
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের এক মাস পরও সেই পরাজয়ের ক্ষত যেন ভুলতে পারেনি আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার পথে নিজেদের বিরুদ্ধে একটি সুসংগঠিত ‘আর্জেন্টিনাবিরোধী প্রচারণা’ ও নানা ধরনের চক্রান্ত হয়েছিল বলে অভিযোগ তুলেছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)।
সম্প্রতি নিজেদের অফিসিয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা এক আবেগঘন ভিডিওতে আর্জেন্টিনা দলের বিশ্বকাপযাত্রার বিভিন্ন মুহূর্ত তুলে ধরা হয়। ভিডিওতে দলের প্রতিকূলতা পেরিয়ে ফাইনালে ওঠার বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরে বলা হয়েছে, নানা বাধা ও সমালোচনা সত্ত্বেও আর্জেন্টিনা শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছিল।
ভিডিওতে বলা হয়, এমন একটি সময় এসেছিল যখন অনেকেই আর্জেন্টিনাকে আরেকটি বিশ্বকাপ ফাইনালে দেখতে চাননি। এরপরও লিওনেল স্কালোনির দল নিজেদের সামর্থ্য দিয়ে একের পর এক বাধা অতিক্রম করে ফাইনালে পৌঁছায়। সেমিফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ডকে হারানোর ঘটনাটিও ভিডিওতে বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
এএফএর ভিডিওবার্তায় আরও দাবি করা হয়, ‘অ্যান্টি-আর্জেন্টিনা ক্যাম্পেইন’ কিংবা বিভিন্ন ধরনের চক্রান্ত দলটির পথ আটকাতে পারেনি। বরং সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে তারা ফাইনালে পৌঁছে নিজেদের লড়াই চালিয়ে গেছে।
তবে ফাইনালের মঞ্চে গিয়ে হতাশ হতে হয় আর্জেন্টিনাকে। নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে স্পেনের বিপক্ষে ১-০ গোলে হেরে শিরোপা থেকে বঞ্চিত হয় ২০২২ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ১২০ মিনিটের খেলায় আর্জেন্টিনার কোনো শটই লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি।
ফাইনালে হারের পর আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসির আবেগঘন মুহূর্তও সমর্থকদের মনে গভীর ছাপ ফেলেছে। এএফএর প্রকাশিত ভিডিওতে মেসির কান্নার দৃশ্য তুলে ধরে পরাজয় থেকে শিক্ষা নেওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে।
ভিডিওর শেষাংশে বলা হয়, অধিনায়কের চোখের জল আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে—পরাজয় আসতেই পারে, কিন্তু কোনো পরিস্থিতিতেই চেষ্টা থামিয়ে দেওয়া উচিত নয়। এই বার্তার মধ্য দিয়ে আর্জেন্টিনা দলের বিশ্বকাপযাত্রাকে অদম্য মানসিকতার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
এদিকে বিশ্বকাপ ফাইনালের এক মাস পূর্তিতে এএফএ সভাপতি ক্লদিও তাপিয়াও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের বক্তব্য প্রকাশ করেছেন। ফাইনালের পর আর্জেন্টিনা দলকে ঘিরে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ষড়যন্ত্র তত্ত্বকে তিনি ‘নিকৃষ্ট প্রচারণা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
বিশ্বকাপের শিরোপা শেষ পর্যন্ত স্পেনের হাতে উঠলেও আর্জেন্টিনা নিজেদের পুরো যাত্রাকে সাফল্যের অংশ হিসেবে দেখছে। দীর্ঘ এক মাস পরও এএফএর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, ফাইনালের পরাজয়ের পাশাপাশি দলটির বিরুদ্ধে কথিত প্রচারণা ও চক্রান্তের অভিযোগ নিয়েও তাদের ক্ষোভ এখনো পুরোপুরি কাটেনি।