• হোম > বাণিজ্য > বাংলাদেশ-ভারতের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ১২ বিলিয়ন ডলার

বাংলাদেশ-ভারতের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ১২ বিলিয়ন ডলার

  • সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ১৮:৩০
  • ১০

 ---

 

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বর্তমানে প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলারের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। দুই দেশের বাণিজ্য আরও বাড়ানোর পাশাপাশি বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে আলোচনা চলছে বলেও জানান তিনি।

সোমবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ভারত বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার। গত বছরও এই পরিমাণ প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি ছিল।

তিনি জানান, দুই দেশের বাণিজ্যে বড় ধরনের ভারসাম্যহীনতা রয়েছে। এর মধ্যে ভারতের রপ্তানি প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলার। বিপরীতে বাংলাদেশ থেকে ভারতে রপ্তানির পরিমাণ প্রায় পৌনে এক বিলিয়ন ডলার।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দুই দেশের আন্তবাণিজ্যের পথে বিভিন্ন বিধিনিষেধ এলেও গত বছর বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল। এতে বোঝা যায়, অনেক সময় অর্থনৈতিক বিবেচনা অন্যান্য অনেক বিষয়কে ছাড়িয়ে যায়।

তিনি জানান, সম্প্রতি ভারতীয় একটি বাণিজ্যিক প্রতিনিধিদল তার সঙ্গে বৈঠক করেছে। পরে ওই প্রতিনিধিদল ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (এফবিসিসিআই) সঙ্গেও বৈঠক করে। দুই দেশের ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ে দুটি টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে ভারতীয় প্রতিনিধিদল।

প্রস্তাবিত টাস্কফোর্সের একটি বাংলাদেশের অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগের সুযোগ নিয়ে কাজ করবে। অন্যটি ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য কাজ করবে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও গতিশীল করা, নতুন বিনিয়োগের সুযোগ ও ক্ষেত্র খুঁজে বের করা এবং পারস্পরিক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হবে বলে জানান মন্ত্রী।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে অনেক ইস্যু থাকলেও একই সঙ্গে উন্নয়নেরও অনেক সুযোগ রয়েছে। এসব বিষয়ে সময় সময় আলোচনা ও যোগাযোগ অব্যাহত রাখা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বাণিজ্যমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনারের উদ্যোগ এবং তার দায়িত্বকালীন সময়ে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার হবে।

বৈঠকে দুই দেশের স্থলবন্দরগুলো পুরোপুরি কার্যকর করা, সীমান্ত হাটগুলো পুনরায় চালু এবং স্থলবন্দর দিয়ে সুতা আমদানির ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে তা পুনরায় চালুর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।

এ ছাড়া সাবরুমসহ আরও কয়েকটি সড়ক যোগাযোগের বিষয় বৈঠকে উঠে আসে। গত বছর চালু করা ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে তার সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি। বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বলেও জানান তিনি।

সব মিলিয়ে বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভারতের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, স্থলবন্দর ও সীমান্ত হাটের কার্যক্রম জোরদারসহ বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/15769 ,   Print Date & Time: Monday, 24 August 2026, 02:36:10 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh