
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লি কাজ করছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। দুই দেশের আলোচনার মাধ্যমে সরকারপ্রধানের সফরের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (২৪ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব বণ্টনের পর নিজ দপ্তরে যোগ দেন নতুন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। এ সময় একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর এবং বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে কথা বলেন তিনি।
তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে আলোচনা
প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির বলেন, এ বিষয়ে দুই দেশই কাজ করছে। ঢাকা ও নয়াদিল্লির পারস্পরিক সুবিধাজনক সময় বিবেচনা করে সফরের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হবে।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময়সূচি নির্ধারণের ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা ও সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ। পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতেই সফরের চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ করা হবে।
এতে বোঝা যাচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে দুই দেশের কূটনৈতিক পর্যায়ে যোগাযোগ ও প্রস্তুতি চলছে। তবে এখনো সফরের নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে ইতিবাচক বার্তা
বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বলে জানান হুমায়ুন কবির।
তিনি বলেন, প্রতিবেশী দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নিতে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহযোগিতার পরিবেশ গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ তার জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও কার্যকর ও ভারসাম্যপূর্ণভাবে এগিয়ে নিতে চায়।
দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিজের দায়িত্বের বিষয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, দেশের স্বার্থ রক্ষা করে কূটনীতিতে ভারসাম্য বজায় রাখাই তার অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
তিনি স্পষ্ট করেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে জাতীয় স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রেও সমতা ও ন্যায্যতার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।
হুমায়ুন কবিরের ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সমতা এবং ন্যায্যতার ভিত্তিতে গড়ে তুলতে চায় সরকার। দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করার লক্ষ্য থাকবে।
সফর ঘিরে কূটনৈতিক গুরুত্ব
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর চূড়ান্ত হলে তা বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি কূটনৈতিক ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হবে। বিশেষ করে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সরকারপ্রধান পর্যায়ে আলোচনা হতে পারে।
তবে সফরের তারিখ, আলোচ্যসূচি কিংবা সম্ভাব্য বৈঠকগুলোর বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সুবিধাজনক সময়ে সফরের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হবে।
নতুন দায়িত্ব নেওয়ার পর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে বাংলাদেশের কূটনীতিতে জাতীয় স্বার্থ, সমতা ও ন্যায্যতার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। একই সঙ্গে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে ইতিবাচকভাবে এগিয়ে নেওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি।