
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
বাংলাদেশের প্রথম বেসরকারি অর্থায়নে সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে একটি বেসরকারি কনসোর্টিয়াম। তবে প্রকল্পের জন্য ভাড়া করা দুটি ক্যাবল স্থাপনকারী জাহাজকে বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশের প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র দেয়নি সরকার। ফলে জাহাজ দুটি এখনো দেশের জলসীমায় প্রবেশ করতে পারছে না এবং নিয়ন্ত্রক অনুমোদনসংক্রান্ত জটিলতায় প্রকল্পটির বাস্তবায়ন আরও পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জানা গেছে, সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপনের জন্য ভাড়া করা জাহাজ দুটি হলো সিএস ব্লু ও এনডেভার। জাহাজ দুটিকে বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ এবং ক্যাবল স্থাপনের অনুমতি দিতে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) কাছে আবেদন করেছে বেসরকারি কোম্পানি সিডিনেট কমিউনিকেশনস।
এ বিষয়ে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছে, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের অগ্রায়নপত্র ছাড়া কোনো বেসরকারি কোম্পানিকে সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপনের অনাপত্তি বা ছাড়পত্র না দিতে।
মন্ত্রণালয়ের উপসচিব কানিজ ফাতেমার সই করা চিঠিতে বলা হয়েছে, বেসরকারি পর্যায়ে সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপনের লক্ষ্যে সিএস ব্লু ও এনডেভার নামের দুটি জাহাজ বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ এবং সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপনের প্রয়োজনীয় অনুমতি বা অনাপত্তি চেয়ে সিডিনেটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সরাসরি এনএসআইকে চিঠি দিয়েছেন। চিঠিটির অনুলিপি ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিবের অবগতির জন্যও পাঠানো হয়েছে।
ছাড়পত্র নিয়ে মন্ত্রণালয়ের আপত্তি
মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, একই ধরনের ছাড়পত্র পাওয়ার জন্য এর আগে বেসরকারি কোম্পানি মেটাকোর সাবকম পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও এনএসআইকে সুপারিশপত্র দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিবের কাছে আবেদন করেছিল।
তবে বেসরকারি সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপনের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ। লাইসেন্সের শর্ত লঙ্ঘনের আশঙ্কা, জাতীয় নিরাপত্তা এবং সরকারি ও শেয়ারহোল্ডারদের বিপুল অর্থের নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নিয়ে এ বিষয়ে ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি বলে মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে জানানো হয়েছে।
এ অবস্থায় ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের অগ্রায়নপত্র ছাড়া কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপনের অনাপত্তি বা ছাড়পত্র না দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ করা হয়েছে।
৬৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রকল্প
বাংলাদেশে বেসরকারি অর্থায়নে সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপনের এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে সামিট কমিউনিকেশনস, সিডিনেট কমিউনিকেশনস ও মেটাকোর সাবকম নিয়ে গঠিত বাংলাদেশ প্রাইভেট ক্যাবল সিস্টেম কনসোর্টিয়াম কাজ করছে।
গত এপ্রিলে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানা যায়, কনসোর্টিয়ামটি প্রকল্পের প্রস্তুতিমূলক কাজে প্রায় ৫ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার বা প্রায় ৬৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। কিন্তু আন্তমন্ত্রণালয় অনুমোদনে বিলম্ব হওয়ায় প্রকল্পটির অগ্রগতি আটকে যায়।
প্রকল্পের মূল কাজ শুরু করার প্রস্তুতি হিসেবে ক্যাবল স্থাপনকারী দুটি জাহাজও ভাড়া করা হয়েছিল। সিএস ব্লু ও এনডেভারকে বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশের অনুমতি দিতে সরকারের কাছে পৃথকভাবে আবেদনও করা হয়। কিন্তু প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র না পাওয়ায় জাহাজ দুটি এখনো দেশের জলসীমায় প্রবেশ করতে পারেনি।
সরকারি-বেসরকারি সাবমেরিন ক্যাবল নিয়ে জটিলতা
বাংলাদেশে সাবমেরিন ক্যাবল খাতের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর বড় অংশ সরকারি অর্থায়নে গড়ে উঠেছে। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের অধীন সরকারি মালিকানাধীন বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস কোম্পানি (বিএসসিপিএলসি) এ খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, সরকারি প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করা বিপুল অর্থের নিরাপত্তা, লাইসেন্সের শর্ত, জাতীয় নিরাপত্তা এবং বেসরকারি সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপনের সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনা করে ছাড়পত্রের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
ফলে একদিকে বেসরকারি কনসোর্টিয়ামের বিপুল বিনিয়োগ ও প্রস্তুতি সম্পন্ন হলেও অন্যদিকে নিয়ন্ত্রক অনুমোদন না পাওয়ায় প্রকল্পের বাস্তবায়ন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। বিশেষ করে ক্যাবল স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় জাহাজ বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ করতে না পারায় মাঠপর্যায়ের কাজ শুরু করা যাচ্ছে না।
সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর অনুমোদন প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন না হলে বাংলাদেশের প্রথম বেসরকারি অর্থায়নে সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপনের প্রকল্পটির বাস্তবায়ন আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে।