• হোম > বিদেশ > বারঘৌতির মুক্তি চান মার্ভেলের ২০ তারকাসহ ২০০ শিল্পী

বারঘৌতির মুক্তি চান মার্ভেলের ২০ তারকাসহ ২০০ শিল্পী

  • রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬, ১৮:১৪
  • ১৩

---

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

ইসরাইলি কারাগারে বন্দি ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক নেতা মারওয়ান বারঘৌতির অবিলম্বে মুক্তির দাবিতে আন্তর্জাতিক প্রচারণায় সংহতি জানিয়েছেন বিশ্বের ২০০ জনেরও বেশি বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। তাঁদের মধ্যে মার্ভেল সিনেমার অন্তত ২০ জন জনপ্রিয় অভিনেতা-অভিনেত্রীও রয়েছেন।

‘ফ্রি মারওয়ান নাউ’ নামের একটি সংগঠনের ইনস্টাগ্রাম পোস্টের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য জেরুজালেম পোস্ট। ‘ফ্রিডম ফর মারওয়ান’ শীর্ষক এই প্রচারণায় চলচ্চিত্র, সংগীত ও সংস্কৃতি অঙ্গনের বিভিন্ন দেশের পরিচিত ব্যক্তিরা অংশ নিয়েছেন।

এই প্রচারণায় সংহতি জানানো তারকাদের মধ্যে রয়েছেন ‘ডক্টর স্ট্রেঞ্জ’খ্যাত অভিনেতা বেনেডিক্ট কাম্বারব্যাচ, ‘হাল্ক’খ্যাত মার্ক রাফালো, ‘ম্যাগনেটো’খ্যাত ইয়ান ম্যাককেলেন, কেট ব্লানচেট ও টিল্ডা সুইন্টনসহ আরও অনেকে।

বারঘৌতির মুক্তির আহ্বান

প্রচারাভিযানের সংগঠকদের প্রকাশিত বিবৃতিতে মারওয়ান বারঘৌতির দীর্ঘদিনের কারাবাস, বন্দিদশায় তাঁর ওপর নির্যাতন এবং আইনি অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

বিবৃতিতে জাতিসংঘ ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারের প্রতি ইসরাইলি কারাগার থেকে বারঘৌতিকে মুক্ত করতে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়।

গত বছরের শেষ দিকে মারওয়ান বারঘৌতির পরিবার যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন মানবাধিকার ও সামাজিক সংগঠনের সহযোগিতায় এই আন্তর্জাতিক প্রচারণা শুরু করে। অভিনেতাদের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের খ্যাতনামা সংগীতশিল্পী, লেখক ও চলচ্চিত্র পরিচালকরাও প্রচারণার বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন।

এর আগে চলতি বছরের মে মাসে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা প্রথম কোনো রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে বারঘৌতির মুক্তির দাবিতে একটি আন্তর্জাতিক পিটিশনে স্বাক্ষর করেন।

কে এই মারওয়ান বারঘৌতি?

মারওয়ান বারঘৌতি ফিলিস্তিনের রাজনৈতিক দল ফাতাহর একজন জ্যেষ্ঠ নেতা। তিনি ফাতাহর সশস্ত্র শাখা আল-আকসা মার্টার্স ব্রিগেডসের সাবেক প্রধান হিসেবেও পরিচিত। প্রথম ও দ্বিতীয় ফিলিস্তিনি ইন্তিফাদার সময় তিনি গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বস্থানীয় ভূমিকা পালন করেন।

২০০২ সালে ইসরাইলি বাহিনী তাঁকে গ্রেপ্তার করে। এরপর ইসরাইলি আদালতে তাঁর বিচার হয়।

ইসরাইলি আদালতে সাজা

ইসরাইলের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০০১ থেকে ২০০২ সালের মধ্যে ইসরাইলি নাগরিকদের লক্ষ্য করে কয়েকটি বন্দুক হামলা ও আত্মঘাতী বোমা হামলার পরিকল্পনার সঙ্গে বারঘৌতি জড়িত ছিলেন।

২০০৪ সালে ইসরাইলি আদালত তাঁকে পাঁচটি হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা এবং একটি হত্যাচেষ্টার ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত করে। আদালত তাঁকে পাঁচটি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি অতিরিক্ত ৪০ বছরের কারাদণ্ড দেয়।

তবে বারঘৌতি শুরু থেকেই ইসরাইলি আদালতের এখতিয়ার ও বিচারপ্রক্রিয়া প্রত্যাখ্যান করে আসছেন।

ফিলিস্তিনিদের কাছে জনপ্রিয় নেতা

দুই দশকেরও বেশি সময় কারাগারে থাকার পরও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে মারওয়ান বারঘৌতির জনপ্রিয়তা বজায় রয়েছে। তাঁর সমর্থকেরা তাঁকে ফিলিস্তিনি জাতীয় নেতৃত্ব ও প্রতিরোধের অন্যতম প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করেন।

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক জরিপের তথ্য অনুযায়ী, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জনপ্রিয়তার দিক থেকে বারঘৌতি এগিয়ে রয়েছেন। জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ৫৪ শতাংশ ভোটার তাঁকে সমর্থন করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বারঘৌতির সমর্থকেরা তাঁকে প্রায়ই ‘ফিলিস্তিনের নেলসন ম্যান্ডেলা’ হিসেবে অভিহিত করেন।

মুক্তির দাবিতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে প্রচারণা জোরদার হওয়ায় দীর্ঘদিনের এই বন্দির ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক আলোচনা আরও গুরুত্ব পেতে পারে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/15686 ,   Print Date & Time: Sunday, 23 August 2026, 10:48:18 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh