• হোম > বিদেশ > ইরানের সঙ্গে সব বাণিজ্য-লেনদেন বন্ধ করল আমিরাত

ইরানের সঙ্গে সব বাণিজ্য-লেনদেন বন্ধ করল আমিরাত

  • বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬, ১১:৪৫
  • ৫৮

---

 

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) ওপর দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের অভিযোগে ইরানের সঙ্গে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সব ধরনের বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেন স্থগিত করেছে আবুধাবি। তবে তেহরান এই হামলার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে এটিকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করেছে।

বুধবার ভোরে আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলা উত্তেজনাকর পরিস্থিতির কারণে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক বিনিময় ও আর্থিক লেনদেন বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরান থেকে উৎক্ষেপণ করা দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে। একটি ক্ষেপণাস্ত্র দেশের জলসীমার বাইরে এবং অন্যটি জলসীমার ভেতরে পতিত হয়। পরে মন্ত্রণালয় জানায়, ক্ষেপণাস্ত্র দুটি বাণিজ্যিক নৌযানকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল।

তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি আমিরাতের দাবি ‘ভিত্তিহীন’ বলে উল্লেখ করে এটিকে ‘ফলস ফ্ল্যাগ অপারেশন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। একই সঙ্গে তিনি আঞ্চলিক দেশগুলোকে তেহরানের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগে কান না দেওয়ার আহ্বান জানান।

ইরানের এই বক্তব্যের পর দুই দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ৬০ দিনের দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মেয়াদ কোনো সমাধান ছাড়াই শেষ হওয়ার পরদিনই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ সামনে এলো।

এর আগে চলমান সংঘাতের প্রথম ছয় সপ্তাহে উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে সবচেয়ে বেশি লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ উঠেছিল ইরানের বিরুদ্ধে। সে সময় আমিরাতে থাকা মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্য করে শত শত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপের দাবি করা হয়। মে মাসের পর আমিরাতকে লক্ষ্য করে এটিই প্রথম ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ।

এর কয়েক দিন আগে আবুধাবি অভিযোগ করেছিল, হরমুজ প্রণালিতে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানির (এডনক) দুটি জাহাজে ইরান হামলা চালিয়েছে। তবে ওই অভিযোগের দায়ও স্বীকার করেনি তেহরান।

ইরানের সঙ্গে আমিরাতের বাণিজ্যিক সম্পর্কের গুরুত্বও বেশ বড়। যুদ্ধ শুরুর পর মার্চে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি কার্গো জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে জুনের শেষ দিকে দুবাইয়ের জেবেল আলী বন্দরের মাধ্যমে আবারও তা চালু হয়।

অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন জেনারেল ও সাবেক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক কিমিটের মতে, আমিরাতের এই বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা ইরানের ওপর বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে। তার দাবি, দুবাই ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদার এবং ইরানের বার্ষিক আমদানির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ দুবাইয়ের মাধ্যমে আসে।

দুবাই ইরানের জন্য শুধু পণ্য পরিবহনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র নয়, আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে আমিরাতের নিষেধাজ্ঞা দীর্ঘস্থায়ী হলে ইরানের আমদানি-বাণিজ্য ও আর্থিক কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

তবে অন্যান্য উপসাগরীয় দেশ এখনই আমিরাতের পথ অনুসরণ করবে কি না, তা স্পষ্ট নয়। একই সঙ্গে আমিরাতের এই সিদ্ধান্ত তেহরান কীভাবে নেয়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ বাণিজ্য ও আর্থিক সম্পর্ক স্থগিতের মতো কঠোর পদক্ষেপ দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/15510 ,   Print Date & Time: Wednesday, 7 October 2026, 12:31:42 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh