• হোম > বাংলাদেশ > অক্টোবরে চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর

অক্টোবরে চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর

  • সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ১৪:৪২
  • ৯

---

 

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

চলতি বছরের অক্টোবর মাসে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিমানবন্দরটির উদ্বোধন করবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার (২৪ আগস্ট) সচিবালয়ে এভিয়েশন ও পর্যটন খাতের সাংবাদিকদের সংগঠন এভিয়েশন অ্যান্ড ট্যুরিজম জার্নালিস্টস ফোরাম অব বাংলাদেশের (এটিজেএফবি) সদস্যদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এসব তথ্য জানান মন্ত্রী।

আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তরের কাজ এগিয়ে চলছে

মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তরের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে অক্টোবরেই বিমানবন্দরটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে।

নতুন এই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চালু হলে কক্সবাজারের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের আকাশপথের যোগাযোগের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক যোগাযোগও আরও সম্প্রসারিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মন্ত্রী জানান, কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পাশাপাশি বিভিন্ন বিদেশি এয়ারলাইন্সও ফ্লাইট পরিচালনা করবে। ইতোমধ্যে কয়েকটি আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্স কক্সবাজার থেকে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনায় আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

সরাসরি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ

কক্সবাজার থেকে সরাসরি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালুর বিষয়ে বিভিন্ন বিদেশি এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সগুলোর সঙ্গে প্রয়োজনীয় আলোচনা চলছে। কক্সবাজার থেকে আন্তর্জাতিক রুটে বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্য বিভিন্ন চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের প্রক্রিয়াও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

এর ফলে কক্সবাজারের সঙ্গে সরাসরি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গন্তব্যের বিমান যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি হবে।

পর্যটন খাতে নতুন সম্ভাবনা

কক্সবাজার দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটনকেন্দ্র। দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ চালু হলে পর্যটন খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টদের আশা।

আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে কক্সবাজারের কার্যক্রম শুরু হলে বিদেশি পর্যটকদের সরাসরি আকাশপথে কক্সবাজারে আসার সুযোগ বাড়বে। এতে পর্যটনকেন্দ্রিক ব্যবসা, হোটেল-মোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন ও অন্যান্য সেবাখাতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

একই সঙ্গে দেশের পর্যটন শিল্পকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও পরিচিত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

ডিসেম্বরে চালুর লক্ষ্য শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনাল

এদিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালুর বিষয়েও অগ্রগতির কথা জানিয়েছেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, আগামী ডিসেম্বর মাসে তৃতীয় টার্মিনাল চালু করার লক্ষ্যে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও চলছে।

মন্ত্রী জানান, আগামী সেপ্টেম্বর মাসে জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে এ বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে।

বাড়বে বিমানবন্দরের সক্ষমতা

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে বিমানবন্দরের সামগ্রিক সক্ষমতা আরও বাড়বে বলে জানান এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

একই সঙ্গে যাত্রীসেবার মান উন্নত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বাংলাদেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে শাহজালাল বিমানবন্দরের ওপর দীর্ঘদিন ধরেই যাত্রী ও ফ্লাইটের চাপ রয়েছে। তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে এই চাপ সামাল দেওয়ার সক্ষমতা বাড়বে এবং যাত্রীদের জন্য আরও আধুনিক সেবা নিশ্চিত করার সুযোগ তৈরি হবে।

এভিয়েশন খাতের সাংবাদিকদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ

সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সৌজন্য সাক্ষাতে এভিয়েশন ও পর্যটন খাতের বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়। এ সময় এটিজেএফবির সভাপতি তানজিম আনোয়ার বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ায় এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতকে সংগঠনের পক্ষ থেকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন মন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের এভিয়েশন ও পর্যটন খাত আরও এগিয়ে যাবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের বিমান যোগাযোগ ও পর্যটন সক্ষমতা শক্তিশালী হবে।

সাক্ষাৎকালে এটিজেএফবির সাধারণ সম্পাদক বাতেন বিপ্লবসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

বিমান যোগাযোগ সম্প্রসারণে নতুন দিগন্ত

কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চালু এবং শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল কার্যক্রমে আনার উদ্যোগ বাংলাদেশের বিমান যোগাযোগ ও পর্যটন খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

একদিকে কক্সবাজার থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ তৈরি হলে দেশের পর্যটন শিল্পে বিদেশি পর্যটক আকর্ষণের সম্ভাবনা বাড়বে। অন্যদিকে শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সক্ষমতা ও যাত্রীসেবার পরিধি বাড়বে।

সব মিলিয়ে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালকে ঘিরে সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের এভিয়েশন খাত আরও আধুনিক ও আন্তর্জাতিকমুখী হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

 

 


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/15741 ,   Print Date & Time: Monday, 24 August 2026, 10:37:24 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh