
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
ব্রাইটনের ক্যামেরুনিয়ান মিডফিল্ডার কার্লোস বালেবাকে দলে ভেড়ানোর দৌড়ে আবারও এগিয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। ২২ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডারের সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে ব্রাইটনের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে ইংলিশ ক্লাবটি। ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বালেবাকে পেতে ইউনাইটেডের প্রথম প্রস্তাবের পরিমাণ প্রায় ৬০ মিলিয়ন পাউন্ড। তবে ব্রাইটন এর চেয়ে বেশি অর্থ চাচ্ছে। দুই ক্লাবের মধ্যে আলোচনা চলমান থাকায় শেষ পর্যন্ত কত অর্থে চুক্তি সম্পন্ন হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
এর আগে গত গ্রীষ্মের দলবদলের শেষ মুহূর্তেও বালেবাকে দলে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। তখন ব্রাইটন ১০০ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি অর্থ দাবি করায় সেই আলোচনা আর এগোয়নি। এবার অবশ্য বালেবার সম্ভাব্য মূল্য আগের তুলনায় অনেকটাই কমেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইউনাইটেডের মিডফিল্ড শক্তিশালী করার প্রয়োজন থেকেই বালেবাকে নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। চলতি গ্রীষ্মে পর্তুগিজ মিডফিল্ডার মাথিউস ফার্নান্দেজকে দলে নেওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর ক্যামেরুনের এই তারকার দিকে আবারও নজর দিয়েছে ইংলিশ ক্লাবটি।
ইতোমধ্যে ইউনাইটেড মিডফিল্ডে চেলসি থেকে ব্রাজিলিয়ান খেলোয়াড় আন্দ্রে সান্তোসকে ৪৮ মিলিয়ন পাউন্ডে এবং অ্যাস্টন ভিলা থেকে বেলজিয়ান তারকা ইউরি টিলেম্যান্সকে ৩৫ মিলিয়ন পাউন্ডে দলে ভিড়িয়েছে। তবে বক্স-টু-বক্স ভূমিকায় আরও একজন কার্যকর মিডফিল্ডার প্রয়োজন বলে মনে করছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ।
প্রাক-মৌসুমের প্রথম তিন ম্যাচে আন্দ্রে সান্তোসের সঙ্গে মেসন মাউন্টের পারফরম্যান্সও নজর কেড়েছিল। তবে গত ৮ আগস্ট গোথেনবার্গে প্যারিস সেন্ট জার্মেইর বিপক্ষে ম্যাচে পাওয়া পায়ের চোটের কারণে মাউন্ট এখনো মাঠের বাইরে রয়েছেন।
অন্যদিকে বালেবাও বর্তমানে চোটের কারণে মাঠের বাইরে। অস্ট্রিয়ায় ব্রাইটনের প্রাক-মৌসুম অনুশীলন ক্যাম্পে পায়ে চোট পাওয়ার পর তাকে আরও দুই থেকে তিন সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকতে হতে পারে।
গত মৌসুমে ব্রাইটনের হয়ে ৩৫টি ম্যাচ খেলেছেন বালেবা। ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসেবে দলের মাঝমাঠে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। ওই মৌসুমে সাতটি হলুদ কার্ডও দেখেছেন ক্যামেরুনের এই ফুটবলার।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বালেবার সামর্থ্য সম্পর্কে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কর্মকর্তারা ভালোভাবেই অবগত। কারণ, প্রায় এক বছর আগে থেকেই তাকে দলে নেওয়ার চেষ্টা করে আসছে ক্লাবটি। ইউনাইটেড মনে করছে, বর্তমান মিডফিল্ডে বালেবার মতো শারীরিকভাবে শক্তিশালী ও বক্স-টু-বক্স ভূমিকা পালন করতে সক্ষম খেলোয়াড়ের ঘাটতি রয়েছে।
বালেবার নিজেরও ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে যাওয়ার আগ্রহ রয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে দুই ক্লাবের আলোচনায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে বালেবার মূল্য কমে যাওয়ার পেছনে তার সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সও একটি কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। ২০২৪-২৫ মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে ৩১ ম্যাচে মূল একাদশে ছিলেন তিনি এবং আরও তিন ম্যাচে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন। পরের মৌসুমে তার মূল একাদশে খেলার সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ২৩-এ, আর বদলি হিসেবে খেলেন আট ম্যাচ।
ব্রাইটন ইউরোপীয় ফুটবলে জায়গা করে নেওয়ার সময় বালেবার পারফরম্যান্স ও দলে তার গুরুত্ব আগের তুলনায় কমে যাওয়াও দলবদলের আলোচনায় প্রভাব ফেলছে। যদিও ক্লাবটির ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো মনে করে, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের আগ্রহ বালেবার গত মৌসুমের পারফরম্যান্সে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলেনি।
ট্রান্সফার উইন্ডোর সময়সীমা যত এগিয়ে আসছে, ততই বালেবাকে নিয়ে ইউনাইটেডের তৎপরতা বাড়ছে। দুই ক্লাবের মধ্যে অর্থ নিয়ে পার্থক্য থাকলেও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। শেষ পর্যন্ত ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড বালেবাকে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে নিয়ে আসতে পারে কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।