• হোম > মতামত > ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশ: রাষ্ট্রীয় সংকট ও পুনর্গঠনের প্রশ্ন

৫ আগস্টের পর বাংলাদেশ: রাষ্ট্রীয় সংকট ও পুনর্গঠনের প্রশ্ন

  • সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ১৪:২৬
  • ১৪

---

 

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

দেশের প্রথিতযশা সাংবাদিক ও সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরীর একটি মন্তব্যকে ঘিরে ৫ আগস্ট-পরবর্তী বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় বাস্তবতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তিনি বলেছেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে যেভাবে মিডিয়া হাউজগুলো দখল হয়েছে…’। তার এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোতে হামলা, ভাঙচুর ও দখলচেষ্টার ঘটনা এবং সেসব ঘটনার পেছনে রাষ্ট্রের প্রশাসনিক সক্ষমতা ও বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী মহলের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন সামনে এসেছে।

তবে এই বিতর্ককে শুধু গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান দখল বা হামলার ঘটনাগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে ৫ আগস্ট-পরবর্তী বাংলাদেশের সামগ্রিক বাস্তবতা পুরোপুরি বোঝা সম্ভব নয়। কারণ ওই সময় দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামো এক গভীর পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল।

৫ আগস্টের পর রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় বড় ধাক্কা

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশের পরিস্থিতি ছিল অভূতপূর্ব। ওই দিন শুধু একটি রাজনৈতিক সরকারের পতন ঘটেনি, রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতাও বড় ধরনের সংকটে পড়ে।

সরকারপ্রধান ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশত্যাগ করেন। একই সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর, বিশেষ করে পুলিশের একটি বড় অংশ হামলা, নিরাপত্তাহীনতা ও ভয়াবহ পরিস্থিতির কারণে কর্মক্ষেত্র থেকে সরে যেতে বাধ্য হয়। এর ফলে রাষ্ট্রের আইন প্রয়োগ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার সক্ষমতা মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে।

জাতীয় সংসদও বিলুপ্ত হয়। স্পিকারসহ সংসদ সদস্যদের একটি বড় অংশ আত্মগোপনে চলে যান। সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের অনেকে নিরাপত্তাজনিত কারণে প্রকাশ্য কার্যক্রম থেকে সরে যেতে বাধ্য হন। রাষ্ট্রপতিও বঙ্গভবনে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে অবস্থান করছিলেন।

ফলে রাষ্ট্রের নির্বাহী, আইনসভা ও বিচার বিভাগ—এই তিন সাংবিধানিক অঙ্গের স্বাভাবিক কার্যক্রম একই সময়ে ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় রাষ্ট্রীয় সক্ষমতাও গভীর সংকটে পড়ে।

এ কারণে ৫ আগস্টের ঘটনাকে কেবল একটি সরকার পরিবর্তন হিসেবে দেখলে পরিস্থিতির গভীরতা বোঝা কঠিন। এটি ছিল রাষ্ট্রের কার্যকর সক্ষমতারও বড় ধরনের সংকট।

সরকার ও রাষ্ট্র এক বিষয় নয়

একটি রাষ্ট্র কেবল একটি সরকার দিয়ে গঠিত নয়। আইন, প্রশাসন, বিচারব্যবস্থা, নিরাপত্তা কাঠামো, রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব এবং জনগণের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক—সবকিছু মিলেই রাষ্ট্রের কার্যক্ষমতা তৈরি হয়।

কোনো সরকারের পতনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তন হতে পারে। কিন্তু একই সময়ে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যকর কর্তৃত্ব হারালে সংকটটি শুধু সরকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; তা রাষ্ট্রের কার্যকারিতার সংকটে পরিণত হয়।

৫ আগস্ট-পরবর্তী বাংলাদেশের পরিস্থিতি বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে তাই সরকার পরিবর্তন এবং রাষ্ট্রীয় সক্ষমতার সংকট—এই দুই বিষয়কে আলাদাভাবে বিবেচনা করা জরুরি।

রাষ্ট্রের আইনগত অস্তিত্ব তখনও বহাল ছিল। কিন্তু এর গুরুত্বপূর্ণ অনেক প্রতিষ্ঠানের কার্যকর সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এই বাস্তবতা উপলব্ধি না করলে ওই সময়ের অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা কঠিন।

কঠিন বাস্তবতায় দায়িত্ব নেয় অন্তর্বর্তী সরকার

অন্তর্বর্তী সরকার কোনো স্বাভাবিক ও সম্পূর্ণ কার্যকর রাষ্ট্রের ওপর দায়িত্ব নেয়নি। বরং এমন এক সময়ে দায়িত্ব নেয়, যখন পুরোনো রাজনৈতিক বৈধতা গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে এবং নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তও তখনো পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

একটি স্বাভাবিক নির্বাচিত সরকার সাধারণত কার্যকর প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিচারব্যবস্থা, রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান এবং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনার ওপর দায়িত্ব গ্রহণ করে। কিন্তু ৫ আগস্ট-পরবর্তী পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।

তখন অন্তর্বর্তী সরকারের সামনে প্রথম কাজ ছিল রাষ্ট্রের মৌলিক কার্যক্রম পুনরায় সচল করা। এরপর আইনশৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর করা, সংস্কারের রাজনৈতিক ভিত্তি তৈরি, বিচারপ্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া এবং শেষ পর্যন্ত নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করা।

এই বাস্তবতার কারণেই অন্তর্বর্তী সরকারকে শুধু আরেকটি সরকার হিসেবে দেখলে তার ঐতিহাসিক অবস্থান পুরোপুরি বোঝা যাবে না।

গণ-অভ্যুত্থানের পর নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের প্রশ্ন

গণ-অভ্যুত্থান শুধু একটি সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার ঘটনা নয়; এর সঙ্গে নতুন রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বন্দোবস্তের দাবিও যুক্ত থাকে।

পুরোনো ক্ষমতাকাঠামো ভেঙে যাওয়ার পর নতুন রাষ্ট্রীয় কাঠামো কার্যকর করতে প্রয়োজন হয় প্রতিষ্ঠান, আইন ও রাজনৈতিক কর্তৃত্বের নতুন ভিত্তি।

৫ আগস্টের পর বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি ছিল এই পরিবর্তনের মধ্যবর্তী সময়টি সামাল দেওয়া। পুরোনো রাজনৈতিক কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়েছিল, কিন্তু নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত তখনও পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

এই অবস্থায় অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা ছিল পুরোনো রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও নতুন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মধ্যে একটি সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক সেতু হিসেবে কাজ করা—এমনটাই মনে করেন লেখক।

গণমাধ্যমে হামলা ও দখলচেষ্টার প্রশ্ন

৫ আগস্টের পর বিভিন্ন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর কিংবা দখলচেষ্টার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনা নিয়ে সাংবাদিক মহল ও নাগরিক সমাজে উদ্বেগও তৈরি হয়।

মতিউর রহমান চৌধুরীর মন্তব্য সেই আলোচনাকে আবার সামনে এনেছে। তবে এসব ঘটনার পেছনে রাষ্ট্রের প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর ভূমিকা আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন বলে মত উঠে এসেছে।

কারণ কোনো প্রতিষ্ঠান হামলা বা দখলচেষ্টার শিকার হওয়া এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে কোনো প্রতিষ্ঠান দখল করা—দুটি বিষয়কে একইভাবে দেখার সুযোগ নেই।

এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, ওই সময়ে রাষ্ট্রের আইন প্রয়োগকারী সক্ষমতা কতটা কার্যকর ছিল, পুলিশ ও প্রশাসনের কমান্ড কাঠামো কতটা সচল ছিল এবং রাজনৈতিক কর্তৃত্বের কেন্দ্র কতটা কার্যকরভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারছিল।

রাজনৈতিক আচরণ নিয়েও প্রশ্ন

৫ আগস্টের পর রাষ্ট্রের ভঙ্গুর পরিস্থিতির মধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি, আন্দোলন ও দাবি সামনে আসে। এসব কর্মকাণ্ডের অনেকগুলো গণতান্ত্রিক অধিকারের অংশ হলেও, একটি সদ্য-বিপর্যস্ত রাষ্ট্রের ওপর অতিরিক্ত রাজনৈতিক চাপ কতটা কার্যকর ছিল, তা নিয়েও আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে।

লেখকের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি অন্ধ আনুগত্যের প্রয়োজন নেই। সরকারের ভুল হলে তার সমালোচনা করতে হবে, অন্যায় হলে প্রতিবাদ করতে হবে এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

তবে একই সঙ্গে রাষ্ট্রকে স্থিতিশীল হওয়ার সুযোগ না দিয়ে ধারাবাহিক রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা এবং পরবর্তী অস্থিরতার পুরো দায় সরকারের ওপর চাপিয়ে দেওয়াও পরিস্থিতির পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন নয়।

গণ-অভ্যুত্থানের পর একটি নতুন রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা গড়ে তোলার দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়; রাজনৈতিক দল, সামাজিক শক্তি এবং নাগরিক সমাজেরও দায়িত্ব রয়েছে—এমন মত তুলে ধরা হয়েছে লেখাটিতে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সামনে তিনটি বড় দায়িত্ব

লেখাটিতে অন্তর্বর্তী সরকারের সামনে মূলত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের কথা তুলে ধরা হয়েছে—নির্বাচন, সংস্কার ও বিচার।

প্রথমত, নির্বাচন আয়োজন। একটি কার্যকর নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য প্রয়োজন নিরাপত্তা, প্রশাসনিক সক্ষমতা, নির্বাচন ব্যবস্থাপনা, আইনগত কাঠামো এবং রাজনৈতিক পরিবেশ। ৫ আগস্টের পর এসব ক্ষেত্রের অনেকগুলোই সংকটের মধ্যে ছিল।

তাই ওই পরিস্থিতিতে নির্বাচন আয়োজন শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের বিষয় ছিল না; বরং রাষ্ট্রকে এমন পর্যায়ে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া ছিল, যেখানে জনগণের ভোটের মাধ্যমে রাজনৈতিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

দ্বিতীয়ত, সংস্কার। গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম আকাঙ্ক্ষা ছিল রাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোয় পরিবর্তন আনা। সেই আকাঙ্ক্ষাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্য সংস্কার প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

এ ক্ষেত্রে জুলাই সনদ ও গণভোটকে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক কাঠামো নিয়ে জনগণের মতামত ও অনুমোদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে দেখানো হয়েছে।

তৃতীয়ত, বিচার। গণ-অভ্যুত্থানের সময় হত্যা, নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের বিচারও একটি বড় দাবি ছিল। এই বিচারকে প্রতিশোধের পরিবর্তে রাষ্ট্রের ন্যায়বিচার ও নৈতিক পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে দেখার প্রয়োজন রয়েছে।

সরকারের সমালোচনা থাকবে, তবে মূল্যায়ন হতে হবে ভারসাম্যপূর্ণ

অন্তর্বর্তী সরকারের ভুল, ব্যর্থতা, প্রশাসনিক দুর্বলতা, রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এবং বিতর্কিত পদক্ষেপের জবাবদিহি অবশ্যই প্রয়োজন। কোনো সরকারই সমালোচনার ঊর্ধ্বে নয়।

তবে একই সঙ্গে একটি কার্যত বিপর্যস্ত রাষ্ট্রের মধ্যে দাঁড়িয়ে সরকার কী কী প্রতিষ্ঠান পুনরায় কার্যকর করার চেষ্টা করেছে, কোন কাজগুলো শুরু করেছে এবং ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের জন্য কী ধরনের ভিত্তি তৈরি করেছে—সেগুলোকেও মূল্যায়নের অংশ করতে হবে।

শুধু ব্যর্থতার তালিকা তৈরি করলে ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় একমাত্রিক হয়ে যেতে পারে। আবার অর্জনের কথা বলতে গিয়ে ব্যর্থতা বা বিতর্কিত কর্মকাণ্ড আড়াল করাও ইতিহাসের নির্মোহ মূল্যায়ন হবে না।

তাই প্রয়োজন না অতিরিক্ত মহিমান্বিত করা, না একতরফা নিন্দা করা; বরং পুরো বাস্তবতার মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা মূল্যায়ন করা।

৫ আগস্টের ইতিহাস শুধু পতনের নয়

৫ আগস্ট বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁক। ওই দিন একটি রাজনৈতিক সরকারের পতন ঘটে এবং একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় কাঠামোও বড় ধরনের সংকটে পড়ে।

এরপর রাষ্ট্রকে পুনরায় কার্যকর করা, আইনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, প্রতিষ্ঠানগুলোকে সচল করা, নির্বাচন আয়োজন, সংস্কারের ভিত্তি তৈরি এবং বিচারপ্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার মতো একাধিক চ্যালেঞ্জ সামনে আসে।

তাই ৫ আগস্টের ইতিহাসকে শুধু একটি সরকারের পতনের ইতিহাস হিসেবে দেখলে এর পূর্ণাঙ্গ তাৎপর্য ধরা পড়বে না। এটি একই সঙ্গে একটি ভঙ্গুর রাষ্ট্রকে পুনরায় কার্যকর করার কঠিন সময়ের ইতিহাস।

গণ-অভ্যুত্থান একটি পুরোনো ক্ষমতাকাঠামোর পতন ঘটাতে পারে। কিন্তু সেই বিজয়কে একটি কার্যকর, ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রূপান্তর করা আরও বড় চ্যালেঞ্জ।

সেই কারণে ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ের মূল্যায়নে গণমাধ্যমে হামলা, প্রশাসনিক দুর্বলতা, রাজনৈতিক সংঘাত কিংবা সরকারের ব্যর্থতার পাশাপাশি রাষ্ট্র পুনর্গঠনের প্রচেষ্টাকেও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

ইতিহাসের বিচার সাধারণত একমাত্রিক হয় না। কোনো একটি ঘটনা, ব্যর্থতা বা বিতর্ক দিয়ে একটি পুরো সময়কে মূল্যায়ন করলে সেই সময়ের বাস্তবতা ও জটিলতা আড়ালে পড়ে যেতে পারে।

৫ আগস্টের পর বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা তাই শুধু ক্ষমতার পরিবর্তনের গল্প নয়; এটি রাষ্ট্রের কার্যক্ষমতা পুনর্গঠন, নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের সন্ধান এবং গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নির্মাণেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/15735 ,   Print Date & Time: Monday, 24 August 2026, 10:15:38 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh