• হোম > আইন বিভাগ | বাংলাদেশ > এপিবিএনকে ফৌজদারি তদন্তের ক্ষমতা দিয়ে নতুন আইন অনুমোদন

এপিবিএনকে ফৌজদারি তদন্তের ক্ষমতা দিয়ে নতুন আইন অনুমোদন

  • মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০:২৮
  • ২০

---

 

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) সদস্যদের ফৌজদারি অপরাধ তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষমতা দেওয়ার বিধান রেখে ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন আইন, ২০২৬’-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে এপিবিএনের সদস্যদের জন্য বিশেষ আদালত ও সংক্ষিপ্ত আদালত গঠন এবং এসব আদালতে বিচারপ্রক্রিয়া পরিচালনার বিধান রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ১৮তম বৈঠকে আইনটির খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং সাপেক্ষে এই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে।

নতুন আইনটি প্রণয়ন করা হচ্ছে ১৯৭৯ সালের ‘দ্য আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন অর্ডিন্যান্স’ রহিত করে। পুরোনো অধ্যাদেশের অধীনে সম্পন্ন কার্যক্রমের বৈধতা ও হেফাজতের বিধান বহাল রেখেই এপিবিএনের আইনগত কাঠামোকে বর্তমান সময়ের প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এপিবিএনের দায়িত্বে বড় পরিবর্তন

প্রস্তাবিত আইনে এপিবিএনকে জননিরাপত্তা রক্ষা, ভিআইপি ব্যক্তিদের নিরাপত্তা এবং সরকার ঘোষিত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সন্ত্রাস, মাদক, মানবপাচার, ধর্ষণ ও মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দায়িত্বও বাহিনীটির ওপর থাকবে।

এ ছাড়া দেশের অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার দায়িত্বও এপিবিএনের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন আইনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এপিবিএনের সদস্যদের ফৌজদারি অপরাধ তদন্তের ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব। ফৌজদারি কার্যবিধি এবং প্রচলিত অন্যান্য আইন অনুসরণ করে বাহিনীটির সদস্যরা অপরাধ তদন্ত ও তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন।

এর ফলে এপিবিএনের কার্যক্রম শুধু নিরাপত্তা প্রদান, বিশেষ অভিযান পরিচালনা কিংবা অন্যান্য বাহিনীকে সহযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। নির্দিষ্ট আইনগত কাঠামোর অধীনে ফৌজদারি অপরাধের তদন্তেও বাহিনীটির সরাসরি ভূমিকা রাখার সুযোগ তৈরি হবে।

পুলিশের অধীনেই থাকবে এপিবিএন

প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী, এপিবিএন বাংলাদেশ পুলিশের অধীন বাহিনী হিসেবেই পরিচালিত হবে। পুলিশের একজন অতিরিক্ত মহাপরিদর্শকের নিয়ন্ত্রণ ও তত্ত্বাবধানে বাহিনীটির কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

এর মাধ্যমে এপিবিএনের কমান্ড, নিয়ন্ত্রণ ও প্রশাসনিক কাঠামো আইনের মাধ্যমে আরও সুস্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বাহিনীর দায়িত্ব ও ক্ষমতার ক্ষেত্রও নির্দিষ্ট আইনি কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সরকারের মতে, পুরোনো অধ্যাদেশের পরিবর্তে নতুন আইন প্রণয়ন করা হলে এপিবিএনের কার্যক্রম বর্তমান সময়ের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা সম্ভব হবে।

থাকছে বিশেষ ও সংক্ষিপ্ত আদালত

প্রস্তাবিত আইনে এপিবিএনের সদস্যদের বিচার ও শৃঙ্খলাজনিত বিষয় নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ আদালত এবং সংক্ষিপ্ত আদালত গঠন ও বিচারপ্রক্রিয়া পরিচালনার বিধান রাখা হয়েছে।

এর মাধ্যমে বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে বিচারসংক্রান্ত বিষয়গুলো পরিচালনার জন্য একটি নির্দিষ্ট আইনি কাঠামো তৈরি হবে। একই সঙ্গে শৃঙ্খলা ও বিচারিক কার্যক্রমের ক্ষেত্রে কীভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তারও একটি সুস্পষ্ট ভিত্তি তৈরি হবে।

পুরোনো অধ্যাদেশের পরিবর্তে নতুন আইন

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, ১৯৭৯ সালের অধ্যাদেশটি যুগোপযোগী করে বাংলায় নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আগে প্রস্তাবিত আইনের খসড়া জনমত যাচাইয়ের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছিল।

নতুন আইন কার্যকর হলে এপিবিএনের দায়িত্ব, ক্ষমতা, তদন্ত কার্যক্রম, কমান্ড কাঠামো এবং বিচারসংক্রান্ত বিষয়গুলো আরও স্পষ্ট আইনি কাঠামোর আওতায় আসবে।

সব মিলিয়ে, ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন আইন, ২০২৬’-এর প্রস্তাবিত বিধান এপিবিএনের দায়িত্ব ও কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে। বিশেষ করে ফৌজদারি অপরাধ তদন্তের ক্ষমতা এবং বিশেষ ও সংক্ষিপ্ত আদালতের বিধান বাহিনীটির আইনগত ও বিচারিক কাঠামোকে আরও বিস্তৃত করবে।

 

 


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/15780 ,   Print Date & Time: Tuesday, 25 August 2026, 06:08:16 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh