
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সমঝোতার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করতে আগ্রহী হলেও সঠিক শর্তে সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য এখনো প্রস্তুত নয়।
শুক্রবার (২২ আগস্ট) সাউথ ক্যারোলাইনায় একটি নির্বাচনী প্রচারণায় যোগ দিতে এয়ারফোর্স ওয়ানে ওঠার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন।
ট্রাম্প বলেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তি করতে আগ্রহী। তবে তাঁর মতে, সঠিক শর্তে সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য তেহরান এখনো প্রস্তুত হয়নি।
অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা বাড়ানোর কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিকল্প সীমিত হয়ে পড়েছে—এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, যুদ্ধ শুরুর প্রায় ছয় মাস পর ইরানের বিপর্যস্ত অর্থনীতির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞাগুলোর কী ধরনের প্রভাব পড়ছে, তা ওয়াশিংটন পর্যবেক্ষণ করছে।
ইরানের সামরিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, দেশটির অর্থের সংকট রয়েছে এবং নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সক্ষমতাও দুর্বল হয়ে পড়েছে। এমনকি সেনা ও পুলিশ সদস্যদের বেতন দেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরানে মূল্যস্ফীতি ৩৫০ শতাংশে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি, এর সংলগ্ন আকাশসীমা এবং দক্ষিণ ইরানের আশপাশের ভূখণ্ড পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
তবে হরমুজ প্রণালিতে নৌ-চলাচলের পরিস্থিতি নিয়ে ভিন্ন চিত্র পাওয়া যাচ্ছে। নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার আশঙ্কার কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে পণ্য ও জ্বালানি পরিবহন স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ব্যাপকভাবে কমে গেছে।
যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য বিষয়ক সংস্থা ইউকেএমটিও শুক্রবার জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বর্তমানে নৌ-চলাচলের পরিমাণ যুদ্ধের আগের সময়ের তুলনায় প্রায় ৯০ শতাংশ কমে গেছে। ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথটিতে অস্থিরতা এখনো অব্যাহত রয়েছে।
হরমুজ প্রণালির এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল ও গ্যাস এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে এখানে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও তেলের দামের ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে।
এর আগে গত জুনে নৌ-চলাচল স্বাভাবিক করা এবং সামরিক তৎপরতা বন্ধের লক্ষ্যে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। দুই পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও শর্ত বাস্তবায়ন এবং হরমুজ প্রণালিতে ভবিষ্যৎ নৌ-চলাচলের অধিকার নিয়ে মতবিরোধ দেখা দেয়।
শেষ পর্যন্ত সেই সমঝোতা কার্যকর হয়নি। ফলে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে এবং হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা পরিস্থিতিও অনিশ্চিত হয়ে আছে।
ট্রাম্পের সর্বশেষ বক্তব্যে একদিকে ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতার দরজা পুরোপুরি বন্ধ না করার ইঙ্গিত মিলেছে, অন্যদিকে তেহরানকে আলোচনার জন্য আরও কঠোর শর্তের মুখোমুখি করার অবস্থানও স্পষ্ট হয়েছে। ফলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সমঝোতার সম্ভাবনা এবং হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি এখন আন্তর্জাতিক মহলের নজরে রয়েছে।