• হোম > অর্থনীতি > অর্থনীতি স্থিতিশীল হলে প্রবৃদ্ধির নতুন পর্যায়ে যাবে বাংলাদেশ

অর্থনীতি স্থিতিশীল হলে প্রবৃদ্ধির নতুন পর্যায়ে যাবে বাংলাদেশ

  • সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ১৮:৩৩
  • ১০

---

 

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, প্রথমে দেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল করা হবে। এরপর ধীরে ধীরে অর্থনীতিতে গতি ফিরবে এবং বাংলাদেশ প্রবৃদ্ধির নতুন পর্যায়ে যাবে।

সোমবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে নির্বাচিত গবেষক, উদ্ভাবক ও উদ্যোক্তাদের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যে ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছি, তা পুনরুদ্ধারের কাজ চলছে। এ থেকে বেরিয়ে আসার পথ তৈরি হচ্ছে। আমরা জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা করছি।’

তিনি বলেন, অর্থনীতিতে বিভিন্ন সংস্কার, নিয়ন্ত্রণ শিথিল, নীতিমালা প্রণয়ন এবং প্রণোদনার যেসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সেগুলোর সুফল ধীরে ধীরে পাওয়া যাবে। অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করার পাশাপাশি কর্মসংস্থান বাড়ানো ও দক্ষ জনশক্তি তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে সারা দেশে দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের মানুষের দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সবকিছু মিলিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি ভালো দিকে যাবে। প্রথমে অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরবে, এরপর ধীরে ধীরে প্রবৃদ্ধির গতি বাড়বে এবং দেশ অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করবে।

অনুষ্ঠানে শিল্প খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি, শিল্পভিত্তিক গবেষণা ও উদ্ভাবন উৎসাহিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের আওতাধীন ‘স্কিলস ফর ইন্ডাস্ট্রি কম্পিটিটিভনেস অ্যান্ড ইনোভেশন প্রোগ্রাম’-এর আওতায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গবেষকদের যুক্ত করার ক্ষেত্রে এটিকে দেশের প্রথম সরকারি উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে শিল্প খাতের বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে কার্যকর সমাধান বের করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন খাতে উদ্ভাবনী গবেষণার জন্য ১২ জনকে অর্থ ও পুরস্কার দেওয়া হয়। নির্বাচিত গবেষকেরা শিল্প খাতের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে তাদের উদ্ভাবনী ধারণা ও গবেষণা কাজে লাগাবেন। এ জন্য প্রত্যেককে ৭০ লাখ থেকে আড়াই কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থ দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে ১২টি প্রকল্পে মোট ২৩ কোটি টাকার অর্থসহায়তা দেওয়া হয়।

এর আগে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ ওয়ালিদ হোসেন জানান, শিল্পের উদ্ভাবনী সমাধানের জন্য মোট ১২৩টি প্রকল্প জমা পড়েছিল। সেখান থেকে যাচাই-বাছাই করে ১২টি প্রকল্প নির্বাচিত করা হয়েছে।

নির্বাচিত গবেষকেরা এক বছর ধরে তাদের প্রকল্প নিয়ে গবেষণা করবেন। পরে এসব গবেষণার মাধ্যমে পাওয়া উদ্ভাবনী সমাধান শিল্প খাতে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মোহাম্মদ ওয়ালিদ হোসেন জানান, নির্বাচিত প্রতিটি প্রকল্পের গবেষকেরা এর আগে সংশ্লিষ্ট শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করেছেন। তাদের ধারণাপত্রের ভিত্তিতে প্রকল্পগুলো বাছাই করা হয়েছে। এক বছর গবেষণার পর উদ্ভাবনী সমাধানগুলো শিল্প খাতে প্রয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।

নির্বাচিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে ছোট হিমাগার থেকে মাছের খাবার বিতরণের যন্ত্র তৈরির প্রযুক্তি এবং ফেলে দেওয়া সুতা থেকে প্যাকেজিং উপকরণ তৈরির মতো উদ্ভাবনী উদ্যোগ রয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে শিল্প খাতের উৎপাদনশীলতা ও দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

অনুষ্ঠানে অর্থ বিভাগের সচিব মো. খাইরুজ্জামান মজুমদারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সরকারের পক্ষ থেকে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন, উদ্ভাবন ও শিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা তুলে ধরা হয়।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/15772 ,   Print Date & Time: Monday, 24 August 2026, 02:32:10 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh