• হোম > লাইফ স্টাইল > রোবট-এআইয়ে বিশ্বসেরা হতে চীনের নতুন প্রযুক্তি বিপ্লব

রোবট-এআইয়ে বিশ্বসেরা হতে চীনের নতুন প্রযুক্তি বিপ্লব

  • মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১৪:১৬
  • ১২

---

 

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবোটিক্স ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তিকে ভবিষ্যৎ অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করে ব্যাপক বিনিয়োগ করছে চীন। উদ্ভাবন ও উৎপাদন প্রযুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানাতে দেশটি তৈরি করছে নতুন প্রজন্মের প্রযুক্তিবিদ ও প্রকৌশলী। একই সঙ্গে শিল্পকারখানায় দ্রুত বাড়ানো হচ্ছে রোবটের ব্যবহার।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৃহৎ প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে গড়ে উঠছে বিশেষায়িত বৃত্তিমূলক ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানে তরুণদের ছোট বয়স থেকেই রোবোটিক্স, কোডিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, প্রকৌশল ও উন্নত উৎপাদন প্রযুক্তিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

হাংঝৌর উপকণ্ঠে অবস্থিত হাংঝৌ টেকনিশিয়ান ইনস্টিটিউট এমনই একটি প্রতিষ্ঠান। এখানে শিক্ষার্থীরা শুধু প্রচলিত কারিগরি শিক্ষা নিচ্ছে না; বরং ভবিষ্যতের শিল্পকারখানায় রোবটের সঙ্গে কাজ করা এবং নতুন প্রযুক্তি তৈরি করার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করছে।

প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মেলাতে নতুন প্রজন্ম

হাংঝৌ টেকনিশিয়ান ইনস্টিটিউটে শিক্ষক চেন তিয়ানইউয়ের একটি শ্রেণিকক্ষে প্রায় ৩০ জন শিক্ষার্থী কোডিং ও রোবোটিক্সের প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। সারিবদ্ধভাবে রাখা শিল্পকারখানার রোবটগুলো প্রোগ্রামিংয়ের অপেক্ষায়। অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের আরেকটি দল চিকিৎসাক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য রোবোটিক সরঞ্জাম তৈরির চেষ্টা করছে।

চেন নিজেও প্রযুক্তির পরিবর্তন সম্পর্কে ধারণা নিতে নিয়মিত বিভিন্ন কারখানা পরিদর্শন করেন। তার মতে, শিল্পকারখানায় স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার যেভাবে দ্রুত বাড়ছে, তাতে ভবিষ্যতের কর্মীদেরও সেই পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে হবে।

তিনি মনে করেন, এআই ও রোবোটিক্সের নতুন বাস্তবতার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে না পারলে অনেক মানুষ ভবিষ্যতের শ্রমবাজারে পিছিয়ে পড়তে পারেন।

চীনের কারখানায় ২০ লাখের বেশি রোবট

চীনের শিল্পখাতে রোবট ব্যবহারের পরিমাণ ইতোমধ্যে বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় বেশি। দেশটির বিভিন্ন কারখানায় ২০ লাখের বেশি শিল্প রোবট কাজ করছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

গাড়ি উৎপাদন, রং করা, ভারী যন্ত্রপাতি সরানো, ওয়েল্ডিং, সংযোজনসহ নানা ধরনের কাজে এসব রোবট ব্যবহার করা হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে এমন রোবটও তৈরি হচ্ছে, যেগুলো ভবিষ্যতে অন্য রোবট তৈরির কাজে ব্যবহৃত হতে পারে।

চীনের শিল্প উৎপাদন ব্যবস্থার ব্যাপক বিস্তারের কারণে রোবট তৈরির প্রয়োজনীয় উপকরণ ও যন্ত্রাংশও দেশটির অভ্যন্তরেই সহজে পাওয়া যাচ্ছে। ফলে নতুন রোবট তৈরি থেকে শুরু করে কারখানায় তা স্থাপন পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় চীন বড় ধরনের সুবিধা পাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক রোবোটিক্স ফেডারেশনের মহাসচিব ড. সুসান বাইলারের মতে, রোবট তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় সরবরাহব্যবস্থা ও শিল্প অবকাঠামোর ক্ষেত্রে চীন অনেক এগিয়ে রয়েছে।

রোবট তৈরিতেও রোবটের ব্যবহার

চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর চেংডুর একটি কারখানায় একই ছাদের নিচে পুরোনো ও নতুন প্রযুক্তির সমন্বিত ব্যবহার দেখা যাচ্ছে। একদিকে প্রায় ৩০ জন মধ্যবয়সী কর্মী রোবোটিক আর্ম তৈরি করছেন। অন্যদিকে কয়েকজন তরুণ প্রকৌশলী কম্পিউটারের সামনে বসে নতুন ধরনের রোবটের কোড তৈরি করছেন।

সিআরপি টেকনোলজি প্রায় নয় বছর ধরে বিভিন্ন শিল্পের জন্য রোবোটিক আর্ম তৈরি করছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৩০০ কর্মী রয়েছে। এসব যান্ত্রিক হাত গাড়ি, ইলেকট্রনিকস ও উইন্ড টারবাইন তৈরির মতো বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা যায়।

কোম্পানিটির দাবি, একটি রোবোটিক আর্ম দিয়েই কোনো কারখানার ৯০ শতাংশের বেশি একঘেয়ে কাজ করানো সম্ভব।

প্রতিষ্ঠানটির প্রকৌশলী পাং কাই এমন একটি নতুন রোবট তৈরির কাজে যুক্ত, যা এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। বর্তমানে রোবটটি কেবল কিউআর কোড স্ক্যান করার মতো সহজ কাজ করতে পারে। তবে প্রকৌশলীদের আশা, সময়ের সঙ্গে এর সক্ষমতা আরও বাড়ানো সম্ভব হবে।

মানুষের বিকল্প হবে রোবট?

রোবোটিক্সের এই দ্রুত বিস্তারের সবচেয়ে বড় প্রশ্নগুলোর একটি হলো—ভবিষ্যতে এসব যন্ত্র কি মানুষের কর্মসংস্থানের বিকল্প হয়ে উঠবে?

পাং কাইয়ের মতে, চীনের জনসংখ্যা কমে যাওয়া এবং কর্মক্ষম মানুষের বয়স বাড়তে থাকায় ভবিষ্যতে শ্রমিকের সংকট তৈরি হতে পারে। সে কারণেই এখন থেকেই এমন রোবট তৈরির প্রয়োজন রয়েছে, যারা মানুষের মতো বিভিন্ন কাজ করতে পারবে।

চীনের জনসংখ্যাগত পরিবর্তনও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সরকারি পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩৫ সালের মধ্যে দেশটির মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশের বেশি মানুষের বয়স ৬০ বছরের ওপরে হতে পারে।

ফলে উৎপাদন খাতে শ্রমিকের ঘাটতি পূরণ, উৎপাদনশীলতা বাড়ানো এবং অর্থনীতির গতি ধরে রাখতে রোবোটিক্সকে গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে দেখছে বেইজিং।

তবে বড় ঝুঁকি কর্মসংস্থানে

রোবটের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হলেও বিপুলসংখ্যক শ্রমিকের চাকরি হারানোর আশঙ্কাও রয়েছে।

চীনের বিভিন্ন কারখানায় এখনো প্রায় ১২ কোটি মানুষ কাজ করেন। এসব মানুষের বড় একটি অংশের জীবিকা শিল্পকারখানার আয়ের ওপর নির্ভরশীল। ফলে স্বয়ংক্রিয়তার পরিবর্তন খুব দ্রুত হলে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়তে পারেন।

অন্যদিকে রোবটের ২৪ ঘণ্টা কাজ করার সক্ষমতা শিল্পকারখানার জন্য বড় সুবিধা। তবে যন্ত্রেরও রক্ষণাবেক্ষণ প্রয়োজন। নিয়মিত পরীক্ষা, মেরামত ও প্রযুক্তিগত তদারকির জন্য দক্ষ কর্মীর প্রয়োজন হয়।

ইলেকট্রিক গাড়ি নির্মাতা লিপমোটরের সহ-সভাপতি চাও লি বলেন, তাত্ত্বিকভাবে একটি যন্ত্র ২৪ ঘণ্টা কাজ করতে পারে। কিন্তু উৎপাদনব্যবস্থা সচল রাখতে রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রযুক্তিগত তদারকির প্রয়োজন রয়েছে।

গাড়ি কারখানায় প্রায় শতভাগ স্বয়ংক্রিয়তা

চীনের প্রযুক্তিনির্ভর ইলেকট্রিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান লিপমোটরের হাংঝৌ কারখানায় উৎপাদনের বিভিন্ন ধাপে রোবট ব্যবহার করা হচ্ছে। গাড়ির ধাতু কাটা, ওয়েল্ডিং ও রং করার মতো কাজে স্বয়ংক্রিয়তা প্রায় সম্পূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

তবে উৎপাদন প্রক্রিয়ার শেষ ধাপে এখনো মানুষের প্রয়োজন রয়েছে। নতুন গাড়ি কারখানা থেকে বের হওয়ার আগে শত শত কর্মী তা পরীক্ষা করে দেখেন।

লিপমোটরে ২৫ হাজারের বেশি কর্মী রয়েছে। তবে ভবিষ্যতে এসব কর্মীর কতটা প্রয়োজন থাকবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে উঠছে।

চাও লির মতে, কারখানার কিছু ক্ষেত্রে প্রায় শতভাগ স্বয়ংক্রিয়তা ইতোমধ্যে অর্জিত হয়েছে। ভবিষ্যতে এই প্রবণতা আরও বাড়তে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রযুক্তি প্রতিযোগিতা

রোবোটিক্সে চীন এগিয়ে থাকলেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র এখনো শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

চীনের শক্তি মূলত ব্যাপক উৎপাদন সক্ষমতা, রোবট তৈরির উপকরণ এবং সরবরাহব্যবস্থায়। অন্যদিকে রোবটের ‘মস্তিষ্ক’ হিসেবে কাজ করা উন্নত এআই প্রযুক্তির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের বড় সুবিধা রয়েছে।

তবে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোও দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। ডিপসিক ও মুনশটের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন এআই মডেল তৈরি করছে। উন্নত চিপ আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিধিনিষেধ থাকা সত্ত্বেও চীনের প্রযুক্তি খাত প্রত্যাশার তুলনায় দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, ভবিষ্যতের এআই প্রতিযোগিতা শুধু কে সবচেয়ে শক্তিশালী ভাষা মডেল তৈরি করতে পারে তার ওপর নির্ভর করবে না। বরং কোন দেশ এআইয়ের সক্ষমতাকে সবচেয়ে দ্রুত কোটি কোটি যন্ত্রের মধ্যে কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারে, সেটিই হয়ে উঠতে পারে প্রতিযোগিতার মূল বিষয়।

কারিগরি শিক্ষায় বড় বিনিয়োগ

এই লক্ষ্য সামনে রেখে চীন তরুণদের কারিগরি ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়াতে ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে।

হাংঝৌ টেকনিশিয়ান ইনস্টিটিউটে ১৫ বছর বয়স থেকেই শিক্ষার্থীরা ভর্তি হতে পারে। প্রতিষ্ঠানটিতে ইঞ্জিন ও বিমান চালনা বিষয়ে আলাদা ভবন রয়েছে। একই সঙ্গে বিরল মৃত্তিকা প্রক্রিয়াকরণসহ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি সম্পর্কেও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে।

চীনের প্রযুক্তি খাতে দক্ষ কর্মীর চাহিদা বাড়ায় এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অনেকেই পড়াশোনা শেষ করার আগেই চাকরির সুযোগ পাচ্ছেন।

শিক্ষক চেন তিয়ানইউয়ের মতে, প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার মধ্যেই শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

তরুণদের বেকারত্ব কমাতেও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা

চীনে তরুণদের কর্মসংস্থান নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। অনেক তরুণ চাকরি খুঁজতে সমস্যায় পড়ছেন। সেই পরিস্থিতিতে প্রযুক্তিনির্ভর কারিগরি শিক্ষা তরুণদের কর্মসংস্থানের নতুন পথ তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

চেনের ভাষ্য, তার শিক্ষার্থীদের চাহিদা রয়েছে এবং অনেকেই পড়াশোনা শেষ করার আগেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। কারিগরি প্রশিক্ষণের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করে শিক্ষার্থীদের বাস্তব সমস্যা সমাধানের দক্ষতাও বাড়ানো হচ্ছে।

তবে প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি কর্মসংস্থানে স্বয়ংক্রিয়তার নেতিবাচক প্রভাব কীভাবে সামাল দেওয়া হবে, সেটিও চীনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেই প্রযুক্তি বিপ্লব

চীন একদিকে রোবট, এআই ও বৈদ্যুতিক গাড়ির মতো প্রযুক্তিখাতে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে দেশটি এখনো বেশ কিছু অর্থনৈতিক সমস্যার মুখোমুখি।

দীর্ঘদিনের আবাসন সংকট, স্থানীয় সরকারের বিপুল ঋণ এবং দুর্বল ভোক্তা ব্যয় দেশটির অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি করছে। এই পরিস্থিতিতে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে প্রযুক্তি ও স্বয়ংক্রিয়তার ওপর নির্ভর করছে বেইজিং।

সরকারের আশা, রোবট ও এআইয়ের ব্যাপক ব্যবহার উৎপাদন খরচ কমাবে, শ্রমিক সংকট মোকাবিলা করবে এবং অর্থনীতিতে নতুন গতি আনবে। তবে এর বিপরীতে কর্মসংস্থানের ওপর কী ধরনের চাপ তৈরি হবে, সেটি এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।

রোবট কি সমৃদ্ধি আনবে, নাকি চাকরি কেড়ে নেবে?

চীনের প্রযুক্তি বিপ্লব এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে রোবট শুধু মানুষের কাজ সহজ করছে না; বরং উৎপাদনব্যবস্থার কাঠামোই বদলে দিচ্ছে।

একদিকে রোবটের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ানো, শ্রমিক সংকট মোকাবিলা এবং বৈশ্বিক বাজারে চীনের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। অন্যদিকে যেসব কাজ এতদিন মানুষের ওপর নির্ভরশীল ছিল, সেগুলোর একটি বড় অংশ ধীরে ধীরে যন্ত্রের হাতে চলে যাচ্ছে।

ফলে চীনের সামনে এখন দ্বৈত চ্যালেঞ্জ—প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রকে টেক্কা দেওয়া এবং একই সঙ্গে কোটি কোটি মানুষের কর্মসংস্থান নিরাপদ রাখা।

শিক্ষক চেন তিয়ানইউয়ের কথাতেই যেন সেই অনিশ্চয়তার প্রতিফলন রয়েছে। ভবিষ্যতে কী হবে, তা তিনি জানেন না। তবে তার বিশ্বাস, প্রযুক্তির পরিবর্তন থামিয়ে রাখা সম্ভব নয়। তাই পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিজেদের সক্ষমতা বাড়িয়েই সামনে এগিয়ে যেতে হবে।

চীনের রোবট বিপ্লব শেষ পর্যন্ত দেশটির অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে কী ধরনের পরিবর্তন আনবে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে একটি বিষয় ইতোমধ্যে স্পষ্ট—এআই, রোবোটিক্স ও স্বয়ংক্রিয় উৎপাদনব্যবস্থাকে ঘিরে চীন যে উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা নিয়েছে, তা বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিযোগিতার গতিপথে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

 

 


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/15798 ,   Print Date & Time: Tuesday, 25 August 2026, 09:57:11 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh