
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর তাকে কে শপথ পড়াবেন, তা নিয়ে তৈরি হওয়া দ্বিধার অবসান হয়েছে। এ বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত নিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। মন্ত্রণালয়ের মত অনুযায়ী, সংবিধান অনুসারে স্পিকারের দায়িত্ব পালনকারী ডেপুটি স্পিকারই নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়ানোর সাংবিধানিকভাবে যথাযথ কর্তৃপক্ষ।
আইন মন্ত্রণালয়ের মতামতে বলা হয়েছে, বর্তমান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে সংবিধানের ৭৪(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী স্পিকারের দায়িত্বগুলো ডেপুটি স্পিকার পালন করছেন।
এই পরিস্থিতিতে ডেপুটি স্পিকার যেহেতু স্পিকারের সব সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করছেন, তাই নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়ানোর ক্ষেত্রেও তার কোনো সাংবিধানিক বাধা নেই বলে মত দিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়।
শপথ পড়ানোর বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রপতির শপথ কে পড়াবেন, এ নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মধ্যে দ্বিধা তৈরি হয়েছিল। বিষয়টি স্পষ্ট করতে আইন মন্ত্রণালয়ের কাছে মতামত চাওয়া হয়।
মন্ত্রণালয়ের মতামতে সংবিধানের সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদগুলোর ব্যাখ্যা দিয়ে বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ডেপুটি স্পিকারই স্পিকারের দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে রাষ্ট্রপতির শপথ পড়ানোর মতো সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও তিনি ক্ষমতাপ্রাপ্ত।
অর্থাৎ, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পর শপথ অনুষ্ঠানে নতুন রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়াতে সাংবিধানিকভাবে কোনো জটিলতা থাকার কথা নয়।
কেন স্পিকারের দায়িত্ব পালন করছেন ডেপুটি স্পিকার?
সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে বা রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করায় স্পিকারের নিয়মিত দায়িত্ব পালনের বিষয়টি সামনে এসেছে।
সংবিধানের ৭৪(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, স্পিকার যখন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন, তখন ডেপুটি স্পিকার স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেন। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে ডেপুটি স্পিকারই সংসদে স্পিকারের দায়িত্ব পালন করছেন।
আইন মন্ত্রণালয় মনে করছে, এই সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যেই নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শপথ পড়ানোর দায়িত্বও ডেপুটি স্পিকার পালন করতে পারবেন।
২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন
দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য আগামী ২০ আগস্ট ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন।
এর আগে গত ২৪ জুলাই দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সেই সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
নির্বাচনের পর নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আইন মন্ত্রণালয়ের মতামতের ফলে শপথ পড়ানোর কর্তৃপক্ষ নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা এখন অনেকটাই পরিষ্কার হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে নতুন অধ্যায়
দীর্ঘ সময় পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে ইতোমধ্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে। নির্বাচনের পর নতুন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ এবং শপথ অনুষ্ঠানও রাজনৈতিক ও সাংবিধানিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত অনুযায়ী, বর্তমান সাংবিধানিক পরিস্থিতিতে ডেপুটি স্পিকারই নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়াবেন। ফলে নির্বাচন শেষে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের প্রক্রিয়ায় আর কোনো সাংবিধানিক জটিলতা থাকার কথা নয়।