• হোম > বাংলাদেশ | বিচার বিভাগ > নুসরাত হত্যা মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল

নুসরাত হত্যা মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল

  • সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ১৩:১০
  • ১৩

---

 

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

ফেনীর আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা ও শাহাদাত হোসেন শামীমের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে মামলার চার আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে এবং ১০ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। আসামিদের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য পাঠানো ডেথ রেফারেন্স এবং আসামিদের করা আপিল ও জেল আপিলের ওপর শুনানি শেষে এ রায় দেওয়া হয়।

এর আগে ২০ আগস্ট উভয় পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হলে মামলাটির রায় ঘোষণার জন্য ২৪ আগস্ট দিন ধার্য করেন হাইকোর্ট।

ট্রাইব্যুনালের রায়ে ১৬ জনের মৃত্যুদণ্ড

২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল নুসরাত হত্যা মামলায় ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন। একই সঙ্গে প্রত্যেক আসামিকে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর আসামিদের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলার সব নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়। এর পর আসামিরা জেল আপিল ও ফৌজদারি আপিল করেন। এসব আবেদন ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শেষে হাইকোর্ট আজ রায় ঘোষণা করেন।

হাইকোর্টের রায়ে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা ও শাহাদাত হোসেন শামীমের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। পাশাপাশি চার আসামির যাবজ্জীবন সাজা এবং ১০ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

যেভাবে নুসরাতকে হত্যার ঘটনা

২০১৯ সালের ২৭ মার্চ নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন হয়রানির অভিযোগে তার মা শিরীন আখতার সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, সিরাজ উদদৌলার অনুসারীরা তাকে কারাগার থেকে মুক্ত করার জন্য জনমত তৈরির চেষ্টা করেন। পরে ৩ এপ্রিল কয়েকজন অভিযুক্ত কারাগারে গিয়ে সিরাজ উদদৌলার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পরদিন ৪ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাত্রাবাসে নুসরাতকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে মামলায় উঠে আসে।

এরপর ৬ এপ্রিল আলিম পরীক্ষা দিতে মাদ্রাসায় গেলে নুসরাতকে কৌশলে সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার গায়ে আগুন ধরিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়।

গুরুতর দগ্ধ নুসরাতকে উদ্ধার করে প্রথমে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে তাকে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নেওয়া হয়।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু

গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় কয়েক দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ২০১৯ সালের ১০ এপ্রিল নুসরাত জাহান রাফি মারা যান। তার মৃত্যুর ঘটনায় নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান হত্যা মামলা করেন।

নুসরাতের মৃত্যুর ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিবাদ ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সোচ্চার হন।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে একই বছরের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল মামলার ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন। তবে আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আগে মামলাটি হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স হিসেবে আসে। একই সঙ্গে আসামিরা দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল ও জেল আপিল করেন।

সেই আবেদনগুলোর ওপর শুনানি শেষে হাইকোর্টের রায়ে এবার দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। চারজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১০ আসামির খালাসের মধ্য দিয়ে মামলাটির উচ্চ আদালতের পর্যায়ের বিচারিক প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত এসেছে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/15720 ,   Print Date & Time: Monday, 24 August 2026, 09:05:00 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh