল্প সময়ের মধ্যে এর চেয়ে বেশি কিছু প্রত্যাশা করা হয়তো ঠিক হবে না।
তিনি বলেন, অপরাধের ক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। আইন অনুযায়ী অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং তাদের বিচারের মুখোমুখি করার প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।
আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থায় সংস্কারের ইঙ্গিত
সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাঠামো ও কার্যক্রমে সংস্কারের ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে। পুলিশসহ অন্যান্য বাহিনীর আইনি কাঠামোকে সময়োপযোগী করার পাশাপাশি তাদের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
সরকারের এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সাধারণ মানুষের সম্পর্ক আরও উন্নত হবে এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বাহিনীগুলোর কার্যকারিতা বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা।