• হোম > বিদেশ > নির্বাচনের আগে তুরস্কবিরোধী প্রচারণায় নেতানিয়াহু

নির্বাচনের আগে তুরস্কবিরোধী প্রচারণায় নেতানিয়াহু

  • রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬, ১৮:২৬
  • ১৩

---

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

নির্বাচন সামনে রেখে জনমত জরিপে পিছিয়ে পড়ার পর তুরস্কবিরোধী বক্তব্যকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু—এমন অভিযোগ উঠেছে দেশটির বিরোধী দল ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কাছ থেকে।

লেবানন ও ইরানে সামরিক অভিযান চালানোর পর যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ায় অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নেতানিয়াহু আরও চাপে পড়েছেন বলে মনে করছেন তাঁর সমালোচকেরা। একই সময়ে দুর্নীতির অভিযোগে বিচার এবং গাজা যুদ্ধ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে থাকা ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

নির্বাচনী জরিপে বড় ধাক্কা

ইসরায়েলের ১২০ আসনের পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে প্রয়োজন ৬১টি আসন। তবে সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির আসন ৩২ থেকে কমে ২৩টিতে নেমে আসতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

চ্যানেল ১৩-এর ১৯ আগস্টের জরিপ অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট সব মিলিয়ে ৫১টি আসন পেতে পারে। অর্থাৎ সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে ১০ আসন পিছিয়ে থাকতে পারে তাঁর জোট।

এই পরিস্থিতিতে নির্বাচনের আগে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান শক্ত করতে নিরাপত্তা ইস্যুকে সামনে আনার কৌশল নিয়েছেন নেতানিয়াহু—এমন দাবি করছেন বিরোধী নেতারা।

যুদ্ধবিরতি নিয়ে নিজ দেশেই সমালোচনা

লেবানন ও ইরানে সামরিক অভিযান চালানোর পর ওয়াশিংটনের আহ্বানে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ায় নেতানিয়াহুকে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে।

বিরোধী নেতা ইয়ার লাপিদ মন্তব্য করেছেন, নেতানিয়াহু যুদ্ধে হেরে গেছেন। সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যাভিগডোর লিবারম্যান তাঁকে ‘প্রধানমন্ত্রী নয়, পুতুল’ বলে কটাক্ষ করেছেন।

এমনকি নেতানিয়াহুর অতি-ডানপন্থি জোটসঙ্গী ইতামার বেন-গভিরও যুক্তরাষ্ট্রের চাপ প্রত্যাখ্যানের জন্য তাঁর প্রতি প্রকাশ্যে দাবি জানিয়েছেন।

তুরস্ককে ঘিরে নতুন রাজনৈতিক প্রচারণা

এই রাজনৈতিক চাপের মধ্যেই তুরস্ককে ঘিরে নেতানিয়াহু ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের বক্তব্য আরও আক্রমণাত্মক হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সিরিয়ার ইদলিবে সামরিক ঘাঁটিতে হামলার পর থেকে ইসরায়েলি সরকারের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা তুরস্কের ভূমিকা ও প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের নীতিকে নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে তুলে ধরছেন।

লিকুদ পার্টির আইনপ্রণেতা অমিচাই চিকলি ও জ্বালানিমন্ত্রী এলি কোহেন বিভিন্ন বক্তব্যে তুরস্কের কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এরদোয়ানকে লক্ষ্য করে তুর্কি ভাষায় আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিয়েছেন।

বিরোধীদের তীব্র সমালোচনা

নেতানিয়াহুর এই কৌশলকে অহংকারী ও বিপজ্জনক বলে আখ্যা দিয়েছেন দেশটির বিরোধী নেতারা।

ডেমোক্র্যাটস পার্টির নেতা ইয়ার গোলানের অভিযোগ, রাজনৈতিক স্বার্থে সামরিক শক্তি ব্যবহারের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইসরায়েলের দূরত্ব বাড়ছে। এর ফলে দেশটিকে নিরাপত্তাগত মূল্যও দিতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ বারাকসহ কয়েকজন বিশ্লেষকের মতে, নির্বাচনের আগে ভোটারদের আকৃষ্ট করতে এবং জনমত নিজের পক্ষে ফেরাতে তুরস্ক ও সিরিয়াকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা উত্তেজনা সামনে আনছেন নেতানিয়াহু।

তাঁদের মতে, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকটের সময়ে নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতির ইস্যুকে রাজনৈতিক প্রচারণার কেন্দ্রে নিয়ে আসা ইসরায়েলের রাজনীতিতে নতুন কিছু নয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এ ধরনের কৌশল আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে।

নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে, নেতানিয়াহু সরকার তুরস্ক ও সিরিয়াকে ঘিরে নিরাপত্তা ইস্যুকে কতটা সামনে রাখে এবং তা ভোটারদের ওপর কতটা প্রভাব ফেলে—এখন সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/15690 ,   Print Date & Time: Sunday, 23 August 2026, 10:51:58 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh