• হোম > এশিয়া | বিদেশ > ফারাক্কার সব গেট খুলে দিতে আহ্বান বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর

ফারাক্কার সব গেট খুলে দিতে আহ্বান বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর

  • সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ১৩:২৩
  • ৯

---

 

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

গঙ্গার পানি বৃদ্ধি এবং বিহারের বন্যা পরিস্থিতি বিবেচনায় ফারাক্কা ব্যারেজের সব পানিকপাট খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী। রোববার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে তিনি এ অনুরোধ জানান।

পরে সামাজিকমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সম্রাট চৌধুরী বলেন, গঙ্গার পানির উচ্চতা বৃদ্ধি এবং বিহারের বন্যা পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে তিনি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। এ সময় তিনি ফারাক্কা ব্যারেজের সব গেট খুলে দেওয়ার অনুরোধ জানান।

বিহারের মুখ্যমন্ত্রী জানান, ফারাক্কার সব গেট খুলে দিলে গঙ্গার পানির প্রবাহ স্বাভাবিক হতে পারে। একই সঙ্গে এর মাধ্যমে বিহারের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেও সহায়তা মিলবে বলে তিনি মনে করেন।

সম্রাট চৌধুরীর ভাষ্য অনুযায়ী, তার অনুরোধের পর এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। বিহারের নিরাপত্তা ও বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

ফারাক্কার গেট খোলার দাবি কেন

বিহারে গঙ্গার পানি বাড়তে থাকায় বিভিন্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নদীর পানির প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে ফারাক্কা ব্যারেজের পানিকপাট খুলে দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর মতে, ব্যারেজের গেট খুলে দেওয়া হলে গঙ্গার পানির প্রবাহ আরও স্বাভাবিকভাবে নিচের দিকে যেতে পারবে। এতে অতিরিক্ত পানির চাপ কমানো এবং বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করা সম্ভব হতে পারে।

ফারাক্কা ব্যারেজ ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গঙ্গা নদীর ওপর নির্মিত একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের অভিন্ন নদীর পানি ব্যবস্থাপনা ও আন্তঃসীমান্ত পানি প্রবাহের আলোচনায়ও ফারাক্কা দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নিয়েও আলোচনা

এদিকে ফারাক্কা ইস্যুর পাশাপাশি ১৯৯৬ সালের ভারত-বাংলাদেশ গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নের সময় বিহারের স্বার্থ বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন ভারতের জনতা দল-ইউনাইটেডের (জেডিইউ) সাংসদ সঞ্জয় ঝা।

তার মতে, ১৯৯৬ সালের গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির ৩০ বছর পূর্ণ হতে যাচ্ছে। ফলে চুক্তি নবায়নের আগে বিহারের পানিসংক্রান্ত স্বার্থ ও প্রয়োজনকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে। এসব নদীর পানি ব্যবস্থাপনা দুই দেশের সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এর মধ্যে গঙ্গার পানি বণ্টন নিয়ে ১৯৯৬ সালে দুই দেশের মধ্যে একটি চুক্তি হয়।

ওই চুক্তির আওতায় ফারাক্কা ব্যারেজে শুষ্ক মৌসুমে গঙ্গার পানির প্রবাহ ও বণ্টনসংক্রান্ত বিষয় নির্ধারণ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এই চুক্তির বাস্তবায়ন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আলোচনা হয়ে আসছে।

তিস্তার পানি বণ্টনও অমীমাংসিত

গঙ্গার পাশাপাশি তিস্তা নদীর পানি বণ্টন নিয়েও বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে। একাধিক দফায় উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখনো দুই দেশ এ বিষয়ে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি।

২০১১ সালে তিস্তার পানি বণ্টন নিয়ে একটি চুক্তির প্রস্তাব করা হয়েছিল। ওই প্রস্তাবে তিস্তার পানির ৪২ দশমিক ৫ শতাংশ ভারতের এবং ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দের কথা বলা হয়েছিল। অবশিষ্ট পানি অন্যান্য বিষয় বিবেচনায় ভাগ করার প্রস্তাব ছিল।

তবে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিরোধিতার কারণে ওই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে তিস্তার পানি বণ্টন এখনো দুই দেশের মধ্যে অমীমাংসিত একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে রয়েছে।

এদিকে বিহারের বন্যা পরিস্থিতির মধ্যে ফারাক্কার সব গেট খুলে দেওয়ার আহ্বান নতুন করে গঙ্গার পানিপ্রবাহ, আন্তঃরাজ্য পানি ব্যবস্থাপনা এবং ভারত-বাংলাদেশের পানি বণ্টন ইস্যুকে আলোচনায় নিয়ে এসেছে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/15723 ,   Print Date & Time: Monday, 24 August 2026, 09:22:58 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh