
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা শুরু হয়েছে। বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে রাজধানীর শের-ই-বাংলা নগরের পরিকল্পনা কমিশনে একনেকের এ সভা শুরু হয়। সভায় দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতের উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নিতে ১১টি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়েছে।
উত্থাপিত ১১টি প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ১০ হাজার ৪৬ কোটি ৮৯ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। এসব প্রকল্পের মধ্যে নতুন প্রকল্পের পাশাপাশি কয়েকটি চলমান প্রকল্পের সংশোধনী প্রস্তাবও রয়েছে। সভায় প্রকল্পগুলোর প্রয়োজনীয়তা, অর্থায়ন, বাস্তবায়ন পরিকল্পনা ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করে অনুমোদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সরকারি অর্থায়নে বড় অংশ
একনেক সভায় উপস্থাপিত প্রকল্পগুলোর মোট ব্যয়ের বড় অংশই সরকারি অর্থায়ন থেকে জোগান দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্পগুলোর জন্য সরকারি অর্থায়ন ধরা হয়েছে ৮ হাজার ৭৭৭ কোটি ৩০ লাখ টাকা।
এ ছাড়া প্রকল্প ঋণ বা অনুদান থেকে ১ হাজার ৩৬১ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব রয়েছে। অর্থাৎ সরকারের নিজস্ব অর্থের পাশাপাশি বৈদেশিক ঋণ ও অনুদানও কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যবহার করা হবে।
প্রকল্পগুলোর অর্থায়ন কাঠামো বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বাস্তবায়ন ব্যয়, অর্থের উৎস এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প শেষ করার সক্ষমতা বিবেচনা করবে।
স্বাস্থ্য থেকে বিদ্যুৎ—বিভিন্ন খাতের প্রকল্প
একনেকের এবারের সভায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রকল্প উপস্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্য, নৌপরিবহন, সড়ক যোগাযোগ, পানি সম্পদ, স্থানীয় সরকার, প্রাণিসম্পদ ও বিদ্যুৎ খাত।
স্বাস্থ্য খাতের প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে চিকিৎসাসেবা ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। একইভাবে সড়ক ও নৌপরিবহন খাতের প্রকল্পগুলো দেশের যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নের সঙ্গে সম্পর্কিত।
পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, স্থানীয় সরকার এবং প্রাণিসম্পদ খাতের প্রকল্পগুলোও দেশের অবকাঠামো ও জনসেবার সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিদ্যুৎ খাতের প্রকল্পগুলো বিদ্যুৎ সরবরাহ ও অবকাঠামোগত সক্ষমতা বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত।
নতুন প্রকল্পের পাশাপাশি সংশোধনী প্রস্তাব
একনেকের সভায় শুধু নতুন প্রকল্পই নয়, কয়েকটি চলমান প্রকল্পের সংশোধনী প্রস্তাবও উপস্থাপন করা হয়েছে। কোনো প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় নির্ধারিত ব্যয়, মেয়াদ বা কাজের পরিধিতে পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে সংশোধনী প্রস্তাব আনা হয়।
এসব প্রস্তাব পর্যালোচনার সময় প্রকল্পের অগ্রগতি, ব্যয় বৃদ্ধি বা কমার কারণ, বাস্তবায়নের সময়সীমা এবং কাজের পরিধি বিবেচনা করা হবে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একনেক প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে।
উন্নয়ন পরিকল্পনায় একনেকের ভূমিকা
দেশের বড় উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে একনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থার প্রস্তাবিত প্রকল্প যাচাই-বাছাইয়ের পর একনেকের সভায় তা অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়।
প্রকল্পের সম্ভাব্যতা, ব্যয়ের যৌক্তিকতা, অর্থায়নের উৎস এবং দেশের অর্থনীতি ও জনসাধারণের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনা করে প্রকল্প অনুমোদনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অনুমোদনের পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থা প্রকল্প বাস্তবায়নের কার্যক্রম শুরু করে।
এবারের সভায় ১১টি প্রকল্পের জন্য ১০ হাজার ৪৬ কোটি ৮৯ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব দেশের বিভিন্ন খাতে সরকারি উন্নয়ন কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখার একটি বড় উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বাস্তবায়নে গুরুত্ব পাবে অর্থের সঠিক ব্যবহার
বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দের পাশাপাশি প্রকল্পগুলোর নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়ন এবং অর্থের কার্যকর ব্যবহারও গুরুত্বপূর্ণ। উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় বাড়ানো বা সময়সীমা দীর্ঘায়িত হলে সরকারের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে।
তাই অনুমোদনের পর প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা এবং সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
একনেকের এবারের সভায় উপস্থাপিত ১১টি প্রকল্পের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও পর্যালোচনার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এসব প্রকল্প অনুমোদিত হলে স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, পানি সম্পদ, স্থানীয় সরকার, প্রাণিসম্পদ, নৌপরিবহন ও বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন খাতে উন্নয়ন কার্যক্রম আরও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।