• হোম > এক্সক্লুসিভ | বাংলাদেশ > বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্ক: দূরত্ব নয়, দরকার স্বার্থের ভারসাম্য

বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্ক: দূরত্ব নয়, দরকার স্বার্থের ভারসাম্য

  • শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬, ১৯:৫২
  • ১০

---

বিশেষ প্রতিনিধি

একটি দেশের পররাষ্ট্রনীতি অনেকটা নদীর মতো। তার গতিপথ কখনো সরল হয়, কখনো বাঁক নেয়; কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে নিজের ভূগোল, বাস্তবতা ও প্রয়োজনের মধ্য দিয়েই পথ খুঁজে নিতে হয়। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রেও কথাটি বিশেষভাবে প্রযোজ্য। দক্ষিণ এশিয়ার মানচিত্রে বাংলাদেশের সবচেয়ে দীর্ঘ সীমান্ত ভারতের সঙ্গে। দুই দেশের মধ্যে রয়েছে অভিন্ন নদী, বাণিজ্য, জ্বালানি, যোগাযোগ, সীমান্ত, নিরাপত্তা ও মানুষের যাতায়াতের সম্পর্ক। ফলে ভারতকে পছন্দ করা বা না করার প্রশ্নের চেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—ভারতের সঙ্গে সম্পর্কটি কীভাবে বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থে পরিচালিত হবে।

নতুন সরকারের সামনে এই প্রশ্নটি কূটনীতির একটি বড় পরীক্ষা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির কথা বলছে। এই নীতির বাস্তব মূল্যায়ন হবে বক্তৃতায় নয়, সিদ্ধান্তে। কোন দেশের সঙ্গে কতটা ঘনিষ্ঠতা থাকবে, কোথায় সহযোগিতা হবে, কোথায় দর-কষাকষি হবে এবং কোথায় বাংলাদেশের স্বার্থে দৃঢ় অবস্থান নেওয়া হবে—এসব সিদ্ধান্তেই বোঝা যাবে নীতিটির অর্থ কী।

প্রতিবেশীকে এড়িয়ে চলার সুযোগ নেই:

আন্তর্জাতিক সম্পর্কের একটি সহজ বাস্তবতা হলো, প্রতিবেশী বেছে নেওয়া যায় না। বাংলাদেশ চাইলেও ভারতের সঙ্গে ভৌগোলিক সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে যেতে পারবে না। আবার ভারতও বাংলাদেশের গুরুত্ব অস্বীকার করতে পারবে না। দুই দেশের এই পারস্পরিক বাস্তবতাই সম্পর্কের ভিত্তি।

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক শুধু রাজধানী থেকে রাজধানীর কূটনৈতিক যোগাযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সীমান্তের দুই পাশে বসবাসকারী মানুষের জীবন, কৃষিপণ্য, শিল্পের কাঁচামাল, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, সড়ক ও রেল যোগাযোগ—বহু ক্ষেত্রেই এই সম্পর্কের প্রত্যক্ষ প্রভাব রয়েছে।

বাংলাদেশের শিল্প খাতের দিকে তাকালেও বিষয়টি বোঝা যায়। পোশাক ও অন্যান্য উৎপাদনমুখী শিল্পে তুলা, সুতা, কাপড়, রাসায়নিক, রং, যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশের প্রয়োজন হয়। ভৌগোলিক নৈকট্যের কারণে ভারতের বাজার থেকে এসব পণ্য তুলনামূলক কম সময়ে আনা সম্ভব। সরবরাহব্যবস্থায় বড় ধরনের বাধা তৈরি হলে দূরের বাজার থেকে পণ্য আনতে পরিবহন ব্যয় ও সময় দুটোই বাড়তে পারে। এর প্রভাব পড়ে উৎপাদন খরচে, শেষ পর্যন্ত রপ্তানি প্রতিযোগিতাতেও।

অন্যদিকে বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ভারতের জন্যও মূল্যবান। বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে যোগাযোগের সুযোগ ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগ সহজ করতে পারে। একই সঙ্গে নেপাল ও ভুটানের সঙ্গেও আঞ্চলিক বাণিজ্য ও যোগাযোগের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। অর্থাৎ সম্পর্কটি একতরফা নির্ভরতার নয়; দুই দেশেরই পরস্পরের প্রয়োজন আছে।

ইতিহাস থেকে যে শিক্ষা:

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের সহযোগিতা বাংলাদেশের ইতিহাসের অংশ। স্বাধীনতার পর দুই দেশের সম্পর্ক কখনো ঘনিষ্ঠ হয়েছে, আবার কখনো রাজনৈতিক ও কৌশলগত কারণে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। এই ওঠানামার ইতিহাস থেকে একটি শিক্ষা পাওয়া যায়—রাষ্ট্রীয় সম্পর্ককে দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থের জায়গা থেকে দেখলে রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্যেও যোগাযোগের পথ খোলা রাখা সম্ভব।

১৯৭৫ সালের পর সম্পর্কের টানাপোড়েন কাটিয়ে ওঠার ক্ষেত্রে জিয়াউর রহমানের সময়কার কূটনৈতিক উদ্যোগের কথা প্রায়ই আলোচনায় আসে। ১৯৭৭ সালে তাঁর ভারত সফর এবং গঙ্গার পানি নিয়ে পরবর্তী সমঝোতা বাংলাদেশের কূটনৈতিক ইতিহাসের উল্লেখযোগ্য অধ্যায়। একই সময়ে চীন, জাপান ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক সম্প্রসারণের চেষ্টা দেখায়, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি কোনো একটি দেশের ওপর নির্ভরশীল না রেখে বিভিন্ন অংশীদারের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরির প্রয়োজন ছিল।

খালেদা জিয়ার সময়েও ভারতের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক আপত্তিকে পাশ কাটিয়ে রাষ্ট্রীয় সম্পর্ককে আলাদা জায়গায় রাখার চেষ্টা দেখা গেছে। ১৯৯১ সালে সরকার গঠনের পর তাঁর ভারত সফর এবং ২০১২ সালে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে ভারত সফর এ ক্ষেত্রে আলোচিত ঘটনা। এসব সফরের রাজনৈতিক ব্যাখ্যা ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু একটি বিষয় পরিষ্কার—প্রতিবেশীর সঙ্গে কথা বলার দরজা বন্ধ না রাখাই বাস্তববাদী কূটনীতির অংশ।

আজকের বাংলাদেশে সেই শিক্ষাটি নতুন করে প্রাসঙ্গিক।

সম্পর্ক খারাপ হলে ক্ষতি কার:

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্কে নানা বিষয়ে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। সীমান্ত, বাণিজ্য, ভিসা, পানি, রাজনৈতিক বক্তব্য—বিভিন্ন ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে অস্বস্তি দেখা গেছে। এর কিছু ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ক্ষোভের বাস্তব ভিত্তিও রয়েছে। সীমান্তে প্রাণহানি, নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা, বাণিজ্যিক বৈষম্য কিংবা কোনো দেশের বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের প্রবেশে বাধা—এসব বিষয়ে ঢাকার দৃঢ় অবস্থান থাকা দরকার।

কিন্তু সম্পর্কের সামগ্রিক অবনতি হলে প্রশ্ন হলো, তার খেসারত কে দেয়?

উদাহরণ হিসেবে ভিসা জটিলতার কথা ধরা যায়। চিকিৎসা, শিক্ষা ও ব্যবসার প্রয়োজনে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি ভারতে যান। ভিসা কার্যক্রম সীমিত হলে রাজনৈতিক নেতারা হয়তো বিকল্প পথ খুঁজে নিতে পারেন, কিন্তু সাধারণ রোগী, শিক্ষার্থী বা ছোট ব্যবসায়ীর জন্য সেই সুযোগ থাকে না।

একইভাবে বন্দর ব্যবহারে বিধিনিষেধ বা বাণিজ্যিক জটিলতা তৈরি হলে তার প্রভাব পড়ে রপ্তানিকারকের ওপর। সীমান্তে উত্তেজনা বাড়লে সীমান্তবর্তী এলাকার সাধারণ মানুষের জীবনেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।

তাই কোনো একটি বিষয়ে ভারতের সঙ্গে বিরোধ থাকলে সেই বিরোধের সমাধান চাওয়া এবং একই সময়ে অন্যান্য ক্ষেত্রে সহযোগিতা অব্যাহত রাখা—এই দুই কাজ একসঙ্গে করা সম্ভব। কূটনীতির কাজই হলো মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও স্বার্থের জায়গাগুলো খুঁজে বের করা।

‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ মানে কী:

‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ কথাটি শুনতে আকর্ষণীয়। কিন্তু এর বাস্তব অর্থ কী, সেটিই আসল প্রশ্ন।

এর অর্থ যদি হয়, বাংলাদেশের স্বার্থে কোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা হবে এবং প্রয়োজন হলে সেই সম্পর্ক নিয়ে কঠিন আলোচনা করা হবে, তাহলে এটি বাস্তববাদী নীতি। কিন্তু এর অর্থ যদি হয়, কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরোধিতা করাই জাতীয় স্বার্থের পরিচয়, তাহলে তা দীর্ঘমেয়াদে সমস্যার কারণ হতে পারে।

বাংলাদেশের জন্য ভারত যেমন প্রয়োজনীয় অংশীদার, তেমনি চীন, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, মধ্যপ্রাচ্য ও অন্যান্য দেশের সঙ্গেও সম্পর্ক জরুরি। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, জ্বালানি, শ্রমবাজার ও নিরাপত্তা—প্রতিটি ক্ষেত্রে অংশীদারদের বৈচিত্র্য বাংলাদেশের দর-কষাকষির সক্ষমতা বাড়ায়।

সুতরাং ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির সবচেয়ে কার্যকর প্রয়োগ হতে পারে একটি ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি। ভারতকে বাদ দিয়ে নয়, আবার ভারতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভর না করেও বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা করা সম্ভব।

কূটনীতিতে বন্ধুত্বের অর্থ সব বিষয়ে একমত হওয়া নয়। প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে পানি নিয়ে বিরোধ থাকতে পারে, সীমান্তে মতপার্থক্য থাকতে পারে, বাণিজ্যে অসন্তোষ থাকতে পারে। এসব বিষয় নিয়ে দর-কষাকষি চলবে। কিন্তু সেই দর-কষাকষিকে সামগ্রিক সম্পর্ক নষ্ট করার পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া কোনো পক্ষের জন্যই লাভজনক নয়।

বাংলাদেশের জন্য গঙ্গা, তিস্তা ও অন্যান্য অভিন্ন নদীর পানির প্রশ্ন দীর্ঘমেয়াদি। একইভাবে সীমান্তে প্রাণহানি বন্ধ করা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা উন্নত করা, চোরাচালান ও মানব পাচার ঠেকানো—এসব বিষয়েও ধারাবাহিক আলোচনা দরকার।

এখানে বাংলাদেশের কূটনীতির একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো, দাবি আদায়ের জন্য কতটা দৃঢ় হতে হবে এবং সম্পর্কের পরিবেশ কীভাবে বজায় রাখতে হবে। এই ভারসাম্য রক্ষা করতে হলে আবেগের বদলে তথ্য, প্রস্তুতি ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশল প্রয়োজন।

অর্থনীতিকে সামনে রাখতে হবে:

পররাষ্ট্রনীতির সাফল্য শুধু রাষ্ট্রীয় সফর বা যৌথ বিবৃতিতে মাপা উচিত নয়। এর প্রভাব কতটা মানুষের জীবন ও অর্থনীতিতে পড়ছে, সেটিই বড় প্রশ্ন।

ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়ানোর সুযোগ আছে। বাংলাদেশের পণ্য ভারতের বিশাল বাজারে আরও বেশি প্রবেশ করতে পারে। একই সঙ্গে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল, নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়ে বাংলাদেশ আঞ্চলিক বাণিজ্যের একটি কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।

এর জন্য অবকাঠামো, কাস্টমস ব্যবস্থাপনা, সীমান্ত হাট, রেল ও নৌযোগাযোগ, স্থলবন্দর এবং ডিজিটাল বাণিজ্যব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে হবে। শুধু রাজনৈতিক সদিচ্ছা দিয়ে আঞ্চলিক বাণিজ্য বাড়বে না; ব্যবসায়ীদের জন্য বাস্তব সুবিধা তৈরি করতে হবে।

জ্বালানি সহযোগিতাও আরেকটি ক্ষেত্র। বাংলাদেশ আমদানিনির্ভর জ্বালানি অর্থনীতির দেশ। প্রতিবেশী দেশ থেকে বিদ্যুৎ বা জ্বালানি পাওয়ার সুযোগ থাকলে তা বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে একটি উৎসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এড়াতে অন্যান্য দেশ ও উৎসও কাজে লাগাতে হবে।

তারেক রহমানের সামনে সুযোগ:

নতুন সরকারের সামনে তাই সম্পর্ক পুনর্গঠনের একটি সুযোগ রয়েছে। ভারতের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক যোগাযোগ পুনরায় সক্রিয় করা দরকার। প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের সফর হলে সেটিকে শুধু সৌজন্য সফর না বানিয়ে একটি সুসংগঠিত আলোচনার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।

পানির হিস্যা, সীমান্তে প্রাণহানি, বাণিজ্য বাধা, ভিসা, জ্বালানি, যোগাযোগ ও বাজারে প্রবেশ—প্রতিটি বিষয়ে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা দরকার। কোন বিষয়ে দ্রুত সমাধান সম্ভব, কোন বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা প্রয়োজন এবং কোথায় বিকল্প ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে—তার একটি বাস্তব পরিকল্পনা থাকা উচিত।

একই সঙ্গে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের অর্থ যেন দেশের অন্যান্য অংশীদারের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি না করে। বাংলাদেশের কূটনীতি হতে হবে বহুস্তরীয়। দিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক ভালো থাকবে, বেইজিংয়ের সঙ্গেও থাকবে, ওয়াশিংটন ও টোকিওর সঙ্গেও থাকবে, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গেও সহযোগিতা বাড়বে। একটি সম্পর্ককে অন্যটির বিকল্প হিসেবে না দেখে জাতীয় স্বার্থের পরিপূরক হিসেবে দেখতে হবে।

বাংলাদেশের সামনে এখন ভারতকে ভালোবাসা বা ভারতকে বিরোধিতা করার কোনো রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন নেই। প্রয়োজন নিজের স্বার্থকে পরিষ্কারভাবে চিহ্নিত করা।

বন্ধুত্বের দরজা খোলা রাখতে হবে, আবার দর-কষাকষির শক্তিও বাড়াতে হবে। যে বিষয়ে সহযোগিতা দরকার, সেখানে সহযোগিতা; যে বিষয়ে অধিকার আদায় প্রয়োজন, সেখানে দৃঢ়তা—এই নীতিই হতে পারে বাংলাদেশের জন্য কার্যকর পথ।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির মূল্যায়নও শেষ পর্যন্ত এখানেই হবে। তিনি কি রাজনৈতিক আবেগের বাইরে গিয়ে রাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থকে সামনে রাখতে পারবেন? তিনি কি ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করার পাশাপাশি পানি, সীমান্ত ও বাণিজ্যের মতো বিষয়ে বাংলাদেশের দাবি জোরালোভাবে তুলতে পারবেন? একই সঙ্গে কি চীন, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে পারবেন?

উত্তরটি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কূটনীতির অনেকটাই নির্ধারণ করবে।

কূটনীতিতে স্থায়ী বন্ধু বা স্থায়ী শত্রুর চেয়ে স্থায়ী স্বার্থের কথাই বেশি প্রাসঙ্গিক। বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্কেও তাই আবেগের জায়গা থাকবে, ইতিহাসের জায়গা থাকবে, মানুষের সম্পর্ক থাকবে; কিন্তু রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের শেষ মানদণ্ড হওয়া উচিত বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থ।

প্রতিবেশীর সঙ্গে সম্পর্ক ভালো রাখার অর্থ নিজের অধিকার ছেড়ে দেওয়া নয়। আবার নিজের অধিকার রক্ষার অর্থ প্রতিবেশীর সঙ্গে সব দরজা বন্ধ করে দেওয়া নয়। এই দুইয়ের মাঝখানে যে পরিণত, বাস্তববাদী ও আত্মমর্যাদাশীল কূটনীতির জায়গা—বাংলাদেশের এখন সেখানেই দাঁড়ানো দরকার।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/15651 ,   Print Date & Time: Saturday, 22 August 2026, 03:55:02 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh